বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে পালিত

অন্যায়ের কাছে মাথানত না করার শপথ * বাংলাকে জাতিসংঘের দাফতরিক ভাষা করার দাবি

  যুগান্তর রিপোর্ট ২২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে পালিত
বিনম্র শ্রদ্ধায় অমর একুশে পালিত। ছবি-যুগান্তর

যথাযোগ্য মর্যাদায় মহান শহীদ ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালিত হয়েছে। বাংলা ভাষার জন্য যারা প্রাণ দিয়েছেন সেই শহীদদের বিনম্র শ্রদ্ধায় স্মরণ করেছে জাতি। একুশের প্রথম প্রহরে (১২টা ১ মিনিটে) রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

এ সময় অমর একুশের গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি’ বাজানো হয়। শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন। এর আগে রাষ্ট্রপতি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পৌঁছলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান তাকে স্বাগত জানান।

এছাড়া শহীদ বেদিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধ জানান স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ও ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। এরপর শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সিনিয়র নেতা ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের নিয়ে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। সংসদের বিরোধী দল জাতীয় পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মশিউর রহমান রাঙ্গার নেতৃত্বে দলটির নেতারা ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান।

এরপর শ্রদ্ধা জানান, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ, নৌবাহিনী প্রধান ভাইস এডমিরাল আওরঙ্গজেব চৌধুরী ও বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত, পুলিশ বাহিনীর প্রধান জাবেদ পাটোয়ারী, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও বিদেশি সংস্থার প্রতিনিধি, ভাষা সংগ্রামী ও মুক্তিযোদ্ধারা।

রাত সাড়ে ১২টার পর শ্রদ্ধা জানাতে সর্বস্তরের জনগণের জন্য শহীদ মিনার উন্মুক্ত করে দেয়া হয়। সব সড়কের জনস্রোত এসে মিশে যায় শহীদ মিনারের পথে। শিশু থেকে বৃদ্ধ- সবার কণ্ঠে ছিল আবদুল গাফ্ফার চৌধুরীর অমর সৃষ্টি অবিনাশী গান ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি/আমি কী ভুলিতে পারি...।’

রাত শেষে ভোর, সকাল পেরিয়ে দুপুর গড়ালেও মানুষের সেই ঢল যেন থামার নয়। গৌরবের মিনারে শ্রদ্ধা জানাতে এসেছিলেন জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশি-বিদেশি সব শ্রেণী-পেশার মানুষ।

শুধু কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার নয়, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করা ফুলে ভরে ওঠে দেশের হাজারও শহীদ মিনারের বেদি। এমনকি প্রত্যন্ত গ্রামে, পাড়ায় পাড়ায় গড়ে ওঠা অস্থায়ী স্মৃতির মিনারও এদিন ভরেছে শ্রদ্ধার ফুলে। নগ্ন পায়ে সারি সারি মানুষ হেঁটেছেন এক পথে কাঁধে কাঁধ, কণ্ঠে কণ্ঠ মিলিয়ে।

একুশের চেতনা আজ জাতীয় থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তাই বাংলাদেশের মতো পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেও দিবসটি পালন করা হয়েছে যথাযোগ্য মর্যাদায়। ভাষা শহীদদের প্রতি তারাও জানিয়েছে শ্রদ্ধাঞ্জলি।

গৌরবের মিনারে শ্রদ্ধা জানানো ছাড়াও দিনটি পালনে ছিল নানা আয়োজন। ছিল ফাতেহা পাঠ, কোরআনখানি, প্রার্থনা, আলোচনা সভা, সেমিনার, বিভিন্ন প্রতিযোগিতা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। এসবে একদিকে মহান শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, অন্যদিকে ছিল মাতৃভাষাকে সর্বস্তরে প্রতিষ্ঠার দাবি। আর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সেই ঢলের বড় অংশই আসে একুশে গ্রন্থমেলায়। মেলাতে তাই ছিল উপচে পড়া ভিড়।

বুধবার রাত ১০টার পর থেকেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের আশপাশে হাজারও মানুষ জড়ো হতে থাকে। কারও পরনে কালো পোশাক, কারও বুকে কালো ব্যাজ। কী শাড়ি, কী পাঞ্জাবি- কোনোটিতে বর্ণমালা, কোনোটিতে ভাষা শহীদদের নাম-ছবি, কোনোটিতে নানা স্লোগান, শহীদ মিনার, কালোর বুকে রক্তরঙের ছটা। শাহবাগ, দোয়েল চত্বর, পলাশী, আজিমপুর, নীলক্ষেত, চানখাঁরপুলসহ শহীদ মিনারে যাওয়ার প্রবেশপথে কেবলই মানুষের মিছিল, গান আর কবিতা।

বৃহস্পতিবার ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা পরিণত হয় জনসমুদ্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশ থেকে শুরু হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাতফেরি। ভিসি অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবরে শ্রদ্ধা জানান ও ফাতেহা পাঠ করেন।

পরে শহীদ মিনারে গিয়ে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করেন। বাদ জোহর বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার মসজিদসহ অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাষা শহীদদের রুহের মাগফিরাত ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়।

সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা ২১ ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছি। বাংলা ভাষাকে দাফতরিক ভাষা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়ার জন্য জাতিসংঘের কাছে দাবি জানাচ্ছি। তিনি সব মহান ভাষা শহীদের পবিত্র আত্মার শান্তি কামনা করেন।

এ সময় আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পানিসম্পদ উপ-মন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীম, কৃষিবিষয়ক সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক সুজিত রায় নন্দী, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক অ্যাডভোকেট আফজাল হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ওবায়দুল কাদেরের নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা আজিমপুর কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত, ফাতেহা পাঠ ও মোনাজাত করেন।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তথ্যমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেন, রক্তের বিনিময়ে অর্জিত এ মাতৃভাষা বাংলা জাতিসংঘের দাফতরিক ছয়টি ভাষার সঙ্গে সপ্তম ভাষা হিসেবে যুক্ত হোক- এটি আমাদের দাবি ও প্রত্যাশা।

