কবিরহাটে গৃহবধূকে গণধর্ষণ: যুবলীগ নেতার স্বীকারোক্তি গ্রেফতার আরও তিনজন

প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে মানববন্ধন

  যুগান্তর রিপোর্ট, নোয়াখালী ও কোম্পানিগঞ্জ প্রতিনিধি ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নোয়াখালী

নোয়াখালীর কবিরহাটের নবগ্রামে গৃহবধূকে ধর্ষণের ঘটনায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জাকির হোসেন জহির।

তদন্ত কর্মকর্তা টমাস বড়ুয়া জানিয়েছেন, রোববার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কোর্টে বিচারক উজমা শুকরানার কাছে ১৬৪ ধারায় অভিযোগ স্বীকার করেন তিনি। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জহিরের স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে তিনজনকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। এদের মধ্যে রয়েছে গৃহবধূর এক দেবরও। অন্যরা হল এলাকার মো. ইসমাইলের ছেলে মো. সেলিম ও মফিজ উল্লাহর ছেলে মো. হারুন। শনিবার রাত ১১টার দিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাদের থানায় ডেকে নিয়ে পরে গ্রেফতার দেখানো হয়।

ঘটনা ভিন্ন খাতে নিতে নিরীহ এসব মানুষকে গ্রেফতার করা হয়েছে বলে দাবি করেন নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ। রোববার দুপুরে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে তিনি যুগান্তরকে বলেন, ‘আমার দেবর নিরপরাধ। সে হাসপাতালে শনিবার দিনভর আমাকে সহায়তা করেছে। রাতে জিজ্ঞাসাবাদের কথা বলে পুলিশ তাকে থানায় নিয়ে যায়।’

স্থানীয়রাও এ তিনজনকে নিরপরাধ বলে যুগান্তরের কাছে দাবি করেন।

যুবলীগ নেতার ফাঁসি, জড়িত অন্যদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং নিরীহ মানুষকে হয়রানি না করার দাবিতে রোববার নবগ্রাম নিমতলা বাজারে মানববন্ধন করেছেন স্থানীয়রা।

সহস্রাধিক মানুষের ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন চলাকালে বক্তব্য দেন ধানসিঁড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, নিমতলা বাজার পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. সাহাব উদ্দিন, ধানসিঁড়ি ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি এনামুল হক, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি নুরুল হক, নবগ্রাম উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক পলাশ চন্দ্র ভৌমিক, শিক্ষক রুহুল আমিন, ভূমিহীন নেতা আবুল হাসেম, ছাত্রনেতা নিশান প্রমুখ।

তারা পুলিশকে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতারের আহ্বান জানান। অন্যথায় কঠোর কর্মসূচি দেয়ার হুশিয়ারি দেন তারা।

ধর্ষণের শিকার গৃহবধূ কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, তার স্বামী ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক। এজন্য মিথ্যা মামলা দিয়ে ভোটের আগে ২২ ডিসেম্বর পুলিশ তাকে কারাগারে রাখে। ওই রাতে ইউনিয়ন যুবলীগের সহসভাপতি জাকির হোসেন জহিরের নেতৃত্বে ৫-৬ জন সিঁদ কেঁটে বসতঘরে ঢোকে। তারা ঘরের স্বর্ণ, টাকা, মোবাইল সেট লুট করে। অস্ত্রের মুখে মা ও ছেলে-মেয়েদের জিম্মি করে যুবলীগ নেতাসহ অপর সন্ত্রাসীরা আমাকে ধর্ষণ করে।

ওই গৃহবধূ প্রকৃত দোষীদের গ্রেফতার করে বিচারের দাবি জানান। নিরপরাধ ব্যক্তিদের হয়রানি ও মামলা ভিন্নখাতে নেয়ার অপচেষ্টার অভিযোগ নাচক করেছেন কবিরহাট থানার মির্জা মোহাম্মদ হাছান। তিনি বলেন, জহিরের বক্তব্যের ভিত্তিতেই তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়া হয়। পরে তাদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, জহির আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। ওই জবানবন্দিতে সে বলেছে, এ ঘটনার পরিকল্পনাকারী ভিকটিমের দেবর। এছাড়া সেলিম, হারুন ও জামাল উদ্দিন এ ঘটনায় জড়িত। জামাল উদ্দিন পলাতক রয়েছে। সেলিম ও হারুনকে আদালত কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন। জবানবন্দির পর জহিরকেও কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।

জহির যুবলীগের কেউ নয় : কবিরহাট উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জহিরুল হক রায়হান স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে শনিবার রাতে বলা হয়েছে, গ্রেফতার জাকির হোসেন জহির ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ বা অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের কোনো সদস্য নন।

তিনি বলেন, গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনায় জড়িত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করছে উপজেলা আওয়ামী লীগ।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×