ক্যাম্প পরিদর্শনকালে জোলি

এই সময়ে রোহিঙ্গারা ফিরতে পারে না

আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশের প্রশংসা

  উখিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ক্যাম্প পরিদর্শনকালে জোলি
কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের আইএফআরসির হেলথ সেন্টারে কর্মীদের সঙ্গে হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। ছবি: টু্ইটার

কক্সবাজারে রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্প পরিদর্শন করেছন সফররত হলিউড অভিনেত্রী অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। পরিদর্শন শেষে মঙ্গলবার বিকালে উখিয়ার কুতুপালং মধুরছড়া ক্যাম্প-৫ এ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলে জেনেছি মিয়ানমারে অসংখ্য নারী-পুরুষ সেনা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন।

এখনও তাদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো উপযুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি হয়নি। তারা জানিয়েছেন, হয় তাদের বাংলাদেশে রাখা হোক, না হয় গুলি করে মেরে ফেলা হোক।

তিনি বলেন, ‘এখন সবার দায়িত্ব হল রাখাইনে যথাযথ নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত যেন তাদের ফেরত না পাঠানো হয়। নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের আশ্রয় ও অন্য সুবিধা দেয়ার জন্য তিনি বাংলাদেশের প্রশংসা করেন এবং বাংলাদেশের পাশে দাঁড়াতে বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানান।

সংখ্যাটা এত বড় যে, একা বাংলাদেশ সামলাতে পারবে না। এ কারণেই সবার সহযোগিতা দরকার। এছাড়া বিশ্ব সম্প্রদায়ের উচিত রোহিঙ্গারা যাতে নিজ দেশে নাগরিকত্ব পেয়ে মর্যাদার সঙ্গে বসবাস করতে পারে সেটি নিশ্চিত করা।’

জোলি বলেন, ‘নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের আগস্টের পর ৭ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। এখনও মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গারা আসছে। বাংলাদেশ উদার হস্তে এসব রোহিঙ্গাদের গ্রহণ করে নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা করছে, যা খুবই তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় এবং মানবতার জন্য অনন্য এক দৃষ্টান্ত।’

তিনি বলেন,‘ মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গারা খুবই অসহায়। এইসব মানুষ শুধু বাস্তুচ্যুতই হয়নি। তারা এখন রাষ্ট্রবিহীন জনগোষ্ঠী। মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গাদের নাগরিকত্বসহ অন্যান্য মৌলিক অধিকারকে অগ্রাহ্য করছে।’

প্রেস ব্রিফিংয়ে জোলি রাখাইনে রোহিঙ্গাসহ সব সম্প্রদায়ের অবস্থা উন্নয়নে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষের সদিচ্ছা প্রকাশের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘যারা মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে তাদের অবশ্যই নিজ কাজের জন্য জবাবদিহি করতে হবে।’

রাখাইন এডভাইজরি কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন এবং ইউএনএইচসিআর ও অন্যদের একসঙ্গে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করে অস্কার বিজয়ী এই হলিউড তারকা বলেন, ‘তবে এই সময় রোহিঙ্গারা মিয়ানমার ফিরতে পারে না।’

প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ সফরে এসেছেন জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী। জাতিসংঘের শুভেচ্ছা দূত হয়ে রোহিঙ্গাদের অবস্থা দেখতে তিনি এসেছেন। কক্সবাজারে উখিয়া ও টেকনাফে নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতি দেখার পর তিনি ঢাকা চলে যান। এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

রোহিঙ্গা শরণার্থীদের দেখতে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কুতুপালং ট্রানজিট ক্যাম্পে পৌঁছেন জোলি। এরপর কুতুপালং এক্সটেনশন-৪ ক্যাম্প ও সেখানকার শিক্ষা কেন্দ্রগুলো পরিদর্শন করেন তিনি।

পরে কুতুপালং ৩ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের রিলিফ ইন্টারন্যাশনাল পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র পরিদর্শন করেন জোলি। এ সময় নির্যাতিত রোহিঙ্গা নারীদের দুর্দশার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন তিনি। দুপুর দেড়টার দিকে কুতুপালং ৪ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পে হোপ ফাউন্ডেশন পরিচালিত হাসপাতাল পরিদর্শন করে ক্যাম্প ১৭-তে ক্যাম্প ইনচার্জ ও এনজিও আইএনজি কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন জোলি।

বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে কুতুপালং মধুরছড়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৫ এ প্রেস ব্রিফিংয়ে যোগ দেন তিনি। ব্রিফিং শেষে বিকাল ৫টার দিকে কক্সবাজারের উদ্দেশে রওনা হন। তার দীর্ঘ সময় ক্যাম্প পরিদর্শনকালে গণমাধ্যমকর্মীদের পাশে যেতে বা ছবি তুলতে দেননি ইউএনএইচসিআরের কর্তাব্যক্তিরা।

এর আগে সোমবার কক্সবাজার পৌঁছে সরাসরি উখিয়ার ইনানী রয়েল টিউলিপে হোটেলে ওঠেন জোলি। সেখান থেকে টেকনাফ চাকমারকূল রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান। সেখানে তিনি রোহিঙ্গা নারী, পুরুষের কাছ থেকে নির্যাতনের বর্ণনা শোনেন। রোহিঙ্গা শিশুদের নিয়ে কিছুক্ষণ খেলাও করেন তিনি।

ঘটনাপ্রবাহ : রোহিঙ্গা বর্বরতা

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×