প্রবীণ সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবীর আর নেই

আজ জামালপুরে তার বাড়িতে দাফন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

প্রবীণ সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবীর আর নেই। ফাইল ছবি
প্রবীণ সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবীর আর নেই। ফাইল ছবি

সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ের আন্দোলনের অন্যতম নেতা, রাজনৈতিক বিশ্লেষক, প্রবীণ সাংবাদিক আমানউল্লাহ কবীর আর নেই।

মঙ্গলবার রাত পৌনে ১টার দিকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয় (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭২ বছর।

বেশ কিছুদিন ধরে তিনি ডায়াবেটিস ও লিভারের নানা জটিলতায় ভুগছিলেন। বছরতিনেক আগে বড় ধরনের হার্ট অ্যাটাক হওয়ার পর থেকেই তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল।

মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের জ্যেষ্ঠ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

ভোর সাড়ে ৬টায় কল্যাণপুরের দারুস সালাম ফুরফুরা শরীফ মসজিদে প্রথম জানাজা শেষে মরহুমের মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে নেয়া হলে শোকের ছায়া নেমে আসে।

সেখানে দ্বিতীয় জানাজার পর জাতীয় প্রেস ক্লাবসহ সাংবাদিকদের বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে তার মরদেহে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এরপর তার মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় জামালপুরে মেলান্দহের গ্রামের বাড়ি হাজরাবাড়িতে।

আজ সকাল ১০টায় মেলান্দহে রেখিরপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আরেক দফা জানাজার পর পারিবারিক কবরস্থানে বাবা-মায়ের পাশে তাকে দাফন করা হবে।

প্রায় পাঁচ দশকের পেশা জীবনে সাংবাদিকদের রুটি-রুজির আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা এই নেতা এরশাদের সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে পেশাজীবীদের সংগঠিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

মেয়ে শোভন কবীর জানান, অসুস্থতার কারণে দুই সপ্তাহ আগে শ্যামলীর ঢাকা সেন্ট্রাল ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে আমানউল্লাহ কবীরকে ভর্তি করা হয়েছিল। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় সেখান থেকে তাকে নেয়া হয়েছিল ধানমণ্ডির ইবনে সিনা হাসপাতালে। পরে তাকে বিএসএমএমইউতে নেয়া হয়।

আমানউল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজ ছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন গভীর শোক প্রকাশ করেছে। জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রধান সমন্বয়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন, বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন। শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ ন্যাপ।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টায় মরহুমের মরদেহ জাতীয় প্রেস ক্লাবে আনা হয়। এখানে তার দ্বিতীয় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সাংবাদিকদের মধ্যে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, এম আমানুল্লাহ, রিয়াজউদ্দিন আহমেদ, খন্দকার মনিরুল আলম, আবুল কালাম আজাদ, মোল্লা জালাল, সৈয়দ আখতার ইউসুফ, নুরুল হুদা, মাহফুজউল্লাহ, জাহিদুজ্জামান ফারুক, নুরুদ্দিন আহমেদ, গাজীউল হাসান খান, এলাহী নেওয়াজ খান সাজু, এমএ আজিজ, মনজুরুল আহসান বুলবুল, আবদুল জলিল ভুঁইয়া, আবদুল হাই শিকদার, আজিজুল ইসলাম ভুঁইয়া, সৈয়দ মেজবাহ উদ্দিন, আবদুস শহিদ, কামালউদ্দিন সবুজ, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, জুবায়ের আহমেদ, সরদার ফরিদ আহমেদ, শাহেদ চৌধুরী, মাঈনুল আলম, কুদ্দুস আফ্রাদ, জাহেদ চৌধুরীসহ শতাধিক সাংবাদিক অংশ নেন। এছাড়াও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আহমেদ আজম খান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুল হালিম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবির, সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত মেজর আখতারুজ্জামান, গণস্বাস্থ্য সংস্থার জাফরুল্লাহ চৌধুরী জানাজায় অংশ নেন।

