অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

মেলায় বৃষ্টির ছোবল

ক্ষতিগ্রস্ত অর্ধশত স্টল প্যাভিলিয়ন

  হক ফারুক আহমেদ ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

মেলায় বৃষ্টির ছোবল
অমর একুশে গ্রন্থমেলায় রোববার সকালে বৃষ্টিতে প্রায় সব স্টলের বই ভিজে গেছে। বিকালে মেলা শুরুর আগে সেই বই শুকানোর চেষ্টা। ছবি: যুগান্তর

প্রতিবছরের মতো এবারও একই চিত্র। ফাগুনের বৃষ্টিতে ধুয়ে গেল গ্রন্থমেলা। আবহাওয়া অফিস থেকে এই বৃষ্টির ব্যাপারে আগাম আভাস দেয়া হয়। সেই অনুযায়ী গত কয়েকদিন ধরে মেলার তথ্য কেন্দ্র থেকে সতর্ক করা হয়। অনেক প্রকাশনী প্রস্তুতিও নিয়েছিল। কিন্তু প্রাকৃতিক দুর্যোগ বলে কথা। বৃষ্টি ও দমকা হাওয়া দুটোই প্রবল ছিল। তাই সব সুরক্ষা হয়নি। আবারও ক্ষতিগ্রস্ত হল গ্রন্থমেলা। তার মধ্যে কয়েকটি প্যাভিলিয়ন ও স্টলের ক্ষতির পরিমাণ বেশি। সব মিলিয়ে প্রায় অর্ধশত প্যাভিলিয়ন-স্টল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যেও বিকালের পর মেলায়

পাঠকের পদচারণা লক্ষ করা গেছে। এদিকে আবহাওয়া অফিসের বরাত দিয়ে আগামী ২৩, ২৪ বা ২৫ তারিখের মধ্যে আরও একবার ঝড়-বৃষ্টি হতে পারে বলে একাডেমির এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।

রোববার সকালের প্রবল বৃষ্টি ও দমকা হাওয়ার কবলে পড়ে মেলা। মেলার দুই প্রাঙ্গণেই বেশকিছু প্যাভিলিয়ন ও স্টলে বৃষ্টির পানিতে বই ভিজে গেছে। বিকালে মেলায় দেখা যায়, নানা স্টলের সামনে বই শুকানো হচ্ছে। সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশের বিভিন্ন জায়গায় পানি জমে ছিল। ক্ষতিগ্রস্ত প্যাভিলিয়ন ও স্টলের মধ্যে রয়েছে- অন্যপ্রকাশ, অ্যার্ডন পাবলিকেশন্স, কথাপ্রকাশ, শিকড়, ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল), ত্রয়ী প্রকাশন, জাতীয় সাহিত্য প্রকাশনী, বাসিয়া প্রকাশনী, নালন্দাসহ আরও বেশকিছু প্রকাশনী।

বড় প্রকাশনীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অন্যপ্রকাশের প্যাভিলিয়ন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের স্বাধীনতা স্তম্ভের গ্লাস টাওয়ারের লেক বরাবর হওয়ায় এ প্যাভিলিয়ন ঝড়ো বাতাসে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিচালক সিরাজুল কবির কমল বলেন, ‘আমাদের প্যাভিলিয়নে এক থেকে দেড় হাজার বই বৃষ্টিতে ভিজে গেছে। টাকার পরমিাণে সেটি ৭-৮ লাখ টাকা হবে।’

জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমদ বলেন, ‘যতটা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হয়েছিল, তার চেয়ে কম হয়েছে। সকাল ও বিকাল দুই দফায় পরিদর্শন করেছি আমরা। কয়েকটি প্রকাশনীর ক্ষতি বেশি হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ওপর কারও হাত নেই। বীমা করা আছে। সেই আওতায় নানা দিক থেকে সহযোগিতার চেষ্টা করা হবে ক্ষতিগ্রস্ত প্রকাশকদের।’

মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ যুগান্তরকে বলেন, ‘আবহাওয়া অধিদফতরের পূর্বাভাস আমরা গত কয়েকদিন থেকেই প্রচার করছিলাম। সে জন্য আমাদের কিছুটা প্রস্তুতি ছিল। বৃষ্টির পরপরই ফায়ার সার্ভিসের সহযোগিতায় মেলার মাঠ থেকে পানি নিষ্কাশন করা হয়েছে। প্রকাশকরাও সহযোগিতা করেছেন। তাদের সচেতনতার কারণে প্রায় ৯০ শতাংশ স্টল সুরক্ষিত ছিল।

বাংলা একাডেমির সংবাদ সম্মেলন: রোববার গ্রন্থমেলা বিষয়ে সাপ্তাহিক সংবাদ সম্মেলন করে বাংলা একাডেমি। শহিদ মুনীর চৌধুরী সভাকক্ষে সংবাদ সম্মেলনে বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী ও মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ গ্রন্থমেলার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

