সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় গুচ্ছ সিদ্ধান্ত

শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি

১৪ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ * প্রতি মাসে ট্রাফিক সপ্তাহ পালন

  যুগান্তর রিপোর্ট ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি
শাজাহান খানের নেতৃত্বে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ কমিটি। ছবি: যুগান্তর

দেশের সড়ক-মহাসড়ক ও পরিবহন খাতে শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে সুপারিশ প্রণয়নে সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খানকে প্রধান করে ১৫ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। রোববার জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের ২৬তম সভায় এ কমিটি গঠন করা হয়।

কীভাবে সড়ক নিরাপদ করা যায়, সে ব্যাপারে কমিটি ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে সুপারিশ করবে। এছাড়া সভায় সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাস্তবায়নে স্বরাষ্ট্র, আইন ও রেলমন্ত্রীর সমন্বয়ে উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিলের সভায় একগুচ্ছ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ইজিবাইক ও ব্যাটারিচালিত যানবাহন আমদানি বন্ধে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ জানানো; মার্চ থেকে প্রতি মাসে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ট্রাফিক সপ্তাহ পালন; চালক সংকট কাটাতে দেশের সব যুব উন্নয়ন কেন্দ্রে প্রশিক্ষণের আয়োজন করা।

এছাড়া রাজধানীর বাস স্টপেজগুলোয় যাত্রী ছাউনি নির্মাণে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

বিআরটিএ’র সদর দফতরে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, রেলপথমন্ত্রী মো. নুরুল ইসলাম সুজন, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. একাব্বর হোসেন, সাবেক মন্ত্রী শাজাহান খান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী মো. মসিউর রহমান রাঙ্গাসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের কার্যকরী সভাপতি শাজাহান খানের নেতৃত্বাধীন কমিটির সদস্যসংখ্যা ১৫। সদস্যরা হলেন- বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সভাপতি ও জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা, কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ, নিরাপদ সড়ক চাই’য়ের চেয়ারম্যান অভিনেতা ইলিয়াস কাঞ্চন, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব খন্দকার এনায়েতুল্লাহ ও সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।

এর বাইরে বিআরটিএ, বিআরএসি, ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক-শ্রমিক, ডিআইজি হাইওয়ে, ডিআইজি অপারেশন, বুয়েটের এআরআই, ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার এবং সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের একজন করে প্রতিনিধি রাখা হয়েছে।

এ কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে ওবায়দুল কাদের বলেন, ১৪ কর্মদিবসের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন জমা দেবে। প্রতিবেদনের সুপারিশমালা বাস্তবায়ন করা হবে। কমিটিতে মালিক-শ্রমিক সংগঠন ও পরিবহন নেতাদের আধিক্য সড়কে কতটা শৃঙ্খলা ফেরাতে পারবে- এমন প্রশ্ন করা হলে ওবায়দুল কাদের বলেন, কমিটি সবেমাত্র গঠন করা হল।

আগে তারা প্রতিবেদন জমা দিক। এরপর না হয় তাদের কাজ মূল্যায়ন করা যাবে। সভা শেষে তিনি আরও বলেন, পরিবহনে শৃঙ্খলায় আমরা অন্যদের থেকে পিছিয়ে থাকব এমন নয়, কিছুটা সমস্যা পরিবহনে আছে। আমার বিশ্বাস, সবার সহযোগিতায় আমরা পরিবহনের সংকট কাটিয়ে উঠব।

তিন মন্ত্রীর সমন্বয়ে গঠিত কমিটি প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, সড়ক পরিবহন আইন সংসদে পাস হয়েছে এবং নির্বাচনের আগে স্টেক হোল্ডারদের (অংশীজন) পক্ষ থেকে কিছু মন্তব্য ও পর্যবেক্ষণ ছিল, কিছুটা সংশোধনের দাবি-দাওয়া ছিল।

