ফখরুলের লজ্জা থাকলে পদত্যাগ করা উচিত : ওবায়দুল কাদের

টিআইবি অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছে

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

আন্দোলন ও নির্বাচনে ব্যর্থতার দায়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পদত্যাগ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ১০ বছরে যে মহাসচিব ১০ মিনিটের আন্দোলন করাতে পারেনি, তিনশত আসনের মধ্যে ১০টিরও কম আসন পেয়েছে দল, লজ্জা-শরম থাকলে আগেই পদত্যাগ করা উচিত ছিল।

বুধবার দুপুরে বঙ্গবন্ধু এভিনউয়ে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের বর্ধিত সভায় বক্তব্য রাখছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

তিনি বলেন, আন্দোলনে তার ব্যর্থতা ক্ষমাহীন, যার ফলে নির্বাচনে তার দলের শোচনীয় পরাজয় ঘটেছে। নির্বাচনে কারচুপির জন্য মির্জা ফখরুল আমাকে ‘স্টেডিয়ামে গিয়ে’ মাফ চাইতে বললেন- উল্লেখ করে কাদের বলেন, মির্জা ফখরুল বেপরোয়া চালক, কখন যে কোন দুর্ঘটনা ঘটান, সবাইকে সাবধান থাকতে হবে। তিনি আমাকে কেন ক্ষমা চাইতে বললেন?

মির্জা ফখরুলকে প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, শেখ হাসিনার নেতৃত্বে স্বতঃস্ফূর্ত গণজাগরণ ভালো লাগছে না? ভালো তো লাগবেই না। এই অভূতপূর্ব ফলাফল, এই গণজাগরণ, ’৭৫-পরবর্তী বাংলাদেশে কেউ আর কখনও দেখেনি। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এই বিজয়কে যারা প্রত্যাখ্যান করে, তাদের জাতির সামনে ক্ষমা চাওয়া উচিত। লজ্জা-শরম নেই তো, পদত্যাগও করবেন না। কারচুপি হলে সেখানে আপনি কেমন করে জিতলেন, জবাব দিন।

নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে সেতুমন্ত্রী বলেন, টিআইবিকে বলব, গল্প সাজাচ্ছেন? অলীক, অবিশ্বাস্য রূপকথার কাহিনী সাজাচ্ছেন?

তিনি বলেন, ভোটে স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স ব্যবহার করা হয়েছে। আপনাদের অথবা প্রতিপক্ষের প্রতিনিধি ভোট গ্রহণ শুরুর সময় কোনো একটি কেন্দ্রে কি চ্যালেঞ্জ করেছে? কোনো এজেন্ট প্রতিবাদ করেছে? টিআইবির কোনো প্রতিনিধি কি কেন্দ্রে প্রতিবাদ করেছে? স্বচ্ছতার বিরুদ্ধে কথা বলেছে? তখন না বললে, এতদিন পরে কেন? তিনি বলেন, তখন বলার মতো কারণও খুঁজে পাননি, কেন এ অবিশ্বাস্য কাহিনী সাজাচ্ছেন, আমরা তা জানি। এর জবাব দেশের জনগণই দেবে।

১৯ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে আওয়ামী লীগের মহাসমাবেশ সফল করতে এ বর্ধিত সভার আয়োজন করা হয়।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী সম্রাটের সভাপতিত্বে ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রেজাউল করিম রেজার পরিচালনায় আরও বক্তব্য দেন যুবলীগের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশিদ প্রমুখ।

মহাসমাবেশ প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ক্ষমতাসীন দলের নেতাকর্মীরা ব্যানার, ফেস্টুন নিয়ে জনসভায় মিছিল নিয়ে আসে, আবার ট্রাকে করে চলেও যায়। যারা এই যাওয়া-আসার মধ্যে থাকেন, তাদের বলব, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ যুবলীগকে ফলো করুন। নেত্রীর জনসভা শেষ না হওয়া পর্যন্ত মাঠে থাকুন। যারা শেখ হাসিনার কথা শেষ না হতেই চলে যায়, তারা কোনোভাবেই সাচ্চা কর্মী নয়।

সভায় মোহাম্মদ ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, দলের নেতাকর্মীদের জানতে হবে শেখ হাসিনা এখন দলের ঊর্ধ্বে চলে গেছেন। তিনি এখন জনগণের নেতা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এখন আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে গেলে শেখ হাসিনার চিন্তা, দর্শন উপলদ্ধি করতে হবে। তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে চান।

সভাপতির বক্তব্যে ইসমাইল চৌধুরী বলেন, নির্বাচনে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া বিজয় উৎসবের অংশ হিসেবে এই মহাসমাবেশের আয়োজন করা হয়েছে। এতে রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনাকে জানান দিতে চাই দক্ষিণ যুবলীগ সত্যিকারের শক্তিশালী ও সুশৃঙ্খল সংগঠন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×