সংসদে আইনমন্ত্রী

জামায়াতের বিচারে আইনের সংশোধনী মন্ত্রিসভায় যাবে

  সংসদ রিপোর্টার ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

জামায়াতের বিচারে আইনের সংশোধনী মন্ত্রিসভায় যাবে
ফাইল ছবি

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক বলেছেন, দল হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করতে এটি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানো হবে।

আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে বলেও তিনি জানান। জাতীয় সংসদে সরকারি দলের ওয়ারেসাত হোসেন বেলালের এক প্রশ্নের উত্তরে রোববার আইনমন্ত্রী একথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, জামায়াত ১৯৭১ সালে রাজনৈতিকভাবে দৃঢ় ও প্রকাশ্য অবস্থান নিয়ে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিল। বর্তমান সরকার সব সময়ই আইনের শাসনে বিশ্বাসী।

সরকার এ দেশের মাটিতেই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করে জাতিকে কলঙ্কমুক্ত করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে যুদ্ধাপরাধীদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলার রায়ে আদালত জামায়াত দল হিসেবে যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিল মর্মে উল্লেখ করেছেন।

তিনি বলেন, গত বছরের ২৮ অক্টোবর নির্বাচন কমিশন জামায়াতের নিবন্ধন বাতিল করে প্রজ্ঞাপন জারি করে। দল হিসেবে জামায়াতের বিচার প্রক্রিয়ার জন্য ইতিমধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী তৈরি করে মন্ত্রিপরিষদে পাঠানো হয়েছিল।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা নিয়ে পুনরায় ওই সংশোধনী মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠানোর উদ্যোগ নেয়া হবে, যাতে এটি মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা যায়। আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যমেই বিষয়টি নিষ্পত্তি করা হবে।

মাদক মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তিতে আইন আসছে : ৬ মাসের মধ্যে মাদক মামলা নিষ্পত্তি করতে সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনের দেয়া নির্দেশনা বাস্তবায়নে উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানালেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

রোববার জাতীয় সংসদে প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, সুপ্রিমকোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশন একটি রায় দিয়েছেন মাদক মামলা ৬ মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হবে।

এটা করতে হলে আইনে কিছু সংশোধনী আনতে হবে। তাই এ অধিবেশনেই আইনের সংশোধনী প্রস্তাব উপস্থাপন করা হবে। যাতে হাইকোর্টের নির্দেশনা মেনে ৬ মাসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি করতে পারি। কাজী ফিরোজ রশীদের এ সম্পর্কিত এক সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, মাদকের ব্যাপারে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি।

প্রধানমন্ত্রীর সেই ঘোষণা মনে রেখে আমরা মাদক মামলাগুলো যে মুহূর্তে তদন্ত শেষ করে কোর্টে আসছে, তখনই মামলা শুরু করে দেয়ার চেষ্টা করছি। মন্ত্রী বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলায় সাক্ষী না আসার কারণে অনেক সময় মামলা এগোতে পারে না।

এ ব্যাপারে আইনে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। কিভাবে সাক্ষীকে উপস্থাপন করা যায় যাতে সে হুমকিতে না পড়ে, মামলাগুলো তাড়াতাড়ি চালানো যায়, সে রকম ব্যবস্থা নিচ্ছি। শহিদুজ্জামান সরকার ও ইসরাফিল আলমের পৃথক দুটি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী জানান, পুরনো মামলা বিশেষ করে যেগুলো ৩০ বছর জমে ছিল সেগুলো আগে যেন শেষ করা হয় সে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এজলাস সংকট অন্যতম প্রতিবন্ধকতা : এম আবদুল লতিফের প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, মামলা দ্রুত বিচার ও নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে অন্যতম একটি প্রতিবন্ধকতা হল এজলাস সংকট। এজলাস স্বল্পতা দূর করে সর্বোচ্চ কর্মঘণ্টা ব্যবহার করে বিচার কাজে গতিশীলতা আনয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।

দেশের ৬৪ জেলা সদরে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবন নির্মাণ (১ম পর্যায়) (২য় সংশোধিত) শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে ৩৮টি জেলায় ভবন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছে। এর মধ্যে ২৪টি জেলায় ভবন নির্মাণ শেষে বিচারিক কার্যক্রম চলছে। বাকি ১৪টি জেলার নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে।

একই প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, বর্তমানে মামলা ব্যবস্থাপনায় বিশেষ নজর দেয়া হয়েছে। পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকারভিত্তিতে নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সমন জারি নিশ্চিত করে সাক্ষীদের হাজির করে দ্রুত সাক্ষ্য গ্রহণের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

