শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: চিকিৎসা কার্যক্রম চালু

বেশিরভাগ রোগী ফিরেছেন * তদন্ত প্রতিবেদন আগামীকাল * নিচ তলার ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ থেকে আগুনের সূত্রপাত * এ ঘটনা আমাদের জন্য শিক্ষা -স্বাস্থ্যমন্ত্রী

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু
শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা কার্যক্রম চালু

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যকম চালু হয়েছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর শুক্রবার সকাল থেকে শিশু ওয়ার্ড ছাড়া ১৬টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৫টি ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়। আগুন লাগার কারণে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেয়া রোগীর অনেকেই হাসপাতালে ফিরতে শুরু করেছেন।

এ ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। আগামীকাল তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার সম্ভবনা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

শুক্রবার সকালে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক তার বারিধারার বাসায় জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘এটা একটি দুর্ঘটনা। এ ধরনের দুর্ঘটনা আমরা আশা করি না। তবে এটা আমাদের জন্য শিক্ষণীয়। আমাদের বেশিরভাগ হাসপাতাল পুরাতন। সেখানকার বৈদ্যুতিক লাইন ও সরঞ্জাম কতটা ঝুঁকিপূর্ণ সেটি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাছাড়া হাসপাতালের ফায়ার সেফটির ওপর বিশেষ নজর দিতে হবে।’

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার রাতে আগুন লাগলেও শুক্রবার সকাল থেকেই হাসপাতালের ১৬টি বিভাগের মধ্যে ১৪টি ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। শিশু ওয়ার্ড চালু হতে আরও কিছুটা সময় লাগবে। বিষয়টি জার্মানি সফররত প্রধানমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তিনি হাসপাতালগুলোর ফায়ার সেফটির ওপর গুরুত্বারোপ করতে বলেছেন।

মন্ত্রী জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা খতিয়ে দেখতে ৭ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বাবলু কামার সাহার নেতৃত্বে গঠিত কমিটিতে স্বাস্থ্য অধিদফতর, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, হাসপাতালসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি রয়েছেন।

এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কারণে হাসপাতালের কোনো রোগীর মৃত্যু ঘটেনি বা আহত হননি। আগুন লাগার পর থেকে আমি, মন্ত্রণালয়ের সচিব, অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা রাত পর্যন্ত সেখানে উপস্থিত ছিলাম।’

তদন্ত কমিটির একজন সদস্য যুগান্তরকে জানান, কমিটি ইতিমধ্যে কাজ শুরু করেছে। শুক্রবার বন্ধের দিনেও বিকাল ৫টা পর্যন্ত কমিটি তদন্ত কাজ পরিচালনা করে। এ সময় অগ্নিকাণ্ডের বিভিন্ন ছবি, ভিডিও ফুটেজ সংরক্ষণ করা হয়।

তিনি বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে দেখা গেছে, আগুনের সূত্রপাত হয় হাসপাতালের নিচ তলায় অবস্থিত ফিজিক্যাল মেডিসিন বিভাগ থেকে। সেখান থেকেই স্টোর হয়ে আগুন উপরে ওঠে।

হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. উত্তম বড়ুয়া যুগান্তরকে বলেন, হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ড ছাড়া বাকি সব ওয়ার্ড চালু করা হয়েছে। শিশু ওয়ার্ডটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশি। সেখানে এখানও ধোঁয়ার গন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সেখানে শিশুদের চিকিৎসা দেয়া সম্ভব নয়। ওয়ার্ডটি সংস্কার করে রং করতে হবে। তবে বিকল্পভাবে কিছু শিশুকে অন্য ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অগ্নিকাণ্ডের সময় হাসপাতালে রোগী ছিলেন ১১৭৪ জন। অগ্নিকাণ্ডের কারণে অনেককে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। শুক্রবার বিকালে তাদের অনেকে সোহরাওয়ার্দীতে ফিরে এসেছেন।

এদিকে হাসপাতালের সর্বস্তরের কর্মচারীদের নামে যুগান্তরে একটি লিখিত অভিযোগ পাঠানো হয়েছে। এতে দুর্ঘটনার জন্য গণপূর্তের প্রকৌশলী মো. আমিনুল আসলামকে দায়ী করে তার অপসারণ দাবি করা হয়েছে।

তাদের অভিযোগ- ২০১৭-১৮ অর্থবছরে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বৈদ্যুতিক মেরামতের জন্য আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ হয়। যদি সেই টাকায় ঠিকমতো কাজ হতো তাহলে এ ধরনের ঘটনা ঘটত না।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মামুন মোর্শেদ যুগান্তরকে বলেন, আমিনুল দীর্ঘদিন ধরে এ প্রতিষ্ঠানের কাজ করছেন। তার বিরুদ্ধে যে ধরনের অভিযোগ করা হয়েছে, আমার মনে হয় তা সত্য নয়। তাছাড়া এ হাসপাতালটি গণভবনসংলগ্ন। এখানে কেউ নিজের ইচ্ছামতো কিছু করতে পারেন না।

এদিকে শুক্রবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে এবং কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে জানা যায়, আগুন লাগার পর বিভিন্ন হাসপাতালে স্থানান্তরিত রোগীদের অনেকেই সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ফিরে এসেছেন। এমনকি হাসপাতালের পক্ষ থেকেও তাদের ফিরে আসার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সরেজমিন হাসপাতালের সামনে দাঁড়িয়ে দেখা যায়, কেউ অ্যাম্বুলেন্সে, কেউ সিএনজি বা রিকশায় রোগীদের নিয়ে হাসপাতালে ফিরেছেন। হাসপাতালের আইসিইউ, এনআইসিইউ, অপারেশন থিয়েটার, জরুরি বিভাগ এবং বেশ কয়েকটি ওয়ার্ড চালু হয়েছে। তবে শিশু ও মহিলা ওয়ার্ড ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ড মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় আপাতত শিশুদের ভর্তি করা হচ্ছে না।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×