এবার কলকাতায় যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ

রাষ্ট্রীয় সংস্থা বিআইডব্লিউটিসির বাঙালি ও মধুমতি জাহাজ প্রস্তুত করা হচ্ছে * বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ নৌ-মন্ত্রণালয়ের

  কাজী জেবেল ১৯ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এবার কলকাতায় যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ
এবার কলকাতায় যাচ্ছে পর্যটকবাহী জাহাজ

পর্যটন শিল্পের বিকাশে ঢাকা থেকে ভারতের কলকাতা পর্যন্ত পরীক্ষামূলক পর্যটকবাহী (ক্রুজ) জাহাজ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী মার্চ বা এপ্রিলে রাষ্ট্রীয় সংস্থা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্পোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) জাহাজ পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। এ ক্ষেত্রে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছে নৌ-মন্ত্রণালয়।

চলতি সপ্তাহে বিআইডব্লিউটিসির যাত্রীবাহী এমভি মধুমতি ও এমভি বাঙালি জাহাজ দুটি ওই রুটে চলাচলের উপযোগী কিনা তা সার্ভে করেছে নৌ-পরিবহন অধিদফতরের সার্ভেয়ার।

সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী, এ দুটি জাহাজের একটিকে পর্যটকদের পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা দিতে সংস্কার করা হবে। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ক্রুজ জাহাজ পরিচালনায় বেসরকারি খাতকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, ডিসেম্বরে কলকাতা-বাংলাদেশ-গোহাটি রুটে ক্রুজ জাহাজ চালুর প্রস্তাব করে ভারত। এতে আগামী মার্চের শেষ সপ্তাহে প্রথম জাহাজটি কলকাতা থেকে বাংলাদেশ হয়ে আসামের গোহাটি যাওয়ার প্রস্তাব করা হয়। ওই প্রস্তাবের পর বাংলাদেশ থেকে একটি পর্যটকবাহী জাহাজ পাঠাতে প্রস্তুতি নিতে শুরু করে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়।

এর আগে দুই দেশের মধ্যে যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চালুর বিষয়ে অক্টোবরে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সচিব পর্যায়ের বৈঠকে স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) স্বাক্ষরিত হয়। এতে দুই দেশের নৌ-প্রটোকল রুট ও উপকূলীয় এলাকায় এসব জাহাজ চালাচলের সুযোগ তৈরি হয়।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নৌ-পরিবহন সচিব মো. আবদুস সামাদ যুগান্তরকে বলেন, আমরা ঢাকা-কলকাতা রুটে পর্যটকবাহী জাহাজ চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিআইডব্লিউটিসির একটি জাহাজ প্রস্তুত করতে নির্দেশনা দিয়েছি। পাশাপাশি বেসরকারি খাতকে এগিয়ে আসতেও আহ্বান জানিয়েছি।

নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার কথা জানিয়ে বিআইডব্লিউটিসির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মফিজুল হক বলেন, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা পাওয়ার পর আমরা প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম নেয়ার বিষয়ে আলোচনা করেছি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিভিন্ন দিকনির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

সূত্র জানায়, বিআইডব্লিউটিসির বহরে যেসব যাত্রীবাহী জাহাজ রয়েছে সেগুলোর মধ্যে এমভি বাঙালি ও এমভি মধুমতি সর্বশেষ সংগ্রহ করা হয়। এ দুটি জাহাজ তুলনামূলক নতুন ও বড় আকৃতির। এ কারণে এ দুটি জাহাজ প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হয়েছে। জাহাজ দুটি দুই দেশের মধ্যে চলাচলের উপযোগী কিনা তা পরীক্ষা করতে নৌ-পরিবহন অধিদফতরকে চিঠি দেয়া হয়েছে।

পাশাপাশি এসব জাহাজে পর্যটন সার্ভিস পরিচালনা করতে হলে কী ধরনের প্রস্তুতি নিতে হবে সেই সিদ্ধান্ত অনেক আগেই নেয়া হয়েছিল। মঙ্গলবার ওই নির্দেশনার আলোকে ব্যবস্থা নিতে সংস্থার তিন শাখার মহা-ব্যবস্থাপক ও মুখ্য কর্মচারী ব্যবস্থাপককে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা জানান, বর্তমানে এ দুটিসহ ছয়টি জাহাজ ঢাকা-খুলনা রুটে চলাচল করছে। এর মধ্যে সার্ভে রিপোর্ট অনুযায়ী তুলনামূলক ভালো একটি জাহাজ ঢাকা-কলকাতা রুটে পর্যটক বহনের জন্য নির্বাচন করা হবে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচিত জাহাজটি ওই রুট থেকে সরিয়ে (ট্রিপ আউট) ডকে সংস্কারের জন্য নেয়া হবে। পরে সেটি বাংলাদেশের অংশে ট্রায়াল রান ও ইন্স্যুরেন্সের আওতায় আনা হবে।

নৌ-পরিবহন অধিদফতরের একজন কর্মকর্তা জানান, বিআইডব্লিউটিসির আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার এমভি বাঙালি ও বৃহস্পতিবার মধুমতি জাহাজ সার্ভে করেছেন ঢাকা নদীবন্দরের প্রকৌশলী ও জাহাজ জরিপকারক মির্জা সাইফুর রহমান। এ সময় জাহাজে বড় ধরনের কোনো ত্রুটি পাননি তিনি। তবে ছোটখাটো কমবেশি ২০টি ত্রুটি চিহ্নিত করে তা সংস্কারের সুপারিশ করেন তিনি। একই সঙ্গে জাহাজ দুটি ঢাকা-কলকাতা রুটে চলাচলের উপযোগী বলেও তিনি মত দেন। ত্রুটিগুলোর অন্যতম হল- জাহাজের বিভিন্ন অংশ ভাঙা, অধিকাংশ লাইফ জ্যাকেট ব্যবহারের অনুপযোগী, ড্রাফট চার্ট না থাকা, জাহাজে অপরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা না থাকা।

সূত্র আরও জানায়, দুই দেশের মধ্যে পর্যটকবাহী জাহাজ চালু করার ক্ষেত্রে ইমিগ্রেশন ব্যবস্থা চালু ও নৌপথে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিতে হবে। এ বিষয়ে শিগগিরই একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×