শেয়ারবাজার চাঙ্গা বছরের শুরুতেই

১৫ কার্যদিবসে ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা

  মনির হোসেন ২২ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শেয়ারবাজার
ছবি-যুগান্তর

নতুন বছরের শুরুতেই চাঙ্গা হয়ে উঠেছে শেয়ারবাজার। গত ১৫ কার্যদিবসে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) বাজার মূলধন বেড়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। আর মূল্যসূচক বেড়েছে ৪৭৪ পয়েন্ট। বেড়েছে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারের দামও।

বিনিয়োগকারীরা শেয়ারবাজারমুখী হওয়ায় ডিএসইর গড় লেনদেন দ্বিগুণের বেশি বেড়ে ১ হাজার কোটি টাকায় উঠে এসেছে। তবে আছে হতাশার দিকও। সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম এমনভাবে বেড়েছে, যা কোনো বিবেচনাতেই যৌক্তিক নয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একটি চক্র কারসাজির মাধ্যমে এসব শেয়ারের দাম বাড়িয়ে বাজার থেকে টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এছাড়া উদ্যোক্তাদের শেয়ার বিক্রি বেড়েছে। অর্থনীতিবিদরা বলছেন, লেনদেন যেভাবে বেড়েছে তা ইতিবাচক। তবে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা ড. এবি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারবাজারে দুই ধরনের সমস্যা রয়েছে। চাহিদার দিক থেকে সংকট হল এই বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের আস্থা কম। আর সরবরাহের দিক থেকে সমস্যা হল বাজারে ভালো কোম্পানি আসছে না।

এসব কারণে নানা উদ্যোগের পরও বাজার থেকে টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করানো সম্ভব হয়নি। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক লেনদেন বাড়ছে, তা ইতিবাচক। এর মানে হল বিনিয়োগকারীদের একটি অংশ সক্রিয় হয়েছে।

তবে দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম বৃদ্ধি কোনোভাবেই কাম্য নয়। মির্জ্জা আজিজ বলেন, বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে (বিএসইসি) এ ব্যাপারে সতর্ক হতে হবে। কোনো অনিয়ম হলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে হবে।

শেয়ারবাজারে গত বছরের শেষ লেনদেন ছিল ২৭ ডিসেম্বর। ওইদিন ডিএসইর বাজার মূলধন ছিল ৩ লাখ ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এরপর নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সরকার নতুনভাবে দায়িত্ব নেয়। আর নতুন বছরে ঘুরে দাঁড়ায় শেয়ারবাজার। মাঝে দু-একদিনের ছন্দপতন বাদ দিলে শেয়ারবাজার আর পেছনে ফিরে তাকায়নি।

সোমবার পর্যন্ত ডিএসইর বাজার মূলধন বেড়ে ৪ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে। অর্থাৎ ১৫ কার্যদিবসে বাজার মূলধন বেড়েছে ২৮ হাজার কোটি টাকা। এ সময় ডিএসইর মূল্যসূচক ৫ হাজার ৩৮৫ পয়েন্ট থেকে বেড়ে ৫ হাজার ৮৫৯ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে।

মূল্যসূচক বেড়েছে ৪৭৪ পয়েন্ট, শতকরা হিসাবে যা ৯ শতাংশ। এর মানে হল ১৫ কার্যদিবসে সামগ্রিকভাবে ডিএসইর সবগুলো কোম্পানির শেয়ারের দাম গড়ে ৯ শতাংশ বেড়েছে। তবে কোম্পানিভেদে তা শতভাগ পর্যন্ত বেড়েছে। উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে লেনদেনে।

গত ডিসেম্বরে ডিএসইর গড় লেনদেন ছিল ৪শ’ কোটি টাকার মধ্যে। আর নতুন বছরে তা প্রায় হাজার কোটি টাকায় উঠেছে। এ সময়ে সক্রিয় হয়েছে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা।

অন্যদিকে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে অগ্রণী ইন্স্যুরেন্স, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স, ফার্মা এইড, এমারেল্ড অয়েল, জেএমআই সিরিঞ্জ, ইউনাইটেড পাওয়ার, প্রিমিয়ার ব্যাংক এবং বিবিএস ক্যাবল অন্যতম।

এসব শেয়ারের অধিকাংশই দুর্বল ও ছোট মূলধনের। এসব কোম্পানির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির কোনো যৌক্তিক কারণ নেই। এছাড়া বেশ কয়েকটি কোম্পানি উদ্যোক্তা শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে টাকা তুলে নিচ্ছে।

জানতে চাইলে ডিএসইর পরিচালক রকিবুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, শেয়ারবাজারে সবাই দায়িত্বশীল আচরণ করছে না। এটি দুঃখজনক। তিনি বলেন, বাজারের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। তার মতে, সাম্প্রতিক সময়ে বেশকিছু কোম্পানির উদ্যোক্তা যেভাবে শেয়ার বিক্রি করে টাকা নিয়ে যাচ্ছে, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

আইন করে এটি বন্ধ করতে হবে। না হলে সরকার শত চেষ্টা করেও বাজার টেকসই করতে পারবে না। রকিবুর রহমান বলেন, দুর্বল কোম্পানির শেয়ারের দাম যেভাবে বাড়ছে, তা কাম্য নয়। কারা এসব কোম্পানির শেয়ার কিনছে, তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া উচিত।

সোমবারের বাজার চিত্র : একক দিন হিসেবে ডিএসইতে সোমবার ৩৪৭টি কোম্পানির ২৪ কোটি ৬১ লাখ শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যার মোট মূল্য ৮৮৫ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। এর মধ্যে দাম বেড়েছে ১২৬টি কোম্পানির শেয়ারের, কমেছে ১৮৪টি এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭টি কোম্পানির শেয়ারের দাম।

ডিএসইর ব্রড সূচক আগের দিনের চেয়ে ২৭ দশমিক ৯৭ পয়েন্ট কমে ৫ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৩০ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসই-৩০ মূল্যসূচক ৮ দশমিক ২০ পয়েন্ট কমে ২ হাজার ২১ দশমিক ৭০ পয়েন্ট নেমে এসেছে। ডিএসই শরিয়াহ সূচক ৩ দশমিক ৭ পয়েন্ট কমে ১ হাজার ৩১৫ দশমিক ৭৯ পয়েন্টে নেমে এসেছে। ডিএসইর বাজার মূলধন আগের দিনের চেয়ে কমে ৩ লাখ ১৫ হাজার কোটি টাকায় নেমে এসেছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×