এডিপি শতভাগ বাস্তবায়নই সরকারের চ্যালেঞ্জ

বিশেষ নির্দেশনা দিতে রোববার সব সচিবকে ডেকেছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় * ৭ মাস পরও ৬ মন্ত্রণালয়-বিভাগের এডিপি বাস্তবায়ন ১৫ শতাংশের নিচে * অর্থ মন্ত্রণালয়ের বরাদ্দের অপেক্ষায় স্থবির এডিপি সংশোধন কার্যক্রম

  হামিদ-উজ-জামান ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)
বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি)

উন্নয়নের পক্ষে সমর্থন দিয়ে দেশের মানুষ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগকে টানা তৃতীয়বারের মতো নির্বাচিত করেছে। তাই উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে বাস্তবায়নে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এক্ষেত্রে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) শতভাগ বাস্তবায়নই সরকারের জন্য চ্যালেঞ্জ। কারণ এর আগে এডিপির শতভাগ বাস্তবায়নের নজির নেই বললেই চলে।

এ অবস্থায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড সঠিকভাবে বাস্তবায়নের তদারককারী হিসেবে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় রোববার সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সচিবদের নিয়ে একটি আন্তঃমন্ত্রণালয় সভা ডেকেছে।

রাজধানীর শেরেবাংলা নগরের এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ সভায় পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নানের সভাপতিত্বে এডিপির অগ্রগতি পর্যালোচনার পাশাপাশি শতভাগ এডিপি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেয়া হবে।

পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) জানায়, গত ৫ বছরের সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার হচ্ছে- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৪ দশমিক ০২ শতাংশ, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে ৮৯ দশমিক ৭৬ শতাংশ, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে ৯৩ শতাংশ, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৯১ শতাংশ এবং ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৯৩ শতাংশ। এ পরিপ্রেক্ষিতে চলতি অর্থবছরে এপিডির শতভাগ বাস্তবায়নেই বিশেষ জোর দিচ্ছেন পরিকল্পনামন্ত্রী।

সূত্র জানায়, ৪ ফেব্রুয়ারি পরিকল্পনা কমিশনের কার্যক্রম বিভাগ থেকে আন্তঃমন্ত্রণালয় সভার জন্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এতে মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিবদের ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকতে অনুরোধ জানানো হয়েছে। কেননা অনেক সময় সচিব পর্যায়ের কর্মকর্তারা তাদের প্রতিনিধি পাঠিয়ে থাকেন। সেটি যাতে এবার না হয় সেজন্যই ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার জন্য এ অনুরোধ।

এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে এর আগে পরিকল্পনামন্ত্রী যুগান্তরকে বলেছিলেন, শুধু হারের দিক থেকে এডিপি বাস্তবায়নের পক্ষে নই। আমি চাই মানসম্মতভাবে প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নের মাধ্যমে এডিপির বাস্তবায়ন হোক।

চলতি অর্থবছরে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকার এডিপি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর মধ্যে ৭ মাস (জুলাই-জানুয়ারি) পেরিয়ে গেলেও এখনও ১৫ শতাংশের নিচে এডিপি বাস্তবায়নের হার রয়েছে ৬টি মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার। তবে সার্বিকভাবে গত অর্থবছরের একই সময়ে তুলনায় এডিপি বাস্তবায়নের হার কিছুটা বেড়েছে।

এ সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছে ৬২ হাজার ২৮২ কোটি টাকা। এডিপি বাস্তবায়নের হার দাঁড়িয়েছে ৩৪ দশমিক ৪৩ শতাংশ। গত অর্থবছর একই সময়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো ব্যয় করতে পেরেছিল ৫৪ হাজার ৭১৫ কোটি টাকা, বাস্তবায়নের হার ছিল ৩৩ দশমিক ৩৫ শতাংশ।

এডিপি বাস্তবায়নে পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলো হচ্ছে- জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২ দশমিক ২৫ শতাংশ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ ২ দশমিক ০৩ শতাংশ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ১০ দশমিক ২৩ শতাংশ, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ ৪ দশমিক ০৮ শতাংশ বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় ৭ দশমিক ৪৮ শতাংশ এবং রেলপথ মন্ত্রণালয় ১১ দশমিক ৯১ শতাংশ।

এ অবস্থায় ইতিমধ্যেই এডিপি সংশোধন করে আরএডিপি (সংশোধিত এডিপি) তৈরির কাজ অনেকটাই এগিয়ে নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে বরাদ্দের অপেক্ষায় রয়েছে কার্যক্রম বিভাগ। বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সংশোধিত এডিপির আকার জানায়নি অর্থ মন্ত্রণালয়। ফলে এ কার্যক্রমে স্থবিরতা বিরাজ করছে।

এ প্রসঙ্গে এডিপির তৈরির সঙ্গে যুক্ত একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, অন্যান্য বছর সাধারণত ১৫ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই সংশোধিত এডিপির সিলিং বেঁধে দেয় অর্থ মন্ত্রণালয়। তাছাড়া এ সিলিং নির্ধারণের আগে আমাদের সঙ্গে মৌখিক কিংবা অনানুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা করা হয়। এ অর্থবছর এখনও সেরকম কিছু হয়নি।

এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল মনছুর মো. ফাইজুল্লাহ বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, গত কয়েক মাসে এডিপি বাস্তবায়ন ও অর্থ ব্যয় গত অর্থবছরের তুলনায় সামান্য বেশি। তবে চলতি অর্থবছরের এডিপিতে বরাদ্দও রয়েছে, সেই সঙ্গে প্রকল্প সংখ্যাও বেড়েছে। তারপরও বলা যায়, এখন পর্যন্ত এডিপি বাস্তবায়নের অবস্থা মোটামুটি সন্তোষজনক। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এখন প্রয়োজন মানসম্মত ও নির্দিষ্ট সময়ে প্রকল্পের বাস্তবায়ন এবং নিদিষ্ট ব্যয়ের মধ্যে বাস্তবায়ন। এ তিনটি বিষয়কে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×