অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

বারবার রবীন্দ্রনাথ ফিরে আসেন

  হক ফারুক আহমেদ ১২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বইমেলা

বাঙালির জীবনে রবীন্দ্রনাথ কখনই পুরনো নন। তিনি বারবার ফিরে আসেন। নতুন ভাবনায়, নতুনের লেখায়, তার দর্শনের বিশ্লেষণে, ভাষার বিশ্লেষণে, জীবনকথায়, বিষয়ভিত্তিক অভীক্ষায় আর কত কি।

বইমেলার প্রায় প্রতিটি প্যাভিলিয়ন ও স্টল ঘুরলে দেখা যায়, সেখানে শুধু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তার রচনাবলি নিয়ে উপস্থিত নন, তাকে নিয়ে নানাভাবে লিখেছেন এমন বই শোভা পাচ্ছে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে লেখক, পাঠক, গবেষক, প্রকাশকরা নতুনভাবে আবিষ্কার করছে। শুধু তাই নয়, প্রচ্ছদ শিল্পীর ছোঁয়ায় রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের পুরনো গল্প বা উপন্যাসের বইগুলোও দেখে মনে হয় তিনি বুঝি নতুনভাবে ধরা দিলেন।

অবসর প্রকাশনীতে বসে ছিলেন প্রকাশনা জগতের অন্যতম বিজ্ঞজন ও প্রকাশনাটির স্বত্বাধিকারী আলমগীর রহমান। তিনি বললেন, পাঠক মূলত দ্ইু ধরনের, যার একটি অংশ বর্তমান সময়ের লেখা পড়েন। আরেক শ্রেণীর পাঠক এখনও ‘কাসিক্যাল’ সাহিত্য পাঠ করেন।

তাই তাদের কাছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও প্রিয় পাঠ। এদিক থেকে বললে আমরা কিন্তু এখনও এই ক্লাসিক্যাল সাহিত্যের ওপর জোর দেই। শুধু তাই নয়, আজও রবীন্দ্রনাথ অনেক বেশি প্রাসঙ্গিক বলেই তাকে নিয়ে নানাভাবে লেখা বইগুলো আমরা প্রকাশ করি।

কেউ যদি শুধু বাংলা একাডেমির বইয়ের তালিকাটি নিয়ে নাড়াচাড়া করে দেখেন, তাহলেও দেখবেন সেখানে একটি বিশেষ অংশ আছে রবীন্দ্রবিষয়ক বই নিয়ে। যেখানে রবীন্দ্রকাব্যে লোক উপাদান, সাধারণ মানুষ, গীতিনৃত্য, রবীন্দ্র নাট্যসঙ্গীত, রবীন্দ্রনাথের লেখা চিঠি, বিজ্ঞানচেতনা, গ্রামোন্নয়ন, শিক্ষাদর্শন, দর্শন, বোধ, আধুনিকতা নিয়ে রবীন্দ্রনাথ, তার উপন্যাসে নারী জীবন এমন অজস্র বিষয় খুঁজে পাবেন।

শুধু বাংলা একাডেমি নয়, মেলায় প্রায় অনেক প্রকাশনার প্যাভিলিয়ন ও স্টলে রবীন্দ্র রচনায় পাশাপাশি রবীন্দ্রনাথ বিষয়ক নানা গ্রন্থ পাওয়া যাচ্ছে। এমন লেখকরা এখনও নানা দৃষ্টিকোণ থেকে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে তুলে আনছেন। বইয়ের ক্যাটালগ খুললেই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর বিষয়ক কোনো না কোনো বই পাওয়া যাবেই।

এমনকি শিশু ও কিশোরদের উপযোগী রবীন্দ্রবিষয়ক বইও মেলায় এখনও রয়েছে প্রচুর ও নতুন করে আসছে। এদিকে সোমবার মেলায় লোকসমাগম ছিল অন্যান্য দিনের চেয়ে তুলনামূলক কিছুটা কম।

বিকালে বাঙ্গালা গবেষণার স্টলে একসঙ্গে ১০টি বইয়ের প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। বইগুলো মূলত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৭৫ সালের বাংলা বিভাগের ব্যাচের শিক্ষার্থীদের লেখা বই। যারা এখন নানা অঙ্গনে প্রথিতযশা মানুষ। এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক এবং যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলম।

আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেন, বইমেলা আমাদের এক আনন্দের জায়গা। এ একটি আয়োজনের কারণে আমাদের বাংলা চর্চা এখনও টিকে আছে। দেশের নানা অঙ্গনের মানুষ তাদের ছেলেমেয়েদের বিদেশে পাঠান, তারা বিদেশি ভাষায় লেখাপড়া করে। কিন্তু আমাদের চিন্তার বিকাশে বাংলা নিয়ে এগিয়ে যেতেই হবে। বাঙ্গালা গবেষণায় যারা লিখছেন তারা আমার ছাত্রছাত্রী। তারা বাংলা ভাষায় নানা বিষয়ে লিখছেন আমাদেরকে সমৃদ্ধ করতে।

সাইফুল আলম বলেন, কালের বহমানতায় বাঙালি সংস্কৃতি আজ এক উচ্চ আসনে অধীন। আমাদের ভাষার চেতনায় লালিত বইমেলা এখন এক উৎসব। আমরা আমাদের বাংলা ভাষাকে নিয়ে চর্চা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় এখানে এসে পাই।

বাঙ্গালা গবেষণা থেকে এদিন বদরুদ্দীন উমরের ‘সমাজতন্ত্র অনিবার্য ভবিষ্যত’, সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর ‘রাজনীতির বাইরে নয়’ ও ‘নজরুল ইসলামের সাহিত্যজীবন’, দিলরুবা জলিল শাহিনের ‘চক্কর’, রীনা রায়হানের ‘ওগো নিঠুর দরদী’, আফজালুল বাসারের ‘আহসানের ছড়া ও গান’, নাজমা জেসমিন চৌধুরীর ‘সাহিত্যে সামাজিকতা’, কোয়েল তালুকদারের ‘মহুয়াবনে’, বদরুদ্দীন উমরের ‘ভারত প্রসঙ্গ’ ও মোহাম্মদ আবু তালেবের ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের ভাষ্য’ বইগুলোর প্রকাশনা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগের তথ্যমতে, সোমবার একাদশ দিনে মেলায় নতুন বই এসেছে ১২৮টি। এদিনের উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শ্রেষ্ঠ অতিপ্রাকৃত গল্প, অবসর থেকে তপন চক্রবর্তীর ‘বিজ্ঞানমনস্ক রবীন্দ্রনাথ’, সময় প্রকাশন থেকে বের হয়েছে সৈয়দ শামসুল হকের নাটক ফজল শেখের শেষ ম্যাজিক ও অন্যান্য, চিলড্রেন বুক কালেকশন এনেছে আনিসুল হকের ‘গুড্ডু বুড়ার নতুন বোকামি তারপর, কথাপ্রকাশ এনেছে সিরাজুল ইসলাম চৌধুরীর প্রবন্ধ গণতন্ত্রের অভিমুখে।

মূল মঞ্চের আয়োজন : বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় নৃত্যাচার্য বুলবুল চৌধুরী : জন্মশতবর্ষ শ্রদ্ধাঞ্জলি শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অনুপম হায়াৎ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আমানুল হক, লুভা নাহিদ চৌধুরী ও শিবলী মহম্মদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কামাল লোহানী।

কামাল লোহানী বলেন, বুলবুল চৌধুরী নৃত্যের পাশাপাশি প্রাচী নামের উপন্যাস লিখে বাংলা সাহিত্যে যোগ করেছেন নতুন মাত্রা। তার নৃত্য কেবল প্রায়োগিক শিল্পকলা নয়, একই সঙ্গে সমস্ত অসুন্দর ও কলুষতার বিরুদ্ধে জোর প্রতিবাদের নাম।

এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন- হোসেন উদ্দীন হোসেন, হাবিব আনিসুর রহমান, ড. তাশরিক-ই-হাবিব, মশিউল আলম ও শিহাব শাহরিয়ার।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন গোলাম কিবরিয়া পিনু এবং চঞ্চল আশরাফ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন গোলাম সারোয়ার ও মু. আহসান উল্লাহ ইমাম খান তমাল। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী চন্দনা মজুমদার, শফিমণ্ডল, সেলিম চৌধুরী, পাগলা বাবুল, রুশিয়া খানম ও কোহিনুর আকতার গোলাপী।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×