তাবলিগের বিবাদ মীমাংসা বিশ্ব ইজতেমা ফেব্রুয়ারিতে

আসবেন না মাওলানা সা’দ * তারিখ নির্ধারণে বৈঠক আজ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৪ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

তাবলিগের বিবাদ মীমাংসা বিশ্ব ইজতেমা ফেব্রুয়ারিতে
তাবলিগের বিবাদ মীমাংসা বিশ্ব ইজতেমা ফেব্রুয়ারিতে

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, ‘তাবলিগের বিবাদ মীমাংসা হয়েছে, এখন আর কোনো বিরোধ নেই। ফেব্রুয়ারি মাসের যে কোনো সময় একসঙ্গে ইজতেমা হবে। আগামীকাল (আজ) ধর্ম প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে দু’পক্ষের দু’জন প্রতিনিধি বসে ইজতেমার তারিখ নির্ধারণ করবেন।’

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বুধবার দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠকের পর মন্ত্রী এ কথা বলেন। এ সময় এক প্রশ্নে তিনি বলেন, উনি (মাওলানা সা’দ কান্ধলভী) এবার আসবেন না। বৈঠকে সে রকম সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইজতেমা দু’বারে (দুই পর্ব) নাকি একবারে হবে, সে বিষয়ে কাল (আজ) সিদ্ধান্ত হবে। ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ওই বৈঠকে ছিলেন।

বৈঠক শেষে তিনি বলেন, এবার ইজতেমা একটাই হবে। কোনো বিভক্তি হবে না। দু’পক্ষের সঙ্গে বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে। ভবিষ্যতেও যাতে একসঙ্গেই হয়, এজন্য যখন যা করা দরকার করা হবে।

দিল্লির নিজামুদ্দিন মারকাজের মাওলানা মোহাম্মদ সা’দ কান্ধলভীর অনুসারীদের মধ্যে তাবলিগের শূরা সদস্য ইঞ্জিনিয়ার ওয়াসেফুল ইসলাম এবং দেওবন্দপন্থীদের মধ্যে শূরা সদস্য মাওলানা মুহাম্মদ জুবায়ের আহমেদ বৈঠকে ছিলেন। আরও ছিলেন শোলাকিয়ার ইমাম মাওলানা ফরিদ উদ্দিন মাসউদ, পুলিশের মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী, র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ও ঢাকার পুলিশ কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া। বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বারান্দায় দু’পক্ষের ‘মুরব্বিদের’ কোলাকুলি ও কান্নাকাটি করতে দেখা যায়।

বিরোধ মীমাংসায় সমন্বয়কারীর ভূমিকায় থাকা কাকরাইল মসজিদের ইমাম মাওলানা মাজহারুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে, একবারেই ইজতেমা হবে। তাদের মধ্যে যে ভুল বোঝাবুঝি ছিল, তা মিটমাট হয়ে গেছে। এখন আর বিরোধ নেই।’ এ সময় মাওলানা মাজহারুল ইসলাম তাবলিগের সাথীদের উদ্দেশে বলেন, আপনারা আর কোনো বিভেদ করবেন না। জেলা শূরা, থানা শূরা, মসজিদওয়ার সাথীরা একসঙ্গে মিলেমিশে মেহনত করবেন। যেহেতু শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ মিটে গেছে, সেহেতু আপনাদের মধ্যে আর বিভেদ থাকা ঠিক হবে না।

উপমহাদেশে সুন্নি মতাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় সংঘ দাওয়াতে তাবলিগ জামাতের মূল কেন্দ্র ভারতের দিল্লিতে। মাওলানা সা’দের দাদা ভারতের মাওলানা ইলিয়াছ কান্ধলভী ১৯২০-এর দশকে দাওয়াতে তাবলিগ নামের এই ধর্মীয় আন্দোলনের সূচনা করেন। মাওলানা ইলিয়াছের মৃত্যুর পর তার ছেলে মাওলানা মোহাম্মদ ইউসুফ এবং তারপর মাওলানা ইনামুল হাসান তাবলিগের আমীরের দায়িত্ব পালন করেন।

মাওলানা ইনামুলের মৃত্যুর পর একক আমীরের বদলে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেয়ার ভার দেয়া হয় একটি শূরা কমিটির ওপর। শূরার মুরব্বি মাওলানা জুবায়েরুল হাসানের মৃত্যুর পর মাওলানা সা’দ আমীরের দায়িত্ব নেন এবং একক নেতৃত্বের নিয়ম ফিরিয়ে আনেন। কিন্তু মাওলানা জুবায়েরুলের ছেলে মাওলানা জুহাইরুল হাসান তখন নেতৃত্বের দাবি নিয়ে সামনে আসেন এবং তার সমর্থকরা নতুন করে শূরা গঠনের দাবি জানান। কিন্তু সা’দ তা প্রত্যাখ্যান করলে বিরোধ বড় আকার ধারণ করে।

নেতৃত্ব নিয়ে দিল্লির মারকাজ এবং দেওবন্দ মাদ্রাসার অনুসারীদের মধ্যে এই দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে গত বছর জানুয়ারিতে ঢাকায় বিশ্ব ইজতেমার সময়। আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করে আসা সা’দ কান্ধলভী বিরোধীদের বিক্ষোভের মুখে পড়েন। শেষ পর্যন্ত ইজতেমায় অংশ না নিয়েই তাকে ঢাকা ছাড়তে হয়।

এরপর দু’পক্ষের কোন্দল চলতে থাকলে এ বছরের জানুয়ারিতে নির্ধারিত বিশ্ব ইজতেমা নির্বাচনের আগে স্থগিত করা হয়। কিন্তু তার মধ্যেই সাদপন্থীরা ডিসেম্বরের শুরুতে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা করার ঘোষণা দিলে দেওবন্দপন্থীরা টঙ্গীর ইজতেমা মাঠ দখল করে পাহারা বসায়।

১ ডিসেম্বর ভোর থেকে সা’দের অনুসারী শত শত মানুষ টঙ্গীর পথে রওনা হলে পরিস্থিতি বিস্ফোরণোন্মুখ হয়ে ওঠে। একপর্যায়ে দু’পক্ষের লোকজন বাঁশ ও লাঠিসোটা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এর মধ্যে পড়ে প্রাণ যায় সত্তর বছর বয়সী এক বৃদ্ধের, দুই শতাধিক মানুষ আহত হন। পরে দু’পক্ষের অনুসারীদের বের করে দিয়ে ইজতেমা মাঠের নিয়ন্ত্রণ নেয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

ঘটনাপ্রবাহ : বিশ্ব ইজতেমা ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×