বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

বিদেশি ঋণ পরিশোধে বিলম্ব: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে

স্যাটেলাইট সেবা বিতরণ কার্যক্রম তদারকির জন্য কমিটি গঠন

  মিজান চৌধুরী ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিদেশি ঋণ পরিশোধে বিলম্ব: দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। ফাইল ছবি

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর জন্য নেয়া বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিলম্বের জন্য দায়ীদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। গৃহীত পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ করণীয় প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করতেও বলা হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট প্রকল্পের জন্য ফ্রান্সের এইচএসবিসির ঋণ নেয়া হয়েছে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে প্রথম কিস্তি পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বাংলাদেশ।

জানতে চাইলে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্পের পরিচালক মেসবাহুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, ঋণের কিস্তি পরিশোধে বিলম্ব হয়েছিল। পরে তা পরিশোধ করে দেয়া হয়েছে।

বিলম্বে ঋণের কিস্তি পরিশোধে দেশের আর্থিক ক্ষতি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে তেমন আর্থিক ক্ষতি হয়নি। এ প্রকল্পের মেয়াদ গত ৩১ ডিসেম্বর শেষ হয়েছে। এরপর কোম্পানি গঠন করা হয়েছে। কোম্পানি এখন সবকিছু দেখছে।

জানা গেছে, দেশের যোগাযোগ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সেবা প্রদান প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বিবেচনা করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ কমিশন দেশে প্রথম নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের উদ্যোগ গ্রহণ করে। এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয় ২ হাজার ৯৬৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে বিদেশি ঋণ হচ্ছে ১ হাজার ৬৫২ কোটি টাকা। এ টাকা সংগ্রহ করা হয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠান এইচএসবিসি ফ্রান্স থেকে।

নমনীয় শর্তে সেখান থেকে ১৫ কোটি ৭০ লাখ ইউরো বা দেশীয় মুদ্রায় ১ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা নেয়া হয় (১ ইউরো সমান ৯৮.৩২ টাকা)। এ ঋণের বিপরীতে দেশের অর্থ বিভাগ রাষ্ট্রীয় গ্যারান্টি দিয়েছে।

এ ঋণের প্রথম কিস্তি পরিশোধের মেয়াদ ছিল গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে তা পরিশোধ করা হয়নি। এ নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি হয়। বিষয়টি গত বছরের নভেম্বরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ প্রকল্প অর্থায়নের বিপরীতে গ্যারান্টির হালনাগাদ অবস্থা পর্যালোচনা’ সংক্রান্ত বৈঠকে তুলে ধরা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠকের কার্যবিবরণীতে উল্লেখিত ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ্যসচিব তার বক্তব্যে বলেন, ‘ঋণের কিস্তি বিলম্বিত হওয়ার কারণে আরোপিত দণ্ডসুদ পরিশোধ করতে হয়েছে। এতে সরকারের এনটিআর সমপরিমাণে হ্রাস পেয়েছে। এতে দেশ এবং সরকারের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে।

বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা ঘটেছে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়। সময়মতো ঋণ পরিশোধ করলে সরকার এহেন আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতো না।’ তিনি সভায় সরকারের আর্থিক ক্ষতির জন্য এবং দায়দায়িত্বহীনতার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করে যত্নবান হওয়ার পরামর্শ দেন।

সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনার বিষয়ে প্রকল্পের প্রিন্সিপাল অ্যাকাউন্টিং অফিসার হিসেবে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব শ্যামসুন্দর সিকদারের (বর্তমান অবসর) কাছে জানতে চাওয়া হয় বৈঠকে।

তিনি জানান, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বিটিআরসির সঙ্গে এইচএসবিসির চুক্তি স্বাক্ষর হয়। ঋণ চুক্তির কপি বিটিআরসি সংক্ষরণ করেনি। এটি স্যাটেলাইট প্রকল্পের পরিচালকের কাছে সংরক্ষিত আছে। ফলে ঋণ পরিশোধের নির্ধারিত সময়ের আগে কোনো ধরনের প্রস্তাব প্রকল্প থেকে পাঠানো হয়নি। যে কারণে এ জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ঋণ চুক্তির কপি প্রকল্প পরিচালকের কাছে থাকায় ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগের দৃষ্টির বাইরে ছিল। তবে যথাসময়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধের ব্যর্থতার বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে অর্থ বিভাগ ও বিটিআরসির সঙ্গে আলোচনা করা হয়। পরবর্তীতে নিবিড় তদারকির মাধ্যমে ১৯ অক্টোবর ঋণ পরিশোধ করা হয়।

সূত্র জানায়, ওই বৈঠকে ভবিষ্যতে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ এর ঋণের কিস্তি পরিশোধের বিষয়টি নিশ্চিত করতে নির্দেশ দেয়া হয়। পাশাপাশি স্যাটেলাইট থেকে সেবা বিতরণের কার্যক্রম তদারকি ও পরামর্শ দেয়ার জন্য কমিটি গঠন করা হয়।

ওই কমিটির সদস্য সচিব হচ্ছেন বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেডের (বিসিএসসিএল) ব্যবস্থাপনা পরিচালক।

সদস্যরা হলেন- প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, তথ্য সচিব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সচিব, অর্থ সচিব, বিটিআরসির চেয়ারম্যান ও বিসিএসসিএল চেয়ারম্যান। এ কমিটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টার সঙ্গে পরামর্শ করে কার্যক্রম গ্রহণের জন্য বিসিএসসিএলকে নির্দেশ দিতে পারবে।

জানা গেছে, বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১ পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ কমিউনিকেশন স্যাটেলাইট কোম্পানি লিমিটেড গঠন করা হয়েছে। ৫ হাজার কোটি টাকার অনুমোদিত মূলধন নিয়ে এ কোম্পানি গঠন হয়। এছাড়া ৫০০ কোটি শেয়ার হবে, যার প্রত্যেকটির মূল্য হবে ১০ টাকা। কোম্পানি পরিচালনার জন্য ১১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর চেয়ারম্যান হচ্ছেন ডাক ও টেলিযোগাযোগের সচিব।

উল্লেখ্য, যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস এক্স ও ফ্যালকন-৯ উৎক্ষেপণ যান ব্যবহার করে ফ্লোরিডার লঞ্চ প্যাড থেকে ২০১৮ সালের মে মাসে উপগ্রহটি উৎক্ষেপণ করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মহাকাশে বিশ্বের ৫৭তম দেশ হিসেবে নিজস্ব স্যাটেলাইটের মালিক হয়েছে বাংলাদেশ।

ঘটনাপ্রবাহ : বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×