আইন প্রণয়নের পর আইনটা বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় কোনো বিধিবিধান করে এবং বাস্তবতার সঙ্গে যতটা সঙ্গতি রাখা যায়, সেই বিষয়টা খতিয়ে দেখার জন্য তিনজন মন্ত্রীকে আমরা দায়িত্ব দিয়েছি।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংস্থা ওয়ার্ল্ড ট্রাফিক ইনডেক্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যানজটের দিক দিয়ে বিশ্বের ২০৭টি দেশের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় রয়েছে বাংলাদেশ। বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, কত প্রতিবেদন বের হচ্ছে, টিআইবিও একটি প্রতিবেদন দিয়েছে। সেখানে বাংলাদেশকে যেভাবে চিত্রিত করা হয়েছে, এটা বাস্তব চিত্র নয়। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আজকের উন্নয়ন এবং উচ্চতাকে খাটো করার জন্য, ছোট করার জন্য এবং বাংলাদেশের জন্য যারা ঈর্ষান্বিত, তাদের একটি সিন্ডিকেট এ কাজ করছে।

সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল সভায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া বলেন, মহাসড়কে ইজিবাইক চলাচল বন্ধ করতে হবে। এজন্য এটির আমদানি বন্ধের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আইন অনুযায়ী ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক মোটরযানের মধ্যে পড়ে না।

এ কারণে আমরা এগুলোর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি না। আমদানি বন্ধ হলে মহাসড়ক থেকে এসব যানবাহনের উৎপাত অনেকটাই কমবে। তবে ডিএমপি কমিশনারের সঙ্গে একমত হতে পারেননি রেলপথমন্ত্রী নুরুল ইসলাম সুজন। বিকল্প ব্যবস্থা না করে হঠাৎ ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক ব্যবহার ও আমদানি বন্ধের পক্ষে তিনি নন বলে জানান।

ঢাকার যানজট নিরসনে অথরিটির (সংস্থা/বিভাগ/দফতর) সংখ্যা অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, যানজট নিরসনে কাজ করার জন্য এত সংস্থার কোনো দরকার নেই।

সবাই মিলে কাজ করে পরিস্থিতি ভজকট করে তুলছে। কারও সঙ্গে কারও কাজের সামঞ্জস্য নেই। এত বেশি সংস্থা থাকলে রাজধানীর পরিবহন ব্যবস্থাপনায় কোনোভাবেই শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়।

সড়ক-মহাসড়কের নির্মাণ ত্রুটি, অবৈধ স্থাপনা, দখলদারদের বিষয় তুলে ধরে সাবেক নৌমন্ত্রী শাজাহান খান বলেন, কোথাও সড়ক দুর্ঘটনা ঘটলে সব দায় এসে পড়ে চালকের ওপর। চালকদের কারণে নয়, মানুষের অসচেতনতা ও দুর্বল সড়ক অবকাঠামোর কারণে বেশির ভাগ সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে বলে তিনি অভিমত দেন।

সভায় মহাসড়কে দুর্ঘটনার জন্য স্থানীয় সরকারের শাখা সড়ককে একটি কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। বলা হয়, মহাসড়কে সরাসরি যুক্ত হয়েছে শাখা সড়কগুলো। এ সড়কের ছোট গাড়িগুলো বিনা বাধায় মহাসড়কে উঠে যায়। ফলে দুর্ঘটনা ঘটে। তাই মহাসড়কের সঙ্গে শাখা সড়কগুলো যুক্ত হওয়ার মুখে মোড় সৃষ্টি করা হবে। যাতে গাড়ি শাখা সড়ক থেকে সরাসরি মহাসড়কে উঠতে না পারে।

এক বছরেরও বেশি সময় পর অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের সভায় বড় ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। ২৫তম সভার কার্যবিবরণীতে দেখা যায়, বিআরটিএ যাচাই-বাছাই ছাড়াই যানবাহনের ফিটনেস দেয়।

এ কারণে লক্কড়-ঝক্কড় যানবাহন চলাচল বন্ধ হচ্ছে না। রোববারের সভাতেও বিষয়টি আসে। বিআরটিএ ও ডিএমপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ফিটনেসবিহীন গাড়ি জব্দ করে রাখার মতো জায়গা নেই। তাই এসব গাড়ি ডাম্পিংয়ে পাঠানো যায় না। গাড়ি ডাম্পিংয়ের জন্য শিগগিরই ৩-৪টি স্পট চিহ্নিত করবে ডিএমপি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×