চার্জশিটে ডাক্তার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তার মোবাইল ফোন নম্বর দেয়ার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে, যাতে সাক্ষ্য গ্রহণ সহজতর হয়। পুরাতন মামলাগুলো অগ্রাধিকার নিষ্পত্তির লক্ষ্যে সলিসিটরের নেতৃত্বে মনিটরিং সেল কাজ করছে। এছাড়া প্রতিটি জেলায় কেস ম্যানেজমেন্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

নকলনবিসদের চাকরি রাজস্ব খাতে ন্যস্ত করার পরিকল্পনা : একেএম রহমতুল্লাহর এক প্রশ্নের উত্তরে আইনমন্ত্রী জানান, সাবরেজিস্ট্রি অফিসে কর্মরত নকলনবিসদের চাকরি রাজস্ব খাতে ন্যস্ত করার পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে।

নিবন্ধন অধিদফতরের অধীন সাবরেজিস্ট্রার ও জেলা রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে কর্মরত প্রায় ১৫ হাজার নকলনবিসের চাকরি স্কেলভুক্ত/স্থায়ীকরণ বিষয়ে আইন ও বিচার বিভাগের যুগ্ম সচিবের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় সুপারিশ করা হয়েছিল। সুপারিশগুলো জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।

সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ৩৬ হাজার পদ শূন্য : সরকারি চাকরিতে ৩ লাখ ৩৬ হাজার ৭৪৬টি পদ খালি রয়েছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। তিনি বলেছেন, শূন্যপদ পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

৩৭তম বিসিএসের মাধ্যমে বিভিন্ন ক্যাডারে ১ হাজার ২৮৯টি পদে নিয়োগের লক্ষ্যে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকমিশন সুপারিশ করেছে। শামসুল হক টুকুর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, প্রাকচাকরি বৃত্তান্ত যাচাই প্রতিবেদন, মুক্তিযোদ্ধা সনদ যাচাই ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর চূড়ান্ত নিয়োগ করা হবে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ৩৮, ৩৯ ও ৪০তম বিসিএসের মাধ্যমে যথাক্রমে ২ হাজার ২৪, ৪ হাজার ৭৯২ ও ১৯০৩- মোট ৮ হাজার ৭১৯টি বিভিন্ন ক্যাডারের শূন্য পদে নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এছাড়া আদালতে মামলা থাকায়, নিয়োগবিধি কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় এবং পদোন্নতি যোগ্য প্রার্থী না পাওয়ায় কিছু শূন্য পদ পূরণ করা যায় না বলেও তিনি জানান।

আনোয়ারুল আজীমের এক প্রশ্নের উত্তরে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ৮৫৪টি পদ শূন্য রয়েছে। তিনি বলেন, শূন্য পদ পূরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

ডা. রুস্তম আলী ফরাজীর এক প্রশ্নের উত্তরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, চলতি বছরে বর্তমান সময় পর্যন্ত দেশে কর্মরত সিনিয়র সচিব, সচিব, অতিরিক্ত সচিব, যুগ্ম-সচিব, উপসচিব, সিনিয়র সহকারী সচিবসহ কর্মকর্তাদের মোট সংখ্যা ৪ হাজার ৪৯৬ জন। এর মধ্যে ডেপুটেশনে রয়েছেন ১ হাজার ৩৪১ জন।

১৪ লাখ ২০ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র : ভোলার নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের উত্তরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী আশরাফ আলী খান খসরু জানান, জেলেদের নিবন্ধন ও পরিচয় প্রদান প্রকল্পের আওতায় (জুন ২০১৭) ১৬ লাখ ২০ হাজার মৎস্যজীবী-জেলের নিবন্ধন ও ডাটাবেজ প্রস্তত হয়েছে এবং ১৪ লাখ ২০ হাজার জেলেকে পরিচয়পত্র দেয়া হয়েছে।

তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের চেষ্টা অব্যাহত : এম আবদুল লতিফের এক প্রশ্নের উত্তরে পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী জাহিদ ফারুক জানান, ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। ২০১১ সালে তিস্তা নদীর অন্তর্বর্তীকালীন পানিবণ্টন চুক্তির ফ্রেমওয়ার্ক চূড়ান্ত করা হয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অচিরেই সমতা, ন্যায়ানুগতা ও পারস্পরিক ক্ষতি না করার নীতির ভিত্তিতে তিস্তা নদীর পানিবণ্টন চুক্তি সম্পাদন হবে।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×