অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

ক্রিকেটের বইয়ে আগ্রহ বাড়ছে

বাংলা একাডেমিতে শিশু-কিশোরদের ছবির প্রদর্শনী

  হক ফারুক আহমেদ ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বইমেলায় প্রকাশিত বই
বইমেলা-২০১৯ এ প্রকাশিত বই। ছবি-যুগান্তর

বাঙালির প্রিয় তালিকায় ছিল ভাত-মাছ। তারপর বলা হয় বাঙালি গানপাগল। আর বিগত দুই দশক ধরে বাঙালির নতুন উন্মাদনার নাম ‘ক্রিকেট’। জোয়ান, বুড়ো, শিশু সবাই ক্রিকেট জ্বরে আক্রান্ত। খেলা থাকলেও, না থাকলেও। ঘরে-বাইরে সারা বছর ক্রিকেট চলছেই। আর ক্রিকেট দুনিয়ায় বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্য এই খেলাকে পৌঁছে দিয়েছে বাংলার ঘরে ঘরে।

তবে ক্রিকেট নিয়ে মাঠের এ উত্তেজনা এখন আর মাঠে সীমাবদ্ধ নেই। ছড়িয়ে গেছে বইয়ের পাতায়ও। ক্রিকেটারদের সাক্ষাৎকার, ক্রিকেটের ইতিহাস, ক্রিকেটারদের জীবনী, স্মরণীয় সব খেলা, স্মৃতিকথা, ক্রিকেট খেলার নানা কৌশল, এমন অনেক বিষয় নিয়ে লিখছেন লেখকরা।

লেখকদের বেশিরভাগই মূলত ক্রীড়া সাংবাদিক। পাশাপাশি খেলার সঙ্গে নানাভাবে জড়িত, এমন অনেকেই লিখছেন। ক্রিকেটবিষয়ক এই বইগুলোর আলাদা এক পাঠকশ্রেণী আছে। মেলায় ক্রিকেটবিষয়ক বই বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে।

শনিবার বাবা-মায়ের সঙ্গে মেলায় এসেছিল নাবিল ও নাসিব। দু’জনেই ক্রিকেট শিখছেন। মেলায় এসেই তারা ক্রিকেটের বইয়ের খোঁজ করতে থাকেন এবং বেশকিছু বই পেয়েও যান। বেশকিছু প্রতিষ্ঠান গত কয়েক বছর ধরে ক্রিকেটবিষয়ক বই প্রকাশ করছে এবং এসব বইয়ের কাটতিও বেশ ভালো।

ক্রিকেটবিষয়ক বই ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ করছে প্রকাশনা সংস্থা ঐতিহ্য। এর মধ্যে দেবব্রত মুখোপাধ্যায়ের লেখা ‘সাকিব আল হাসান : আপন চোখে ভিন্ন চোখে’, ‘নায়ক’ এবং ঐতিহ্য এর পরিবেশনায় ও বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রকাশনায় ‘মাশরাফি’। ঐতিহ্য থেকে আরও প্রকাশ হয়েছে মোহীত উল আলম রচিত ‘ক্রিকেটের ইনসুইং আউটসুয়িং’।

ক্রিকেটবিষয়ক বই প্রকাশ এবং বইয়ের কাটতি নিয়ে ঐতিহ্য’র স্বত্বাধিকারী আরিফুর রহমান নাঈম যুগান্তরকে বলেন, ‘প্রায় সব বয়সী পাঠক ক্রিকেটের নানা বিষয়ে আগ্রহী। বইয়ের চাহিদাও আছে। তবে বড় কথা হল- এ বিষয়ে লেখালেখি ও বই প্রকাশে সামগ্রিকভাবে আরও পরিচর্যা প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ক্রিকেট সাপোটার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে রানা আব্বাসের লেখা ‘বাংলাদেশের অধিনায়ক’ এবারের মেলায় এসেছে ক্রিকেটবিষয়ক একটি উল্লেখযোগ্য বই। এটির পরিবেশনায়ও আছে ঐতিহ্য।

রানা আব্বাস বলেন, আমার বইটিতে বাংলাদেশের ক্রিকেটের ইতিহাসের সব অধিনায়কের কথা বলতে গিয়ে আদতে ’৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত আমাদের ক্রিকেটের ইতিহাসই উঠে এসেছে।

উৎপল শুভ্রের লেখা ‘শুধুই ক্রিকেট’ শিরোনামের বই প্রকাশ করেছে অনন্যা। দেশের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট তারকা সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ধারাভাষ্যকার ও লেখক চৌধুরী জাফরুল্লাহ শরাফাতের লেখা একটি বই প্রকাশ করেছে বর্ষাদুপুর।

গত বছর সাকিব আল হাসানকে নিয়ে ‘হালুম’ প্রকাশ করে পার্ল পাবলিকেশন্স। পার্ল-এর স্বত্বাধিকারী হাসান জাহিদি বলেন, ক্রিকেট বিষয়ে আলাদা একটা আগ্রহ আছে। ক্রিকেট খেলার নানা কৌশল ও দিকনিদের্শনা নিয়ে ভালো একটি বই প্রকাশ হতে পারে।

