চট্টগ্রাম বস্তিতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

মুখোশধারী ৪-৫ জন যুবককে ঘিরে সন্দেহ

সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে আপাতত থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা

  আহমেদ মুসা, চট্টগ্রাম ব্যুরো ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেখানে খোলা হয়েছে লঙ্গরখানা।
অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর সেখানে খোলা হয়েছে লঙ্গরখানা। ছবি-যুগান্তর

চট্টগ্রামের চাকতাইয়ে ভেড়া মার্কেট বস্তিতে অগ্নিকাণ্ডে জীবন্ত দগ্ধ হয়ে আটজনের করুণ মৃত্যুতে শোকে স্তব্ধ বন্দরনগরী চট্টগ্রাম। সব হারিয়ে প্রায় দেড় হাজার বাসিন্দা এখনও পোড়া বস্তিতেই বসবাস করছেন।

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (সিসিক) রাত কাটানোর জন্য পোড়া বস্তিতেই ত্রিপল টানিয়ে প্রায় দেড় হাজার বস্তিবাসীর তিন বেলা খাবারের ব্যবস্থা করলেও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের শঙ্কায় তারা দিশেহারা। ঘটনার দু’দিন পরও অগ্নিকাণ্ডের কারণ জানা না গেলেও বস্তিবাসী একে নাশকতা হিসেবে দেখছে।

তাদের দাবি, বস্তিতে পরিকল্পিতভাবে আগুন দেয়া হয়েছে। শট-সার্কিট বা অন্য কোনো উৎস থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়নি। অনেকে বলছেন, আগুন লাগার ঠিক আগ মুহূর্তে ৪-৫ জন মুখোশ পরা যুবককে বস্তিতে ঘোরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

রাত ৩টার দিকে তাদের বস্তি ঘরে পাউডার জাতীয় কিছু ছিটাতেও দেখা গেছে। এদের চাকতাই এলাকায় আগে কখনও দেখা যায়নি। তবে বাকুলিয়া থানার ওসি প্রণব চৌধুরী বলেছেন, এটি আমরাও শুনেছি।

জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, পুড়ে যাওয়া বস্তিটি কর্ণফুলী নদীর পাড় দখল করে গড়ে ওঠা। এটি চলমান উচ্ছেদ কার্যক্রমের আওতায় ছিল। উচ্ছেদ কার্যক্রমের প্রথম ধাপ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। দ্বিতীয় ধাপ যে কোনো সময় শুরু হবে। তৃতীয় ধাপের অন্তর্ভুক্ত ছিল পুড়ে যাওয়া এ বস্তি, যেখানে ছিল চার শতাধিক কাঁচা ঘর।

বেশ কিছু দিন আগেই বস্তি খালি করার জন্য ভাড়াটিয়া ও দখলদারদের নোটিশ দিয়েছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। তারপর কিছু ভাড়াটিয়া চলে গেলেও উচ্ছেদ ঠেকাতে দখলদাররা তাদের জোর করে রেখে দেন। তবে একটি অংশ যারা আগে বিভিন্ন সময় দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন তারাও বস্তি খালি করার পক্ষে অবস্থান নেন।

ফাঁকফোকর দিয়ে শেষ পর্যন্ত বস্তিটি টিকে যাওয়ার আশা ছিল অনেকের। বস্তির বাসিন্দা রুমা আক্তার যুগান্তরকে জানান, শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মুখোশ পরা চার-পাঁচজন যুবক বস্তিতে আসে। তাদের বস্তির চার পাশে ‘পাউডার’ জাতীয় কিছু ছিটাতেও দেখা গেছে।

‘পাউডার’ ছিটানোর পর তারা বস্তির প্রবেশমুখে রহিমা খাতুনের (অগ্নিকাণ্ডে নিহত হয়েছেন) ঘরের সামনে অবস্থান নেয়। রাত সাড়ে ৩টার দিকে তারা দ্রুত বস্তি এলাকা ত্যাগ করে। এর পরই আগুনের লেলিহান শিখা ছড়িয়ে পড়ে।

এ নিয়ে কথা হয় বাকুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রণব চৌধুরীর সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, ওই রাতে চার-পাঁচজন যুবককে ঘোরাঘুরি করার খবর আমাদের কানেও এসেছে। হবে এমন একটা ঘটনার পর অনেকেই অনেক কথা বলেন।

এরই মধ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের রিপোর্টের ভিত্তিতে আমরা আইগত ব্যবস্থা নেব। সোমবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয় এমপি ও শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি বলেন, ‘আমরা শুনেছি, এখানে বেশকিছু ব্যক্তি ভয়ভীতি দেখিয়ে নাকি কিছু মানুষকে আটকে রেখেছিল।

অভিযোগ কতটুকু সত্য আমরা জানি না। সত্যতা না জেনে মন্তব্য করতে চাই না। তবে কেউ যদি এখানকার অসহায় মানুষদের কোনো পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ব্যবহার করে, তাহলে আমরা অবশ্যই ব্যবস্থা নেব। দায়ীদের গ্রেফতার করা হবে।’

তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মাশহুদুল কবীর যুগান্তরকে বলেন, ‘তদন্ত কাজ শুরু করেছি। বিভিন্ন উপায়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ না করে আগুনের সূত্রপাত কিভাবে তা বলা যাবে না। তদন্ত শেষেই বলা যাবে আগুন লাগার কারণ কী।’

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, কিছু দিন আগে জেলা প্রশাসনের লোকজন বস্তি থেকে তাদের সরে যেতে বলেন। তারা চলে যেতে চাইলে বাধা দেন দখলদাররা। তাদের অভিযোগ, দখলদারদের একটি অংশ উচ্ছেদের পক্ষে। আরেক পক্ষ চায় নানা কৌশলে সরকারি খাস জায়গাটি দখলে রাখতে। কেউ কেউ উচ্ছেদ বন্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা বলে নিু আয়ের এ লোকদের বস্তিতে থাকতে বাধ্য করেন। ইতোমধ্যে বস্তি ছেড়ে চলেও গেছেন অনেকে। যাব-যাচ্ছি করে কেউ কেউ থেকে গেছেন।

নদী তীরবর্তী মেরিন ড্রাইভ রোডের উত্তরে রাজাখালী খালের চর দখল করে ২০০০ সালে গড়ে তোলা হয়েছিল এ বস্তি। বস্তির বাসিন্দা সুমন মিয়ার অভিযোগ, ২০০০ সালে আকতার ওরফে কসাই আক্তার ও আবদুল করিমসহ শতাধিক ব্যক্তি মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলেন। তারাই খাস জমিটি দখল করে ভাগবাটোয়ারা করে নেন। পরে সেখানে বস্তি গড়ে তুলে ভাড়া দেন। প্রতি ঘর থেকে দুই হাজার থেকে দুই হাজার ৮০০ টাকা পর্যন্ত ভাড়া আদায় করা হতো।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×