সংবাদ সম্মেলনে হাবীবুল্লাহ সিরাজী বলেন, ‘তিন দিন আগেই বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সভাপতি ফরিদ আহমেদকে বৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়েছে। তারা যেন নিজেদের সুরক্ষার ব্যবস্থা করেন, সে বিষয়ে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এরপর প্রকাশকরাও তাদের মতো ব্যবস্থা নিয়েছেন। বাংলা একাডেমির পক্ষ থেকেও বৃষ্টির পর নানা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, মেলার ১৬তম দিন পর্যন্ত সর্বমোট নতুন বই এসেছে ২৪৭৭টি। আর একই দিন পর্যন্ত বাংলা একাডেমি মোট ৯৭ লাখ ৭৬ হাজার ১০৮ টাকার বই বিক্রি করেছে বলেও জানানো হয়। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৩০ লাখ টাকা বেশি।

সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে অবস্থিত ‘লেখক বলছি...’ মঞ্চে রোববার নিজেদের নতুন বই নিয়ে পাঠকের মুখোমুখি হন পাঁচ লেখক। কথাসাহিত্যিক মারুফ রসূল ‘রক্তকিংশুক’, কবি স্নিগ্ধা বাউল ‘শীতের পুরান চাদর’, কবি-গদ্যকার অঞ্জন আচার্য ‘কথাপ্রসঙ্গে যৎসামান্য’, কথাসাহিত্যিক ফরিদুর রহমান ‘মেয়েটি যুদ্ধের কথা ভুলে গেছে’ এবং বদরুল হায়দার পাঠকের সঙ্গে কথা বলেন।

নতুন বই : মেলার ১৭তম দিনে নতুন বই এসেছে ৭১টি। এর মধ্যে রয়েছে- সৈয়দ মিজানুর রহমান সম্পাদিত ‘নেতৃত্বে ছাত্রলীগ: ইতিহাসের অকাট্য দলিল’ (আগামী), পূরবী বসুর ‘রোকেয়া ও রবীন্দ্রনাথ: কাছে থেকেও দূরে’, রেজানুর রহমানের ‘আমাদের পিকলু বাবু’ (কথাপ্রকাশ), শেখ ফজলুল করিম সেলিমের ‘ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ঘটনাবহুল ইতিহাস’ (ত্রয়ী), সঞ্জীব দ্রংয়ের ‘ঈশ্বর সাঁওতালদের ভুলে গেছে’ (সূচিপত্র), মঈনুল আহসান সাবেরের ‘কাফকা আসবে’ (দিব্যপ্রকাশ), সায়ী দ আবুবকরের ‘আধুনিক বাংলা কবিতা’ (ইত্যাদি), মারুফ রসূলের ‘মুহূর্ত থামো, তুমি সুন্দর’ (পাঞ্জেরী), সৈয়দ আবুল মকসুদের ‘ভাসানীর ভারত প্রবাস’ (পাঠক সমাবেশ), আবদুল মান্নানের ‘বাংলাদেশের রাজনীতির গতিপ্রকৃতি’ (কথাপ্রকাশ), হারুন-অর-রশিদের ‘বাংলাদেশ রাজনীতি সরকার ও শাসনতান্ত্রিক উন্নয়ন ১৭৫৭-২০১৮’ (অন্যপ্রকাশ)।

মেলামঞ্চের আয়োজন : মেলামঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক : শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। এতে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খালেদ হোসাইন। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন মফিদুল হক, আসাদ মান্নান, শিহাব সরকার এবং আনিসুল হক। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি মনজুরে মওলা।

মনজুরে মওলা বলেন, ভাষার প্রতি সৈয়দ শামসুল হকের আমৃত্যু যত্নশীলতা আমাদের সাহিত্যসমাজে এক বিরল ব্যাপার, যে ক্ষেত্রে আমরা প্রায়ই উদাসীন। নতুন শব্দ ও ভাববন্ধ নির্মাণে তিনি ছিলেন সদাসচেষ্ট। কবি হিসেবে চূড়ান্ত সিদ্ধির পরও তিনি নিজের জন্য কাব্যনাট্যের মতো এক দুরূহ শিল্পমাধ্যম বেছে নিয়েছেন এবং এ ক্ষেত্রে সফলও হয়েছেন। সৈয়দ শামসুল হকের মতো সাহিত্যস্রষ্টা কখনও বিস্মৃত হওয়ার নন।

কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি মোহাম্মদ সাদিক ও খালেদ হোসাইন। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী লায়লা আফরোজ এবং মো. মাসুদুজ্জামান। দলীয় নৃত্য পরিবেশন করে সত্যেন সেন শিল্পীগোষ্ঠী ও নৃত্যমঞ্চ। সঙ্গীত পরিবেশন করেন শাহনাজ নাসরিন ইলা, মামুন জাহিদ খান, মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া, রাকিবুল ইসলাম রাকীব, নীপা সাহা, শামীমা নাসরিন এবং অপর্ণা খান।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×