সাবেক শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদের নতুন বই ‘এক দশকে শিক্ষাক্ষেত্রে যুগান্তকারী অর্জন’ বই প্রকাশ করেছে চারুলিপি প্রকাশন। শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে দশ বছরের দায়িত্ব পালনকালে তার নেয়া পদক্ষেপগুলোর বর্ণনা রয়েছে এতে। সোমবার সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের শহীদ সালাম চত্বরে বইটির মোড়ক উন্মোচন করেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হারুন-অর-রশিদ।

এদিন ‘লেখক বলছি...’ মঞ্চে নিজেদের সাম্প্রতিক প্রকাশিত বই নিয়ে কথা বলেন পাঁচজন কবি ও সাহিত্যিক। কবি-সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফি কথা বলেন কথাপ্রকাশ থেকে প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ‘ব্যক্তিগত রোদ এবং অন্যান্য’ নিয়ে। তিনি বলেন, আমি সব সময় লিখতে চাই। নিজের মনের তাগিদে, আনন্দে লেখি। সাংবাদিকতা করার ফলে লেখালেখির সময় খুবই অল্প। পরিবারকে দেয়া সময় কেড়ে নিয়ে লেখালেখি করি। আজীবন সেই মনের আনন্দে লেখতে চাই। এ সময় তিনি সাংবাদিকদের জীবন নিয়ে একটি উপন্যাস লেখার পরিকল্পনার কথা পাঠকদের জানান।

‘লেখক বলছি...’ মঞ্চে কবি শোয়াইব জিবরান ‘ঘোর ও শূন্য’, গবেষক মুহাম্মদ শামসুল হক ‘আগরতলা মামলার অপ্রকাশিত জবানবন্দি’, কবি ওবায়েদ আকাশ ‘সর্বনামের সুখ-দুঃখ’ এবং গবেষক মলয় বালা ‘বাংলার প্রাতিষ্ঠানিক প্রাচ্যকলার ধারা’ নিয়ে কথা বলেন।

নতুন বই : একাডেমির জনসংযোগ উপবিভাগ থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, সোমবার মেলায় নতুন বই এসেছে ১৩৯টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলো হল- আগামী প্রকাশনী থেকে হাসনাত আবদুল হাইয়ের শিল্পকলাবিষয়ক গ্রন্থ ‘শিল্পকলার নান্দনিকতা’, রাবেয়া বুক হাউস থেকে সেলিনা হোসেনের ‘মেয়রের গাড়ি’, কথাপ্রকাশ থেকে মুস্তাফিজ শফির কিশোর উপন্যাস ‘ভূতকল্যাণ সমিতি’, ওবায়েদ আকাশের কাব্যগ্রন্থ ‘সর্বনামের সুখদুঃখ’ (ইত্যাদি গ্রন্থ প্রকাশ), কামরুল হাসান সোহাগের ‘শাওন রাতে সুনয়না’ (কারুবাক), জোনাকী প্রকাশনী থেকে সৌমিত্র শেখরের ‘একুশের সংকলন পরিচিতি ও গুরুত্ব’।

মাওলা ব্রাদার্স থেকে এসেছে কবি-সাংবাদিক মুস্তাফিজ শফির ‘বিরহসমগ্র’। তার কাব্যগ্রন্থ ‘মায়া মেঘ নির্জনতা’, ‘কবির বিষণ্ণ বান্ধবীরা’, ‘দহনের রাত’, ‘মধ্যবিত্ত কবিতাগুচ্ছ’, ‘পড় তোমার প্রেমিকার নামে’, ‘ব্যক্তিগত রোদ এবং অন্যান্য’ এবং অগ্রন্থিত ২৪৫টি বিরহের কবিতা নিয়ে বইটি সাজানো হয়েছে। আনিসুজ্জামান সোহেলের প্রচ্ছদে বইটির মূল্য তিনশ’ টাকা।

অমর একুশে গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি প্রতিবছর শিশু-কিশোর চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ বছর প্রথমবারের মতো ২০০৮ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত শিশু-কিশোরদের পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবিগুলো নিয়ে বাংলা একাডেমির ড. মুহম্মদ এনামুল হক ভবনের দ্বিতীয় তলায় একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার এর উদ্বোধন করেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী।

প্রদর্শনী চলবে ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত প্রতিদিন মেলা চলার সময়।

এদিন গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘কবি বেলাল চৌধুরী : শ্রদ্ধাঞ্জলি’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কবি পিয়াস মজিদ। আলোচনায় অংশ নেন কবি জাহিদুল হক, দিলারা হাফিজ এবং তারিক সুজাত। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কবি রবিউল হুসাইন।

সন্ধ্যায় কবিকণ্ঠে কবিতাপাঠ করেন কবি দিলারা হাফিজ, রেজাউদ্দিন স্টালিন, ফরিদ আহমেদ দুলাল, রহিমা আখতার কল্পনা এবং মতিন রায়হান। আবৃত্তি পরিবেশন করেন ইকবাল খোরশেদ এবং সায়েরা হাবীব। পুঁথিপাঠ করেন জালাল খান ইউসুফী। সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ছিল ভাবনগর ফাউন্ডেশনের পরিবেশনা। সবশেষে ছিল সায়িক সিদ্দিকীর পরিচালনায় পালাগান ‘নোলকজানের পালা’।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
--
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×