আমানউল্লাহ কবীরের বড় ছেলে শাতিল কবীর জানাজার আগে তার বাবার জন্য সবার দোয়া চান।

জানাজার আগে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমীন, সাবেক সভাপতি রিয়াজ উদ্দিন আহমেদ, ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, সাবেক সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুল, অপর অংশের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী মরহুমের স্মৃতিচারণ করে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন প্রেস ক্লাবের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক শাহেদ চৌধুরী।

এ সময় সাইফুল আলম বলেন, তার মৃত্যুতে আমরা দুঃখ ভারাক্রান্ত। সাংবাদিকতায় তিনি একটি দর্শন লালন করলেও দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেছেন। সামষ্টিক চিন্তাকে ব্যক্তি চিন্তার বাইরে রেখেছেন। তার মৃত্যুতে সাংবাদিক সমাজের অপূরণীয় ক্ষতি হয়ে গেল।

বক্তব্যের পর প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ সংগঠনের নেতারা, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বিএফইউজে ও ডিইউজের দুই অংশ, ফটোজার্নালিস্ট ইউনিয়ন, জামালপুর সমিতি, বৃহত্তর ময়মনসিংহ সাংস্কৃতিক ফোরাম ও বিএনপির পক্ষ থেকে প্রয়াত সাংবাদিকের কফিনে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়।

আমানউল্লাহ কবীর ১৯৪৭ সালের ২৪ জানুয়ারি জামালপুরে জন্মগ্রহণ করেন। দীর্ঘ ক্যারিয়ারে বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষার সংবাদপত্রেই তিনি কাজ করেছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৮ সালে মাস্টার্স করা আমানউল্লাহ কবীর একসময় ছিলেন ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশনের বার্তা কক্ষের প্রধান। আশির দশকে এসএম আলীর সম্পাদনায় ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টার প্রকাশিত হলে তার প্রথম বার্তা সম্পাদক ছিলেন আমানউল্লাহ কবীর।

১৯৯১ সালের শেষ দিকে নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে ইংরেজি দৈনিক টেলিগ্রাফে যোগ দেন তিনি। দৈনিক ইনডিপেনডেন্টের প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী সম্পাদকের দায়িত্বও পালন করেন আমানউল্লাহ কবীর।

পরে বিএনপি সরকারের সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদ মাধ্যম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা সম্পাদক ও প্রধান সম্পাদকের দায়িত্ব পান তিনি। তার সম্পাদনায় ২০০৪ সালে প্রকাশিত হয় বাংলা দৈনিক আমার দেশ।

১৯৮০ ও ৯০-এর দশকে সাংবাদিকদের সংগঠনগুলোর নেতৃত্বের পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন আমানউল্লাহ কবীর। সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো তখনও দলীয় মেরুকরণে বিভক্ত হয়নি। অবিভক্ত ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নে দুই মেয়াদে মহাসচিব এবং পরে সভাপতি ছিলেন তিনি।

ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

তিনি বেশ কয়েকটি বইয়ের রচয়িতা। এর মধ্যে রয়েছে ‘দা স্ট্রাগলিং ডেমোক্রেসি অব বাংলাদেশ’, ‘নদী ও অন্ধকারের রূপ’, ‘মুখোশবাড়ি’, ‘নিস্তব্ধতার মাতম’, এবং ‘জেলায় জেলায় ভাষা আন্দোলন ও অন্যান্য তথ্য’। টেলিভিশনে আলোচনা অনুষ্ঠানগুলোতে তিনি ছিলেন নিয়মিত মুখ।

জাতীয় প্রেস ক্লাব ও বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের শোক : আমানউল্লাহ কবীরের মৃত্যুতে গভীর শোক ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেছেন জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম ও সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন।

এক বিবৃতিতে তারা বলেন, আমানউল্লাহ কবীর সাংবাদিকদের অধিকার আদায়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে গেছেন।

এছাড়া শোক প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মোল্লা জালাল, মহাসচিব শাবান মাহমুদ; ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবু জাফর সূর্য ও সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরী। শোক প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন- বিএফইউজের সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, মহাসচিব এম আবদুল্লাহ এবং ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (একাংশ) সভাপতি কাদের গনি চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম।

এছাড়া ঢাকাস্থ জামালপুর সমিতি ও জামালপুর সাংবাদিক ফোরাম শোক প্রকাশ করেছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×