পটুয়াখালীতে এডিএমের কক্ষে উত্তেজনা

চেম্বার সভাপতির দিকে তেড়ে গেলেন এমপি পুত্র মনি!

  আকতার ফারুক শাহিন, বরিশাল ব্যুরো ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চেম্বার সভাপতির দিকে তেড়ে গেলেন এমপি পুত্র মনি!

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের সামনেই চেম্বার সভাপতির দিকে তেড়ে গেলেন পটুয়াখালী-১ আসনের এমপি শাহজাহান মিঞার পুত্র তারিকুজ্জামান মনি।

অবস্থা বেগতিক দেখে পটুয়াখালী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মনিকে থামান জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাসহ অন্যরা। এক পর্যায়ে মনিকে বাইরে নিয়ে যান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর।

মঙ্গলবার সকালে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাফিজের কক্ষে চেম্বারের উদ্যোগে বাণিজ্য মেলার আয়োজন নিয়ে কমিটির বৈঠকে এ ঘটনা ঘটে।

এমপিপুত্র ও উপজেলা চেয়ারম্যান মনি অবশ্য এসব অভিযোগ স্বীকার করেননি। তবে চেম্বার সভাপতির সঙ্গে সামান্য কথাকাটাকাটির কথা স্বীকার করেছেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহফুজুর রহমান বলেছেন, ‘মতদ্বৈধতা দেখা দেয়ায় দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনার সৃষ্টি হলে উপস্থিত সবার হস্তক্ষেপে তা প্রশমিত হলেও সভা স্থগিত হয়ে যায়।’

সূত্র বলছে, একসময় ভালো বন্ধুত্ব থাকলেও বেশ কিছু দিন ধরে পটুয়াখালী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি, শহর কৃষক লীগ সভাপতি মহিউদ্দিন আহম্মেদের সঙ্গে এমপিপুত্র মনির সম্পর্ক ভালো যাচ্ছিল না।

পৌরসভার চেয়ারম্যান হতে দলীয় মনোনয়ন চাচ্ছেন মহিউদ্দিন। অতীতে অনুগত মহিউদ্দিনের এভাবে ওপরে উঠার চেষ্টার কারণেই তাদের মধ্যে এই দূরত্ব। এরই জেরে পটুয়াখালী শহর চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে বাণিজ্য মেলার আয়োজন নিয়ে কমিটি গঠন করে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার ছিল কমিটির সভা।

কমিটির সভাপতি হিসেবে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং সদস্য হিসেবে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন এমপি শাহজাহান মিঞার আরেক পুত্র যুবলীগের আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান রনি, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কাজী আলমগীর, প্রেস ক্লাব সভাপতি স্বপন ব্যানার্জি এবং কাউন্সিলর দেলোয়ার হাওলাদারসহ আরও কয়েকজন।

জানতে চাইলে প্রেস ক্লাব সভাপতি স্বপন ব্যানার্জি জানান, ‘আলোচনার এক পর্যায়ে চেম্বার সভাপতি মহিউদ্দিন চেম্বার অব কমার্সের উদ্যোগে বাণিজ্য মেলা আয়োজনের কথা বললে উপজেলা চেয়ারম্যান মনি বিরোধিতা করেন। মনি বলেন, বাণিজ্য মেলা নয় আনন্দ মেলা নাম দেয়া হোক। এ নিয়ে কথাকাটাকাটি শুরু হয়।’

চেম্বার সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, ‘এখানে এমপি ও উপজেলা চেয়ারম্যান থেকে শুরু করে দলের সব পদ-পদবিই এমপি শাহজাহান মিঞা ও তার পরিবারের দখলে।

মঙ্গলবার ছিল পটুয়াখালী পৌর নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন। আমি পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রার্থী। মূলত আমার মনোনয়নের বিরোধিতার জন্যই পরিকল্পিতভাবে সাজানো হয় এ ঘটনা।

চেম্বারের উদ্যোগে বাণিজ্য মেলা হবে- এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে তালগোল পাকান এমপিপুত্র মনি। আমি প্রতিবাদ করলে সরকারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সামনেই গালাগাল ও আমাকে মারতে উদ্যত হন তিনি।’

জানতে চাইলে পুলিশ কর্মকর্তা মাহফুজুর রহমান বলেন, ‘প্রেস ক্লাব সভাপতি উপস্থিত ছিলেন। তিনিও বাণিজ্য মেলা কমিটির সদস্য। আপনার কিছু অজানা আছে বলে তো মনে হয় না।’

সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে আপনার কাছে জানতে চাইছি বললে তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মেলা নিয়ে দুটি পক্ষ দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্যে মতানৈক্য নিয়ে কথাকাটাকাটি, এক পর্যায়ে উত্তেজনা দেখা দিলে আমরা তা প্রশমিত করি।’ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হাফিজ বলেন, ‘মেলা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে উচ্চবাচ্য শুরু হলে তাদের থামিয়ে দেয়া হয়। এরপর আমার কক্ষে আর কিছুই হয়নি। তবে বাইরে কিছু হয়েছে কিনা তা জানা নেই।’

অভিযোগ সম্পর্কে তারিকুজ্জামান মনি বলেন, ‘আমরা বাণিজ্য মেলার বিরোধিতা করেছি। আমার বাবা এমপি। সরকারও নতুন। এর আগে পটুয়াখালীতে বাণিজ্য মেলা নিয়ে বিরোধের জেরে খুন-জখমের ঘটনা পর্যন্ত ঘটেছে। আবারও তেমন কিছু হলে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হবে ভেবে আমরা এর বিরোধিতা করলে কথাকাটাকাটি হয়। তবে গালাগাল দেয়া বা মারতে তেড়ে যাওয়ার মতো ঘটনা ঘটেনি। এসব অভিযোগ মিথ্যা এবং বানোয়াট।’

মেলার বিপক্ষে থাকলে আপনি এবং আপনার ছোট ভাই কেন কমিটির সদস্য হলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জেলা আইনশৃংখলা কমিটির সভায় এসংক্রান্ত সাব-কমিটি গঠনের কথা উঠলে আমাদের সদস্য রাখা হয়। আমরাও এর বিরোধিতা করিনি।

কারণ, মেলার নামে অশ্লীলতা বা যে কোনো অন্যায় ঠেকাতে হলে কমিটিতে থেকেই করতে হবে। মেলা হবে কি হবে না সেই সিদ্ধান্তও নেবে এ কমিটি। যে কারণে আমরা কমিটিতে থেকেছি।’

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×