শর্ত মেনেই থাকবে অ্যাকর্ড!

মেয়াদ বাড়াতে মন্ত্রণালয়ে স্টিয়ারিং কমিটির ধরনা

  শাহ আলম খান ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ইউরোপের ক্রেতা জোট-অ্যাকর্ড।

বাংলাদেশ থেকে কার্যক্রম গুটিয়ে নিতে শেষ দফায় এক মাস বাড়তি সময় পায় ইউরোপের ক্রেতা জোট-অ্যাকর্ড। ট্রানজিশন মনিটরিং কমিটির (টিএমও) তত্ত্বাবধানে বাড়তি সময়ে তাদের কাজ করতে দেয়া হয়।

তবে বর্ধিত মেয়াদ ফুরোনোর আগেই অ্যাকর্ড আরও লম্বা সময়ে বাংলাদেশে থেকে যাওয়ার ব্যাপারে উদগ্রীব। এ লক্ষ্যে অ্যাকর্ড স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা সরকারের মনোভাব জানতে মন্ত্রণালয়ে ধরনা দিচ্ছে।

বুধবার সচিবালয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশির সঙ্গে পাঁচ সদস্যের অ্যাকর্ড স্টিয়ারিং কমিটি বৈঠক করে। বৈঠকে মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তারাও ছিলেন।

বৈঠকে নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত হয়েছে কি না তা জানা যায়নি। তবে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এর আগে অ্যাকর্ড বাংলাদেশে স্বতন্ত্রভাবে কার্যক্রম পরিচালনার অনড় অবস্থান দেখালেও সংগঠনটি সেখান থেকে সরে এসেছে। সরকারের যেকোনো শর্তে বাড়তি সময়ে তারা কাজ করতে রাজি।

এ নিয়ে কথা হয় বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি মো. আতিকুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, উদ্যোক্তারা অ্যাকর্ডের থাকার পক্ষপাতী নয়। তারপরও বলব- সরকার চাইলে শর্ত দিয়ে তাদের রাখতে পারে।

গত ৯ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে অ্যাকর্ডকে ৩০ নভেম্বরের মধ্যে কার্যক্রম গুটিয়ে নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। এই সময়ের মধ্যে অ্যাকর্ডকে সরকার গঠিত ট্রানজিশন মনিটরিং কমিটির (টিএমও) তত্ত্বাবধানে কাজ করতে বলা হয়।

অনেকটা নিরুপায় হয়েই অ্যাকর্ড আদালতে রিভিউ করে। আবেদনটি এখন সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণ ও বিচারাধীন। পরবর্তী শুনানি আগামী ২১ জানুয়ারি। তবে এই সময়ে অ্যাকর্ড তাদের কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারবে।

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে ৭ সদস্যের আপিল বেঞ্চের শুনানিতে অ্যাকর্ড এবং সরকারকে এ বিষয়ে সমঝোতায় আসার নির্দেশ দিয়েছেন।

বিভিন্ন পর্যায়ে কথা বলে জানা গেছে, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিজিএমইএর মতামতের ভিত্তিতেই সরকার যা কিছু করার করতে আগ্রহী। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পরবর্তী শুনানিতে আদালত সরকার ও বিজিএমইএর যৌথ প্রতিবেদন মূল্যায়ন করে আদেশ দিতে পারেন।

অ্যাকর্ড বাংলাদেশে বাড়তি সময় থাকার সুযোগ পাবে কিনা তা মূলত আদালতের আদেশের ওপরই নির্ভর করছে। তবে সরকার ৮ শর্তে অ্যাকর্ডের সময় বাড়াতে সম্মত বলে আভাস মিলেছে।

অ্যাকর্ড এতে রাজি বলেও জানা গেছে। অন্যতম শর্ত হচ্ছে টিএমওর তত্ত্বাবধানে কাজ করা, শ্রম আইন মেনে চলা, অন্য ক্রেতাজোট মার্কিন অ্যালায়েন্সের সঙ্গে অভিন্ন নীতিতে কাজ করা।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায় অ্যাকর্ড স্টিয়ারিং কমিটির সদস্যরা আগামীতে একটা সন্তোষজনক সময় থেকে যাওয়ার ব্যাপারে আগ্রহের কথা বলেছেন।

সময়টি ৩ বছরের কম নয়। বাড়তি সময় চাওয়ার যুক্তি হিসাবে স্টিয়ারিং কমিটির প্রতিনিধিরা বলেছেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক খাতের সংস্কার কাজ দেখভালের জন্য তাদের আরও সময় প্রয়োজন।

অনুমোদিত ৫ বছর মেয়াদকালে তাদের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, ক্ষেত্রভেদে তার ১৩ শতাংশও অর্জিত হয়নি। আবার শর্তপূরণে সক্ষম কারখানাগুলোকে রেমিডিয়েশন কো-অর্ডিনেশন সেলের (আরসিসি) মাধ্যমে তদারকির কথা বলা হলেও আরসিসি এখনও অ্যাকর্ডের মতো স্বয়ংসম্পূর্ণ হতে পারিনি।

ফলে সুষ্ঠু তদারকি না থাকলে অ্যাকর্ডের তদারকির ফলে বাংলাদেশের পোশাক খাত যে সাফল্য অর্জন করেছে- তা ধরে রাখা সম্ভব হবে না। তাই অ্যাকর্ডের সময় বৃদ্ধির দাবি দেশের স্বার্থেই সরকারের উচিত বিবেচনায় নেয়া।

অন্যদিকে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরাও বৈঠকে সরকার ও পোশাক খাতের উদ্যোক্তাদের মনোভাবের কথা তুলে ধরেন। সূত্রমতে, আলোচনায় সরকারের অবস্থান দু’ভাবে স্পষ্ট করা হয়েছে। প্রথমত বাংলাদেশ ছাড়া বিশ্বের অন্য কোনো দেশে অ্যাকর্ডের অস্তিত্ব নেই।

তাছাড়া বিগত সময়ে দায়িত্ব পালনকালে নানা সময়ে অ্যাকর্ডের বিরুদ্ধে উদ্যোক্তারা স্বেচ্ছাচারিতা ও বাড়তি ব্যয় করানোর অভিযোগ এনেছেন। বিষয়টি আদালতেও গড়িয়েছে। এ অবস্থায় দেশের উদ্যোক্তারা সক্ষমতা অর্জনের দ্বারপ্রান্তে থাকায় এবং দফায় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে নতুন করে আর মেয়াদ বাড়ানোর পক্ষপাতী নয় সরকার।

দ্বিতীয়ত, সরকারও চায় সংস্কার। সেখানে অ্যাকর্ডের থাকা-না থাকার বিষয়টি গৌণ। কারণ উন্নয়ন চলমান প্রক্রিয়া। কারও জন্য উন্নয়ন থেমে থাকবে না। তারপরও অ্যাকর্ড থাকতে চাইলে থাকতে পারে।

তবে সেটি অ্যাকর্ডের বর্তমান ফরমেটে নয়। নতুনরূপে এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আইন মেনে চলার শর্তে অ্যাকর্ড সরকার গঠিত আরসিসির সদস্য হিসেবে থাকতে পারে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×