সরকারকে পরাজিত করতে প্রয়োজন বৃহত্তর ঐক্য

মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৭ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। বর্তমান ভোটবিহীন সরকারকে পরাজিত করতে এখন আরও বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন। কেউ যদি মনে করে এককভাবে সংগ্রামের মাধ্যমে বিজয় লাভ করবেন তাহলে তিনি সঠিক বিষয়টি উপলব্ধি করতে পারছেন না। এটাই বাস্তবতা।

তিনি বলেন, হতাশ হবেন না। আমি জানি আমাদের অনেকের বয়স হয়ে গেছে। সত্তর ঊর্ধ্ব বয়স অনেকের। আর বোধ হয় কিছুই হবে না। অবশ্যই হবে। হতাশাই তো শেষ কথা হতে পারে না। রাজনৈতিক দল হিসেবে আমাদের যে দায়িত্ব রয়েছে তা হল কোনোমতে যেন হতাশার জন্ম না হয় তার জন্য সজাগ থাকা। প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব এখন জাতীয় ঐক্যকে আরও সুসংগঠিত করা।

বুধবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক স্মরণ সভায় বিএনপি মহাসচিব এসব কথা বলেন। ২০ দলীয় জোটের শরিক দল জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) প্রয়াত ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এটিএম ফজলে রাব্বী চৌধুরীর স্মরণে এই আলোচনা সভা হয়। গত ২৭ ডিসেম্বর হƒদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ফজলে রাব্বী চৌধুরী।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এই নির্বাচন যেটি হয়েছে তা বাংলাদেশের জনগণ ও আন্তর্জাতিক বিশ্ব প্রত্যাখ্যান করেছে। এটা নিয়ে আর কোনো প্রশ্ন থাকে না। দেশে কোনো নির্বাচন হয়নি। এটা একটা তামাশা হয়েছে। প্রহসন হয়েছে। এই প্রহসন একটা নিষ্ঠুর প্রহসন। এতে মানুষের অধিকারকে হত্যা করা হয়েছে। ভোটারদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো হয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে একটা ভয়াবহ দানব জনগণের ওপর চেপে বসে আছে। তারা সমস্ত অর্জনকে ধ্বংস করে দিচ্ছে। একাত্তরের স্বাধীনতা যুদ্ধের চেতনাকে ধ্বংস করেছে, গণতান্ত্রিক চেতনাকে ধ্বংস করেছে। তাদের পরাজিত করতে হলে জনগণের ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। সেই জনগণের ঐক্যের মধ্য দিয়ে বিজয় অর্জন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন- এমনটা আওয়ামী লীগ কেন করল? আমি বলব এতে আওয়ামী লীগের একটা বড় ক্ষতি হয়ে গেল। আওয়ামী লীগ এ দেশের সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দলের একটি। তাদের গণতন্ত্রের গৌরবোজ্জ্বল অতীত রয়েছে। কিন্তু এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জনগণের প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, আজকে আওয়ামী লীগের লোকেরাই প্রশ্ন তুলেছে, আমার ভোট আমি দিতে পারলাম না কেন? সমস্যা হল আওয়ামী লীগের স্বভাবজাতভাবে যে চরিত্র তা আমরা স্বাধীনতার পর থেকেই দেখে আসছি। আওয়ামী লীগ সবসময় মনে করে তারা মালিক। একই সঙ্গে ভিন্ন মতকে তারা সহ্য করে না। জনগণ হচ্ছে তাদের সত্যিকার অর্থে প্রজা। যে কারণে জনগণের অধিকারকে তারা কখনই স্বীকৃতি দেয় না।

সংবিধানের প্রসঙ্গ টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, আমাদের যে সংবিধান রয়েছে তার একটা একটা পরিবর্তন করে একদলীয় বাকশালে পরিণত করেছে আওয়ামী লীগ। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমাদের আরও বিজ্ঞজন রয়েছেন। তারাও এ বিষয়গুলোকে এড়িয়ে গিয়েছেন।

তিনি বলেন, একটা বিষয় স্পষ্টত প্রমাণ হয়েছে, বাংলাদেশের সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে বর্তমান সরকার ধ্বংস করে দিয়েছে। এবার নির্বাচনে জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে রাষ্ট্রের জুডিশিয়াল থেকে শুরু করে আনসার পর্যন্ত। যাদেরকে সরকার ব্যবহার করেছে। এই সরকারের ক্ষমতায় যাওয়ার মূল বিষয় হচ্ছে দেশকে একদলীয় শাসনব্যবস্থায় নিয়ে আসা।

নতুন প্রজন্মের উদ্দেশ্য বিএনপি মহাসচিব বলেন, তাদের সামনে বিরাট ভবিষ্যৎ আছে। তারা আরও বেশি করে ঐক্যবদ্ধ হবে। আরও বেশি করে দেশকে ভালোবেসে তারা সামনের দিকে এগিয়ে যাবে। আমি একটা কথা প্রায়ই বলি- এটাকে আমার যেন একটা দর্শন মনে হয়। রবিঠাকুরের ‘দুঃসময়’ কবিতার দুটি ছত্র প্রায়ই মনে পড়ে। যদিও সন্ধ্যা আসিছে মন্দ-মন্থরে, সব সঙ্গীত গেছে ইঙ্গিতে থামিয়া। তবু বিহঙ্গ ওরে বিহঙ্গ মোর এখনই অন্ধ, বন্ধ করো না পাখা- এটাই হচ্ছে মূল কথা। পাখা বন্ধ করবেন না। এগিয়ে যাবেন। সূর্য উদয় হবেই। সামনের যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ সেটা আপনার, আপনাদের।

জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) মহাসচিব মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে ও যুগ্ম মহাসচিব এসএমএম শামীমের পরিচালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন প্রেসিডিয়াম সদস্য নওয়াব আলী আব্বাস খান, শফি উদ্দিন ভুঁইয়া, মাওলানা রুহুল আমিন, সেলিম মাস্টার, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নেতা মহসিন সরকার, কাজী মো. নজরুল, ভাসানী স্মৃতি ফোরামের কামরুল হুদা, মইনুল রাব্বি চৌধুরী প্রমুখ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×