মির্জা ফখরুল সজ্জন ব্যক্তি ভালো মানুষ: ওবায়দুল কাদের

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। ফাইল ফটো

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সজ্জন ব্যক্তি। এছাড়া তিনি মানুষ হিসেবেও ভালো। তার মুখে কখনও নোংরা কথা শুনিনি।

তিনি (ফখরুল) আসলে দলের চাহিদা পূরণ করলেন কিনা সেটা দেখবে বিএনপি। তিনি তো বিএনপির আবাসিক প্রতিনিধির মতো বক্তব্য রাখেন না। মঙ্গলবার বিআরটিসির প্রধান কার্যালয়ে কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরও বলেন, মির্জা ফখরুল দল করেন, তাই দলের পক্ষে অনেক কিছু বলছেন। তিনি তো আর বিএনপির আবাসিক প্রতিনিধির মতো বক্তব্য রাখেন না।

মির্জা ফখরুলকে বিএনপির মহাসচিব পদ থেকে সরানোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে- এমন বক্তব্য সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ওইদিন রাজনৈতিক বক্তব্য দিয়েছিলাম।

মহাসচিব পদে পরিবর্তন আসবে কি আসবে না এটা বিএনপির ব্যাপার। এখানে আওয়ামী লীগের নাক গলানোর প্রয়োজন নেই। ওটা আমার পাল্টা রাজনৈতিক বক্তব্য ছিল। আমি মির্জা ফখরুলের পক্ষ নিলে ভেতরে ভেতরে তিনি (ফখরুল) ব্যক্তিগতভাবে ঝামেলায় পড়বেন।

সেতুমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের আঁকা গরুর গাড়ির মতো কাদায় আটকে গেছে, দলটি ভুলের কাদায় আটকে গেছে।

কিন্তু বিএনপি নেতাদের এখনকার কথাবার্তা, আচার-আচরণ দেখলে ভুল থেকে শিক্ষা নেয়ার কোনো ইশারা বা লক্ষণ পাওয়া যাচ্ছে না। বিএনপির মতো অবস্থায় থাকলেও আওয়ামী লীগ কখনও নির্বাচন বর্জন করত না বলে মন্তব্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি আপনাদের মনে আছে? সত্তরের নির্বাচনের কথা? সে সময় লিগ্যাল ফ্রেমের মধ্যেও বঙ্গবন্ধু নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন। আজকেও আমরা বিএনপির অবস্থানে থাকলে সব নির্বাচনে অংশ নিতাম। কোনো নির্বাচন বর্জন করতাম না।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন-বিআরটিসির দুর্নীতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিআরটিসিতে কার কত ইনকাম ভালো করে জানি। বিআরটিসির মধ্যে খুব একটা সুনামের বিষয় নেই।

এখানে অনিয়ম-দুর্নীতির জঞ্জাল দীর্ঘদিন ধরে বাসা বেঁধে আছে। তিনি বলেন, নতুন গাড়ি আসছে, মানুষ স্বস্তি পাবে, নতুন আশা। কিন্তু এ গাড়িগুলো কতদিন টিকবে তা নিয়ে আমার প্রশ্ন আছে। নিজের এ অবস্থানের কারণ ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, এর আগেও গাড়ি এসেছে।

এসব গাড়ি মেরামত ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভীষণ বাজে অবস্থা। তিনি বলেন, নানা ধরনের অনিয়ম এখানে। এ নগরীতে হঠাৎ একটা বিআরটিসিতে আমি যখন উঠি তখন দেখি সিটের ছাল-বাকল উঠে গেছে। এসি কাজ করে না- এ অবস্থা দীর্ঘদিন ধরে।

বাইরে থেকে গাড়ির দিকে তাকানো যায় না। নোংরা ময়লা আবর্জনা। গাড়ি আসবে গাড়ির কোনো যত্ন নেই, ক’দিন পরে ডাম্পিং হয়ে যাবে। অত্যাধুনিক গাড়ি আসবে, কিছুদিন পর দেখা গেল এ গাড়ি জরাজীর্ণ হয়ে গেছে।

কিছুদিন পরে দেখা গেল বডি খুলে খুলে পড়ছে, জোড়াতালি দিয়ে চালানো হচ্ছে, কেন এমন হয়? এর জন্য বিআরটিসির কর্মীদের আন্তরিকতার অভাবকে তিনি দায়ী করেন।

তিনি বলেন, এ প্রতিষ্ঠানে যারা কাজ করেন প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের ভালোবাসা থাকলে দেশের প্রতি তাদের ভালোবাসা থাকলে এমন হতো না। তাদের ভালো আছে সেটা ভাবার কোনো কারণ নেই। নিজেদের উন্নয়নে তারা বিআরটিসিকে ব্যবহার করে।

সড়ক পরিবহনমন্ত্রী কাদের বলেন, বিআরটিসির গাড়িগুলো মেরামতের অভাবে, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে অকালে নষ্ট হয়ে যায়। আনন্দের খবর গাড়ি আসছে, কিন্তু এ গাড়িগুলোর ম্যানেজমেন্ট, রক্ষণাবেক্ষণ কিভাবে হবে? কারা এ গাড়িগুলো চালাবে, এটা এখন থেকে ঠিক করতে হবে। সঠিক ব্যক্তির হাতে দায়িত্ব না পড়লে বিআরটিসির আগের পরিণতি হবে।

মাঝে মাঝে আমি হতাশ হই, যখন আমি পরিদর্শনে যাই তখন আমি হতাশ হই, কেন এমন হয়? তিনি বলেন, যেসব গাড়ি বিভিন্ন জায়গায় লিজ দেয়া আছে সেগুলোর হিসাব দিতে হবে। কার কার কাছে আছে, কত বছর ধরে আছে, কিসের বিনিময়ে আছে- এগুলো জানা দরকার।

এখন নতুন রুটে গাড়ি দেয়া হবে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, রুট আবার অদৃশ্য ইশারায় এদিক-সেদিক হয়ে যাবে।

শর্ষের মধ্যে ভূত থাকলে তা তাড়াতে হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এখন যাত্রার প্রথম রাতে বিড়াল মারতে হবে। কোনো আপস করা যাবে না। খারাপ অফিসারদের বাদ দিয়ে দিতে হবে।

যারা দুর্নীতির সঙ্গে বিআরটিসিকে সমার্থক করে ফেলেছে তাদের এখানে থাকার কোনো অধিকার নেই। ‘জিরো টলারেন্স’ দিয়ে এ পরিস্থিতি মোকাবেলা করতে হবে। তা না হলে কোটি কোটি ডলার খরচ করে বিদেশ থেকে গাড়ি এনে জনস্বার্থের কোনো উপকার হবে না। সাময়িক একটা স্বস্তি দেয়া যাবে।

এ ১১০০ গাড়ির পরিণতি যেন এর আগের আমদানি করা গাড়ির মতো না হয়, এ ব্যাপারে কঠোর হতে হবে। দুর্নীতির বিষয়ে জিরো টলারেন্স নীতি প্রতিপালন করা হবে কঠোরভাবে।

সংস্থাটির গাড়িবহর পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ এবং রাজস্ব আহরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে চালু করা হচ্ছে সফটওয়্যারভিত্তিক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা। ইতিমধ্যে কল্যাণপুর, মতিঝিল ও গাবতলী ডিপোতে পরীক্ষামূলক ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা শুরু হয়েছে। এতে দুর্নীতি কমার পাশাপাশি সেবার মান বৃদ্ধি পাবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×