গুলশানে বাড়ি দখল

ভূমি কুতুবসহ দু’জনের বিরুদ্ধে দুদকের চার্জশিট

  যুগান্তর রিপোর্ট ১০ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কুতুব,

রাজধানীর গুলশানে ১০ কাঠা জমিসহ একটি বাড়ি অবৈধভাবে দখলের অভিযোগে ভূমি কুতুবখ্যাত ভূমি মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (পিও) কুতুব উদ্দিন আহমেদসহ দু’জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট অনুমোদন করেছে দুদক। বৃহস্পতিবার কমিশন সভায় এ অনুমোদন দেয়া হয়। আজ আদালতে দুজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করবেন তদন্তকারী কর্মকর্তা। চার্জশিটভুক্ত অপর আসামি হলেন- মো. নাজমুল ইসলাম সাঈদ। তিনি মগবাজারের মীরবাগের বাসিন্দা।

অর্থের বিনিময়ে নাজমুল ইসলাম সাঈদকে ভুয়া মালিক সাজিয়ে গুলশানে রাজউকের ১০ কাঠার একটি প্লট পাইয়ে দেয়ার নামে নিজের শ্বশুরের নামে দখলের অভিযোগে গত বছরের ৮ জুন কুতুব উদ্দিনসহ দু’জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল দুদক। মামলার আসামি হিসেবে গ্রেফতার হয়ে জেলেও যান তিনি। পরে জামিন পান। দুদকের উপ-পরিচালক মির্জা জাহিদুল আলম মামলাটি তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে কমিশনে চার্জশিট দাখিলের সুপারিশ করেন।

চার্জশিটে আনা অভিযোগে বলা হয়, কুতুব উদ্দিন একজন পাবলিক সার্ভেন্ট হিসেবে অসৎ উদ্দেশ্যে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা, অপরাধজনক বিশ্বাসভঙ্গ ও ক্ষমতার অপব্যবহারের আশ্রয় নেন। প্রকৃত মালিক না হওয়া সত্ত্বেও নাজমুল ইসলাম সাঈদকে মালিকের প্রতিনিধি হিসেবে ভুয়া আমমোক্তার সাজিয়ে গুলশান সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মাধ্যমে গুলশানে ১০ কাঠা জমির প্লটটি দখল করেন। এমনকি বাড়িও করেন। ওই প্লটটির অবস্থান গুলশান ১ নম্বরের ২০/এ নং রোডে (প্লট নং ২০)। যার বর্তমান বাজার মূল্য ৫০ কোটি টাকারও বেশি।

দুদকের অভিযোগে বলা হয়, গুলশান ১-এর ১ নম্বর রোডের ২০ নম্বর বাড়িটি পরস্পর যোগসাজশে আত্মসাৎ করেন কুতুব উদ্দিন। ১০ কাঠার ওপর বাড়িটির দলিলে শ্বশুর আবদুল জলিল মৃধার নাম থাকলেও প্রকৃত মালিক কুতুব উদ্দিন। ভূমি মন্ত্রণালয়ের ক্ষমতা দেখিয়ে ও অবৈধ প্রভাব খাটিয়ে কৌশলে গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে রাজউকের হুকুম দখল করা সম্পত্তি অবমুক্ত করা হয়। এরপর সাঈদকে জমির ভুয়া আমমোক্তার সাজিয়ে শ্বশুরসহ আরও দু’জনকে ক্রেতা সাজিয়ে জমিটি আত্মসাৎ করা হয়।

এতে আরও বলা হয়, শ্বশুরের নামে জমিটি ক্রয় দেখানো হলেও তিনি কখনও জমি ভোগ করেননি বা সেখানে বসবাস করেননি। কুতুবই জমিটি দখলে রেখেছেন। এমনকি সপরিবারে তিনি সেখানে বসবাসও করছেন। এ জমির অপর ক্রেতা হিসেবে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক ডা. একেএম আনোয়ার উল্লাহ ও তার স্ত্রী অধ্যাপক ডা. সামসুন্নাহারের নাম থাকলেও তারা ওই জমি ভোগদখল করেননি। এমনকি জমিটি তাদের দখলেও নেই। কুতুব কম দামে গুলশানে জমি কিনে দেয়ার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দলিলে ক্রেতা হিসেবে নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।

অপরদিকে এ জমির কথিত আমমোক্তার নাজমুল ইসলাম সাঈদ রাজউকের সম্পত্তি জানা সত্ত্বেও মো. কুতুব উদ্দিনের সঙ্গে যোগসাজশে ভুয়া মালিক তথা ভুয়া আমমোক্তার বলে বিক্রেতা সেজে জমি বিক্রয় দেখিয়ে তা আত্মসাতে সহায়তা করেন। এ জমি আত্মসাৎ প্রক্রিয়ায় আসামি কুতুব উদ্দিন ওরফে ভূমি কুতুবের শ্বশুর সহযোগী হিসেবে জড়িত থাকেলেও তার শ্বশুর ইতিমধ্যে মৃত্যুবরণ করায় তাকে চার্জশিটভুক্ত আসামি থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×