পুনর্গঠিত হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি

মোশাররফ-মওদুদের পরিবর্তে গয়েশ্বর-মঈন খান * নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা নিয়ে বিভক্ত ধানের শীষ প্রার্থীরা

  তারিকুল ইসলাম ২৫ জানুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পুনর্গঠিত হচ্ছে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি
ফাইল ছবি

পুনর্গঠিত হচ্ছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম স্টিয়ারিং কমিটি। এতে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের পরিবর্তে যুক্ত হচ্ছেন গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান।

দলের সিনিয়র দুই নেতা স্টিয়ারিং কমিটিতে থাকা নিয়ে অনীহা প্রকাশ করলে এ সিদ্ধান্ত নেয় বিএনপির হাইকমান্ড, যা ঐক্যফ্রন্টের আগামী বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হতে পারে।

এদিকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে ‘অনিয়ম’ ও ‘ভোট কারচুপির’ অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা নিয়ে ধানের শীষ প্রার্থীদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে। মামলা নিয়ে নিজেদের লাভ-ক্ষতির হিসাব কষে এগোতে চাইছেন তারা। প্রার্থীদের একাংশ মনে করেন, বিচার বিভাগে তারা ন্যায়বিচার পাবেন না। এসব মামলায় সরকারের পক্ষে রায় যাবে। যার মাধ্যমে নির্বাচনকে নিয়ে সরকার আরও একটি আইনি সমর্থন পাবে। বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে তারা মামলা না করার পক্ষে। তবে অন্য অংশের মতে, মামলার রায় যাই হোক না কেন, একটা ডকুমেন্টস থাকবে, যা ভবিষ্যতে কাজে লাগবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

স্টিয়ারিং কমিটি পুনর্গঠনের বিষয়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল নাগরিক ঐক্যের আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মান্না যুগান্তরকে বলেন, বিএনপি স্থায়ী কমিটির দু’জন সদস্যকে নতুন করে স্টিয়ারিং কমিটিতে নেয়ার বিষয়ে শুনেছি। বিএনপির পক্ষ থেকে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টুকে এ রকম একটি কথা বলা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খানকে স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য করার বিষয়টি স্বীকার করে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসীন মন্টু যুগান্তরকে বলেন, হ্যাঁ এ রকম হয়েছে। কারণ অনেক কাজ তো থাকে তাদের। এজন্য হয়তো তারা সংখ্যাটা বাড়িয়ে নিল।

তবে ঐক্যফ্রন্টের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দু’জনের পরিবর্তে দু’জনকে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম হচ্ছে স্টিয়ারিং কমিটি। এই কমিটির সদস্যরা আলোচনা করেই যে কোনো সিদ্ধান্ত নেন। এতে বিএনপিসহ শরিক সব দলের ৩ জন করে প্রতিনিধি আছেন। বিএনপি থেকে স্টিয়ারিং কমিটিতে রয়েছেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ঐক্যফ্রন্টের মুখপাত্র), স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ। এর বাইরে এ কমিটির সদস্য গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী ও জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

সূত্র জানায়, একাদশ সংসদ নির্বাচনের পর বিএনপির অভ্যন্তরীণ জটিলতায় ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটি থাকা নিয়ে নিজেদের অনীহা প্রকাশ করেন। এ কারণে তারা নির্বাচন-পরবর্তী ঐক্যফ্রন্টের কোনো বৈঠকে উপস্থিত হননি। তাদের এমন মনোভাব লন্ডনে থাকা ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জানানো হলে দলের পক্ষ থেকে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খানকে স্টিয়ারিং কমিটির দায়িত্ব পালনের জন্য বলা হয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের আগামী বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে জানা গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ যুগান্তরকে বলেন, ‘নো কমেন্টস’। এছাড়া আরও তিনজন স্থায়ী কমিটির সদস্যকে ফোন দেয়া হলে এ নিয়ে তারা কথা বলতে রাজি হননি।

সর্বশেষ ১৭ জানুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বিএনপির কোনো প্রতিনিধিই উপস্থিত ছিল না। তখন ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অসুস্থ থাকায় আসতে পারেননি। গয়েশ্বর চন্দ্র রায় ও ড. আবদুল মঈন খান যানজটের কারণে আসতে পারেননি। তবে দলটির অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে সেদিনের বৈঠকে কোনো প্রতিনিধি উপস্থিত থাকতে পারেননি বলে নিশ্চিত করেছে একটি সূত্র।

এদিকে সদ্য অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ভোট কারচুপি ও অনিয়মের’ অভিযোগ এনে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে আসনভিত্তিক মামলা নিয়ে ধানের শীষের প্রার্থীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে মতভেদ। কেউ কেউ মামলা করতে চাইলেও অনেকে মনে করেন, এতে লাভ হবে না। আবার কারও অভিমত- কয়েকটি আসনে প্রতীকী মামলা করা উচিত, এর বেশি নয়। এ অবস্থায় বিএনপির দুই জোট জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ও ২০ দলের শীর্ষ নেতা অথবা ধানের শীষের প্রার্থীদের নিয়ে শিগগিরই বৈঠক ডাকা হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী যুগান্তরকে বলেন, মামলার বিষয়ে বিচার-বিশ্লেষণ চলছে। ভবিষ্যতে কী হতে পারে তাও ভাবা হচ্ছে। অনেক ধরনের মত এসেছে। সব বিষয়ে আলোচনার মাধ্যমে মামলা করা না করার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হবে দলীয় ফোরামে।

নির্বাচনী ফলের গেজেট প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে হাইকোর্টের নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হয়। ২ জানুয়ারি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৮ আসনের ফলের গেজেট জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে পাঠানো হয়। ৩ জানুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠিত হয়। এ হিসাবে এ মাসের বাকি সময়ের মধ্যে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে হবে।

এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-৩ আসনের প্রার্থী বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহিদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানী যুগান্তরকে বলেন, দলের ভেতরে অনেকে নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করতে চাইছেন না। নির্বাচনের আগের রাতে ভোট হয়েছে, ভোটের দিন কেন্দ্র দখল করে সিল মারা ইত্যাদি অনিয়ম হয়েছে- এটি সত্য। এসব অনিয়ম রাষ্ট্রযন্ত্রের সামনেই হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিজেরাই এ অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত ছিল। এ অবস্থায় মামলা করলে হয়তো আদালত মামলা নিষ্পত্তি করে দেবে। সেটা আমাদের পক্ষে নাও আসতে পারে। তার চেয়ে ভোট ডাকাতির নির্বাচন রাজনৈতিকভাবে মোকাবেলা করার দিকেই সবার আগ্রহ। হয়তো ৫-১০টি আসনে মামলা হতে পারে বলেও জানান বিএনপির এই নেতা।

তবে মামলার পক্ষের নেতারা জানান, নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করা হলে বিচার চলাকালে অন্তত ভোটের অনিয়মগুলো উঠে আসবে, যা ক্ষমতাসীনরা ইচ্ছা করলেও মানুষের মাথা থেকে সরাতে পারবে না। তারা মনে করেন, আদালত স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারলে রায় তাদের পক্ষে আসবে। এ ব্যাপারে বরিশাল-১ আসনের ধানের শীষের প্রার্থী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, মামলার বিষয়ে সব প্রস্তুতি আমার রয়েছে। আমি মামলা করব। নানা অনিয়ম আইনি প্রক্রিয়ায় জীবিত করে রাখাও একটি রাজনীতি।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×