লালমোহনে ঘুমন্ত গৃহবধূ ও শিশুকে পুড়িয়ে হত্যা

  বরিশাল ব্যুরো, ভোলা ও লালমোহন প্রতিনিধি ২০ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

হত্যা

ভোলার লালমোহনে শুক্রবার গভীর রাতে ঘুমন্ত এক গৃহবধূ ও তার ভাগ্নিকে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে। অজ্ঞাত ব্যক্তি সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে লেপ-তোশকে আগুন দেয়। চরভূতা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের খারাকান্দি গ্রামে মহিউদ্দিনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় গৃহবধূর বোন দগ্ধ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তার অবস্থাও আশঙ্কাজনক।

পুড়ে মারা যাওয়া গৃহবধূর নাম সুরমা বেগম (২৫)। হত্যার শিকার অন্যজন হলেন তার বোন আংকুরা বেগমের (২৮) মেয়ে খাদিজা (৮)। চরভূতা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের পণ্ডিত বাড়ির জালাল আহমেদ পণ্ডিতের মেয়ে সুরমা। তিনি পদ্মপুকুর ঢালি বাড়ির বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম ঢালির স্ত্রী। দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্রী খাদিজার বাবার নাম সফিজল ইসলাম।

লালমোহন থানার ওসি মীর খায়রুল কবীর বলেন, সুরমার স্বামীর সঙ্গে বিরোধ ছিল। স্বামী তাকে বিভিন্ন সময় প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিল। আমাদের সন্দেহ এ ঘটনা তার স্বামী ঘটাতে পারে। ঘটনার পর থেকে রফিক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

সুরমার বাবা জালাল আহমেদ যুগান্তরকে জানান, ছোট মেয়ে সুরমার আগে বিয়ে ছিল। ওই স্বামীর মৃত্যুর পর সাত মাস আগে পদ্মপুকুর গ্রামের ওসমান গনি ঢালির ছেলে রফিক ঢালির সঙ্গে বিয়ে হয়। তবে প্রায় সাত মাস হয়ে গেলেও সুরমাকে ঘরে তুলে নেয়নি রফিক। এ নিয়ে অনেকদিন ধরেই তাদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছে। এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সুরমা চরভূতা গ্রামে বড় বোন আংকুরার বাড়িতে যায়। সেখানে বসে সর্বশেষ শুক্রবার রাতে স্বামীর সঙ্গে মোবাইলে ঝগড়া হয় সুরমার। তিনি আরও জানান, বড় মেয়ে আংকুরার স্বামী সফিজল ঢাকায় এক কোম্পানির নিরাপত্তা প্রহরী। তিনি না থাকায় শুক্রবার রাতে আংকুরা, সুরমা ও খাদিজা একই বিছানায় ঘুমিয়ে পড়ে। রাতে দুর্বৃত্তরা সিঁদ কেটে ঘরে ঢুকে লেপ-তোশকে আগুন দেয়।

শনিবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ঘরের পেছনে সিঁদ কাটা। চৌকিতে লেপ ও তোশকের বেশির ভাগ অংশ পোড়া। উদ্ধারকারীদের একজন রাকিব জানান, রাত ১টার দিকে তাদের আর্তচিৎকার শুনে বেরিয়ে দেখি ঘরের ভেতরে আগুন জ্বলছে। সুরমাকে জীবিত উদ্ধার করা যায়নি, আংকুরা ও তার মেয়েকে উদ্ধার করে ভোলা হাসপাতালে নেয়া হয়।

ভোলার সিভিল সার্জন রথীন্দ্রনাথ মজুমদার বলেন, ভোর সাড়ে তিনটার দিকে তাদের ভোলা হাসপাতালে আনা হয়। সকালে তাদের বরিশালে শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শেবাচিম হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহাবুবুর রহমান বলেন, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই খাদিজার মৃত্যু হয়েছে। তার মায়ের অবস্থাও বেশি ভালো নয়। তার শরীরের প্রায় ৮৫ ভাগ পুড়ে গেছে। তাকে আপাতত বার্ন ইউনিটে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তবে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে পাঠিয়ে দেয়া হবে। সন্ধ্যায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় আংকুরা বেগমকে ঢাকায় নেয়া হচ্ছিল।

এদিকে সুরমার মেঝো বোন শাহিনুর ও ভাই মহিউদ্দিন থানা চত্বরে যুগান্তরকে জানান, ৬ মাস আগে রফিকের সঙ্গে বিয়ে হয় সুরমার। বিয়ের পর থেকে স্বামীর সঙ্গে বনিবনা হচ্ছিল না। ঝগড়া-বিবাদ লেগে থাকত। এ নিয়ে বিচার-সালিশও হয়। ১০ দিন আগে সুরমাকে বাবার বাড়িতে রেখে তার স্বামী চলে যায়। পরে সে বড় বোন আংকুরার বাড়িতে ওঠে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×