ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন

সরকারবিরোধী সংগঠনগুলো হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র দাবিতে একাট্টা

দাবি আদায়ে ভিসি কার্যালয় ঘেরাও কাল * গণভোটের প্রস্তাব শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চের

  মাহমুদুল হাসান নয়ন ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ডাকসু

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোটকেন্দ্র হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করার দাবিতে এখনও অনড় সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো। নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলেও এ দাবিতে একাট্টা অবস্থান তাদের।

এ অবস্থায় ভোট কেন্দ্র বিতর্কের অবসানে গণভোটের প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ। অন্যদিকে দাবি আদায়ে আগামীকাল ভিসি কার্যালয় ঘেরাওয়ের ঘোষণা দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট। আন্দোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও।

২৮ বছর পর আগামী ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচন। ১১ ফেব্রুয়ারি হলে ভোট কেন্দ্র রাখার সিদ্ধান্ত জানিয়ে তফসিল ঘোষণা করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানায় ছাত্রলীগ ও সমমনা ছাত্র সংগঠনগুলো। অন্যদিকে ডাকসু নির্বাচনের আলোচনার শুরু থেকেই হলে ভোট কেন্দ্র করার বিরোধিতা করে আসছিল সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলো। তারা প্রশাসনের সঙ্গে তিন দফা আলোচনায় আনুষ্ঠানিকভাবে একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করার প্রস্তাব দেয়। নির্বাচনে ছাত্রলীগ প্রভাব বিস্তার করতে পারে এ ধরনের আশঙ্কায় এবং হলে সহাবস্থান না থাকার অভিযোগ এনে এমন দাবি করেন তারা।

এদিকে ডাকসু ও হল সংসদ নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র আবাসিক হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে করা এবং বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতে চার দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে বামপন্থী ছাত্র সংগঠনগুলোর মোর্চা প্রগতিশীল ছাত্র জোট। আজ রোববারের মধ্যে দাবি বাস্তবায়ন না হলে আগামীকাল ১৮ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির কার্যালয় ঘেরাও করবেন তারা। দাবি আদায়ে লাগাতার কর্মসূচি পালন করা হবে বলেও জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জোটের সমন্বয়ক ও বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল কবীর বলেন, বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের আধিপত্য ও দখলদারি জারি রয়েছে। এ অবস্থায় হলে ভোট কেন্দ্র করা হলে নির্বাচনকেও তারা প্রভাবিত করবে। নির্বাচনের আলোচনা শুরু হওয়ার পর থেকেই বেশির ভাগ সংগঠন হলের বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করার দাবি জানিয়ে আসছিল। কিন্তু ছাত্রলীগকে সুবিধা দিতে প্রশাসন অগণতান্ত্রিকভাবে সেই দাবি উপেক্ষা করেছে। এ পদক্ষেপ বিশ্ববিদ্যালয়কে আরও অগণতান্ত্রিক পরিস্থিতির দিকে নিয়ে যাবে।

হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র করার দাবিতে অনড় অবস্থানে রয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও। সংগঠনটি জানিয়েছে, একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করার দাবিতে তারা শিগগিরই কর্মসূচিতে যাবেন। এ বিষয়ে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক আকরামুল হাসান যুগান্তরকে বলেন, যখনই প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে আমরা সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ভোট কেন্দ্র হলের বাইরে করার দাবি জানিয়েছি। বেশির ভাগ ছাত্র সংগঠনই এই দাবি জানিয়েছে। অথচ সংখ্যাগরিষ্ঠের দাবি উপেক্ষা করে ছাত্রলীগের চাওয়া অনুযায়ী প্রশাসন হলেই ভোট কেন্দ্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আমরা এ সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের দাবিতে শিগগিরই আন্দোলনে যাব। এর বাইরে একাডেমিক ভবনে ভোট কেন্দ্র করার দাবিতে অনড় কোটা সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা শিক্ষার্থীদের প্ল্যাটফর্ম বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ। এ বিষয়ে পরিষদের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচনে সব পক্ষের আস্থা তৈরিতে হলের বাইরে ভোট কেন্দ্র করতে হবে। যাতে কেউ ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে না পারে। আমরা আশা করব, প্রশাসন সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামত উপেক্ষা করবে না।

অন্যদিকে হলের অভ্যন্তরে ভোট কেন্দ্র করার প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে ছাত্রলীগ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সামাজিক সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর প্ল্যাটফর্ম ‘সম্মিলিত শিক্ষার্থী সংসদ’। ১৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানান। এ বিষয়ে সংসদের মুখপাত্র ও ঢাকা ইউনিভার্সিটি ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি এসএম রাকিব সিরাজী যুগান্তরকে বলেন, ২৮ বছর পর ডাকসু নির্বাচন হচ্ছে বিধায় এ নির্বাচন নিয়ে সারা দেশের মানুষের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্য অনুযায়ী আবাসিক হলগুলোতেই ডাকসু নির্বাচনের ভোট কেন্দ্র হতে হবে। আমরা আশা করি, সুন্দর একটি নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য সবাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে সহযোগিতা করবে।

এদিকে সরকার পক্ষ ও সরকারবিরোধী ছাত্র সংগঠনগুলোর ভোটকেন্দ্র নিয়ে বিপরীতমুখী দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়ে শিক্ষার্থীদের রায় অনুযায়ী (ভোট কেন্দ্র হলে নাকি একাডেমিক ভবনে) চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়ার দাবি জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ। ১৫ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলন থেকে এমন প্রস্তাব দেন মঞ্চের অন্যতম মুখপাত্র মওদুদ মিষ্ট। ২০১২ সালে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের এই সংগঠন ‘ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অধিকার মঞ্চ’। ২০১২ সালে মঞ্চের মুখপাত্রসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৫ জন শিক্ষার্থী ডাকসু নির্বাচন বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিট করেন।

ভোট কেন্দ্র নিয়ে ছাত্র সংগঠনগুলোর এমন দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসুর প্রধান রিটার্নিং কর্মকর্তা অধ্যাপক ড. এসএম মাহফুজুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, ডাকসু নির্বাচনের কোনো সিদ্ধান্ত এককভাবে গ্রহণ করা হয়নি। প্রতিটি সিদ্ধান্তই বিভিন্ন ধাপে নির্ধারিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রহণ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ডাকসু নির্বাচনের তফসিলও ঘোষণা করা হয়েছে। সেজন্য এখন এ বিষয়ে নতুনভাবে সিদ্ধান্ত নেয়ার সুযোগ আমার নেই।

--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×