কো-অর্ডিনেশন কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত

বিনিয়োগ বাড়াতে কর কাঠামো সংস্কার হবে

কোম্পানি আইন সংশোধনের অগ্রগতি প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়কে জানাতে নির্দেশ * সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন চান বিশেষজ্ঞরা

  মিজান চৌধুরী ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনিয়োগ

দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে কর কাঠামো সংস্কারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে প্রাইভেট সেক্টর ডেভেলপমেন্ট পলিসি কো-অর্ডিনেশন কমিটি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ কমিটির বৈঠকে এ সংক্রান্ত আরও কিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

দেশি-বিনিয়োগের বাধা দূর করতে কোম্পানি আইনের সংশোধনের অগ্রগতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয় বৈঠক থেকে। বিদ্যমান কর কাঠামো সংস্কার করে আগামী আমদানি-রফতানি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করতে বলা হয়েছে।

আর বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে বিদেশি কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়ানোর ক্ষেত্রে অনুমতির শর্ত শিথিল করা হয়। এ ছাড়া জাতীয় সিএসআরের খসড়া নীতিমালা, কোম্পানি আইন সংশোধন ও বয়লার অফিসের সক্ষমতা বাড়ানোর অগ্রগতি প্রতিবেদন দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে বলা হয় বৈঠকে। বৈঠকে চা চাষের জন্য ৪ শতাংশ সুদে ঋণ দেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। সেসব দূর করতে না পারলে বিনিয়োগ বাড়বে না। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে বিদেশি বিনিয়োগেও। প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে তাই দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। কো-অর্ডিনেশন কমিটি যেসব সিদ্ধান্ত নিয়েছে, সেগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন হবে- এটাই সবার প্রত্যাশা।

নতুন সরকার গঠনের পর সম্প্রতি এ কমিটির ১২তম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব নজিবুর রহমান। সেখানে বেসরকারি খাত উন্নয়নে কর ব্যবস্থা এবং আমদানি নীতিমালা সংস্কার, কোম্পানি আইন সংশোধন, প্লাস্টিক খাতের মান উন্নয়ন, অপ্রচলিত পণ্যের রফতানি ও বয়লার অফিসের পরিদর্শন সক্ষমতা বাড়ানো, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্যের নীতিমালা, সেচ ও জমি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র জানায়, বৈঠকে নেয়া সিদ্ধান্তগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেয়া হয়। সম্প্রতি এ নির্দেশের কপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে অর্থ বিভাগে পাঠানো হয়েছে।

সূত্র মতে, বেসরকারি ব্যবসাবাণিজ্য সহজ করতে কর ব্যবস্থা সংস্কারের কথা বলা হয়। বিশেষ করে শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলতে ক্যাপিট্যাল মেশিনারিজ আমদানিতে ১ শতাংশ হারে শুল্ক দিতে হয়। তবে কেপিট্যাল মেশিনারিজ এক্সেসরিজ আমদানিতে অধিক হারে শুল্ক দিতে হচ্ছে। বর্তমানে দেশ উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগে অগ্রসর হচ্ছে। বিদ্যমান শুল্কহার বিনিয়োগের বড় বাধা। এ প্রস্তাবে বৈঠকে নন ট্র্যাডিশনাল পণ্যের ক্ষেত্রে মূল্য সংযোজন হার নির্ধারণের অগ্রগতি নতুন আমদানি-রফতানি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দেয় কমিটি।

ব্যাংক খাতসহ সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সিএসআর অর্থ সঠিকভাবে ব্যয় সহজীকরণে খসড়া জাতীয় নীতিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলো তাদের মতামত দিয়েছে। এটি অনুমোদনের সময়সীমার জন্য প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে আগামী এক মাসের মধ্যে জানাতে বলা হয় ওই বৈঠকে।

সারা দেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানে বয়লার রয়েছে ১০ থেকে ১২ হাজার। এসব বয়লার তদারকির জন্য সরকারের পরিদর্শক রয়েছেন কয়েকজন। পরিদর্শকদের সক্ষমতার অভাবে অনেক ত্রুটিপূর্ণ বয়লার দিয়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে কিছু দিন পরপর বয়লার বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে। বয়লারের নিবন্ধন দেয়ার দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থাটির নাম ‘প্রধান বয়লার পরিদর্শকের কার্যালয়’।

ওই বৈঠকে বলা হয় বয়লার অফিসে জনবল বাড়ানোর জন্য শিল্প মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হয় অর্থ মন্ত্রণালয়ে। কিন্তু এখন পর্যন্ত উত্তর পাওয়া যায়নি। এ ক্ষেত্রে বয়লার অফিসে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে অর্থ বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছে কো-অর্ডিনেশন কমিটি।

পাটপণ্য প্রস্তুতের ক্ষেত্রে আগে একটি পণ্যে ৭৫ শতাংশ পাট থাকলে নগদ সহায়তা দেয়া হতো। কিন্তু পাট আইন ২০১৭তে এ শর্ত শিথিল করে ৫০ শতাংশ করা করা হয়েছে। এটি বাস্তবায়ন এবং পাটপণ্য প্রস্তুতকারীদের নগদ সহায়তা দেয়ার অগ্রগতি দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয় বৈঠকে। তবে অর্থ বিভাগের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য চলতি অর্থবছরে পাটখাতের জন্য ভর্তুকি রাখা হয়েছে ৫০০ কোটি টাকা।

পুঁজিবাজারে বিদেশি বিনিয়োগের কোম্পানি তালিকাভুক্ত করতে ৪০ কোটি টাকার পরিশোধিত মূলধন থাকতে হয়। কিন্তু এর বেশি মূলধন বাড়াতে হলে বিএসইসির অনুমোদন প্রয়োজন হয়। কো-অর্ডিনেশন কমিটি বৈঠকে এটি আরও সহজ করার সিদ্ধান্ত নেয়। বলা হয়, এখন থেকে বিদেশি বিনিয়োগে কোম্পানির পরিশোধিত মূলধন ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বাড়াতে বিএসইসির অনুমোদন প্রয়োজন হবে না। এ ছাড়া বিদেশি বিনিয়োগ বাড়াতে অন্যান্য সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়। এদিকে বিনিয়োগের প্রতিবন্ধকতা দূর করতে কোম্পানি আইন (সংশোধন)-২০১৮ মন্ত্রিপরিষদ সভায় পর্যবেক্ষণসহ নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়েছে। কোম্পানি আইন অনুমোদনের সময়সীমা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে অবহিত করতে ওই কমিটি নির্দেশ দিয়েছে। সূত্র জানায়, উল্লিখিত বিষয় ছাড়াও প্লাস্টিক খাত উন্নয়নে ইডিএফ থেকে ঋণ নেয়ার সীমা বাড়ানোর ব্যাপারে একমত পোষণ করা হয়। এ ছাড়া এ খাত থেকে বর্জ্য প্রক্রিয়াজাতের জন্য প্লান্ট স্থাপন করতে গ্রিন ট্রান্সফরমেশন ফান্ডের আওতাভুক্ত করার অগ্রগতি প্রতিবেদনও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে পাঠাতে বলা হয়েছে।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×