ট্রাফিক পক্ষের তৃতীয় দিন

যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার

রাজধানীতে স্টপেজ ছাড়া যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা বন্ধ হয়নি। দুই বাসের মধ্যে প্রতিযোগিতার ঘটনাও আগের মতোই আছে।

জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারের প্রবণতা বাড়লেও সিগন্যাল ছাড়া যত্রতত্র ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের দৃশ্যও দেখা গেছে। বৃহস্পতিবার কয়েকটি স্পট ঘুরে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।

বলাকা পরিবহনের একটি বাস মগবাজার ক্রসিং থেকে মহাখালী পর্যন্ত আসতে স্টপেজ ছাড়া অন্তত পাঁচ জায়গায় যাত্রী ওঠানামা করে। চলন্ত ওই বাসটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাত্রী উঠাতে দেখা গেছে। এফডিসি মোড়, তেজগাঁও সাতরাস্তা থেকে এগিয়ে জাতীয় মুদ্রণ অধিদফতরের সামনে এসে যাত্রী উঠানোর জন্য বাসটি এমনভাবে থামাল, তাতে যান চলাচলই বন্ধ হয়ে গেল। একটি বাসের কারণে সিগন্যাল ছাড়াই সড়কে সৃষ্টি হল যানজটের।

শুধু বলাকা পরিবহন নয়, যেখানে-সেখানে বাস থামিয়ে ইচ্ছেমতো যাত্রী তুলছে অন্য বাসগুলোও। চলন্তগাড়িতে দরজা বন্ধ রাখার কথা থাকলেও সেটা মানছেন না অধিকাংশ বাসচালক। মানুষও ঝুঁকি নিয়ে বাসে ওঠানামা করছে। জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার না করে সিগন্যাল ছাড়াই চলন্ত বাসের সামনে হাত উঁচিয়ে দৌড় দিয়ে রাস্তা পার হচ্ছে। এসব ঘটনা ঘটছে খোদ ট্রাফিক পুলিশের সামনেই। ট্রাফিক পুলিশ বলছে, মানুষ সচেতন হচ্ছে। রাতারাতি হয়তো সমস্যার সমাধান হবে না। তবে ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। দৃশ্যমান কিছু পরিবর্তন আমরা লক্ষ্য করেছি। কর্মকর্তারা আরও বলেন, শুধু আইন দিয়ে হবে না। মানুষকে সচেতন করতে হবে। আর মানুষ সচেতন হলে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরবে।

সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে চতুর্থবারের মতো রাজধানীতে মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে ১৫ দিনের ‘ট্রাফিক শৃঙ্খলা পক্ষ-২০১৯’। চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত।

এ বিষয়ে ট্রাফিক পুলিশের উত্তর বিভাগের সহকারী কমিশনার আশরাফ উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, পরিস্থিতি প্রতিদিনই উন্নতি হচ্ছে। চালক ও যাত্রীদের মধ্যে আইন মানার প্রবণতা বাড়ছে। জেব্রা ক্রসিং ও ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার আগের চেয়ে বেড়েছে। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা ও দরজা খোলা রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, যেখানে পুলিশ থাকে সেখানে চালকরা দরজা বন্ধ করে রাখে, আর পুলিশ না দেখলেই দরজা খোলা রেখে যাত্রী ওঠানামা করায়। আমরা এমন চালক দেখলেই আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করছি।

বাস স্টপেজ ছাড়া দরজা খোলা রেখে যত্রযত্র যাত্রী ওঠানামা প্রসঙ্গে বলাকা পরিবহনের চালক আব্বাস মিয়া যুগান্তরকে বলেন, যাত্রীরা তো নির্দিষ্ট জায়গায় থাকে না। অফিস বা বাসা থেকে বের হয়ে মূল রাস্তায় এসে দাঁড়ায়। হাত দেখালেই বাস থামিয়ে অথবা স্লো করে উঠিয়ে নেই। রাস্তা থেকে যাত্রী না উঠালে বাসের সিট খালি থাকবে। চলন্ত বাসে লাফিয়ে যাত্রী উঠানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেক শিক্ষিত মানুষ চলন্ত বাসে লাফিয়ে ওঠে। তারা সচেতন না হলে শুধু চালক, হেলপারের দোষ দিয়ে লাভ কী?

যাত্রীদের অভিযোগ, বাসগুলো নির্দিষ্ট স্টপেজে থামে না। খেয়াল-খুশি মতো যত্রতত্র থামিয়ে যাত্রী তোলে। আবার যাত্রীরা সচেতন নয়। গাড়ি দেখলেই ওঠার জন্য হুড়োহুড়ি শুরু করেন। অনেক সময় চলন্ত বাসে লাফিয়ে ওঠেন। এ কারণে অনেক সময় বড় দুর্ঘটনাও ঘটে। মহাখালী মোড়ে সিগন্যাল ছাড়াই রাস্তা পারাপারের সময় কথা হয় সুইটি নামের নারীর সঙ্গে। ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পারাপারের কারণ জানতে চাইলে ভুল হয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন এভাবেই রাস্তা পারাপার হই, তাই অভ্যাসবশতই চলে এসেছি। আগামীতে রাস্তা পারাপারের সময় অবশ্যই জেব্রা ক্রসিং অথবা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করব। বনানী ফুটওভার ব্রিজের সামনে দিয়েই হেঁটে রাস্তা পার হন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজ সুমন। তিনি যুগান্তরকে বলেন, একটু তাড়া ছিল, তাই এভাবে পার হলাম।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×