তিনি বলেন, বিশ্বে ত্রিশ কোটিরও বেশি মানুষের মাতৃভাষা বাংলা। ভাষাভাষীর সংখ্যার দিক দিয়ে বাংলা ভাষা সপ্তম। ভাষাশহীদ ও সব ভাষাসংগ্রামীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘মাতৃভাষা চর্চা ও এর প্রতি শ্রদ্ধা বজায় রাখতে বিজাতীয় কায়দায় বাংলা উচ্চারণ থেকে বিরত থাকা আমাদের সবার পবিত্র দায়িত্ব।’

বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় এবার একুশের প্রথম প্রহরে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ছিলেন না দলটির নেতারা। সকালে মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলটির পক্ষ থেকে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।

এ সময় মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, যে চেতনার ভিত্তিতে ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন হয়েছিল, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল; সেই চেতনা আজ ভূলুণ্ঠিত। আমরা আজকে যে গণতান্ত্রিক অধিকার, সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত। গোটা জাতি আজকে তার মৌলিক অধিকার হারিয়ে ফেলেছে। একুশের শহীদসহ একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের বীরদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ফখরুল বলেন, ১৯৫২ সালে রাষ্ট্রভাষা উর্দু করার বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মানুষ রুখে দাঁড়িয়েছিল এবং বীর ছাত্ররা সেদিন মাতৃভাষা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দেয়ার জন্য বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়েছিল। এই দিনে প্রোথিত হয়েছিল স্বাধীনতার মুক্তির বীজ। সেই বীজ থেকে অঙ্কুরিত হয়েছিল স্বাধীন বাংলাদেশ।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নেতা আবদুস সালাম, জয়নুল আবদীন ফারুক, খায়রুল কবির খোকন, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, আবদুস সালাম আজাদ, শামীমুর রহমান শামীম, মীর নেওয়াজ আলী, হারুনুর রশীদ হারুন, আমিরুজ্জামান শিমুল, তাবিথ আউয়াল প্রমুখ।

এর আগে বিএনপি মহাসচিবের নেতৃত্বে দলটির নেতারা আজিমপুরে কবরস্থানে ভাষা শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। তারা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।

শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তর আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, মহিলা আওয়ামী লীগ, যুব মহিলা লীগ, জাতীয় পার্টি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল, বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল, গণতান্ত্রিক বাম মোর্চা, গণসংহতি আন্দোলন, মুক্তি কাউন্সিল, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, সাংস্কৃতিক লীগ, স্থাপত্য অধিদফতর, বাংলাদেশ পথনাট্য সংসদ, সাউথ এশিয়া পিপলস ফোরাম, বাংলাদেশ স্বাধীনতা পরিষদ, অভিনয় শিল্পী সংঘ, বাংলাদেশ তাঁতী লীগ, কবি সংসদ বাংলাদেশ, বাংলাদেশ স্কাউট, গণবিশ্ববিদ্যালয়, গণতান্ত্রিক পার্টি, খেলাঘর, উদীচী, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, বঙ্গবন্ধু পেশাজীবী পরিষদ।

সকাল ৯টার দিকে ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানান প্রধান বিচারপতি। এ সময় সুপ্রিমকোর্ট ও হাইকোর্টের বিচারপতিরা তার সঙ্গে থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। তারপর শ্রদ্ধা নিবেদন করে বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্যরা।

শ্রদ্ধা জানানো অন্য সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, বাংলাদেশ পুলিশ, র‌্যাব, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন, নির্বাচন কমিশন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ, বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয়তাবাদী যুবদল, ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল, ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্রমৈত্রী, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট, ছায়ানট, আনসার, বাংলাদেশ অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ফোরাম, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা পরিষদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলামনাই অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ হিজড়া কমান্ড কর্পোরেশন, গ্রিন ভয়েজ, অগ্রণী ব্যাংক, রোভার স্কাউট, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি, বাংলাদেশ টেলিভিশন, নারীমুক্তি, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন, সুশাসনের জন্য নাগরিক, পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা)।

সরেজমিন দেখা যায়, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর অনেকেই ঘুরে বেড়িয়েছেন বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকাসহ রাজধানীর বিভিন্ন পার্ক ও উন্মুক্ত স্থানে। সরকারি ছুটি থাকায় অনেকেই পরিবারের সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে শহীদ মিনার ও বইমেলায় আসেন। তাদের পোশাকে ছিল একুশের ছোঁয়া। অনেকের মুখ ও হাতে, বাহুতে আঁকা ছিল শহীদ মিনার। ছোট ছোট শিশুও শহীদ মিনারে আসে বাবা-কাকার পিঠে চড়ে নরম হাতে ভালোবাসার ফুল নিয়ে।

রাজধানীর রমনা থেকে দুই কন্যাশিশুকে নিয়ে আসেন বাবা রকিবুল ইসলাম। পেশায় স্কুল শিক্ষক। দুই শিশুর পরনে কালো আর লাল রঙের পোশাক, হাতে ফুল। রকিবুল ইসলাম জানান, তার ছোট কন্যা প্রথম শ্রেণীতে ও বড় কন্যা তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ছে। ভোর না হতেই তারা পোশাক পরে প্রস্তুত হয়েছিল।

সকাল সাড়ে ৬টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছি। আর এখন প্রায় ১২টা। প্রচণ্ড ভিড়ের কারণে একজনকে আমি, অন্য জনকে তার মামা ঘাড়ে নিয়ে শহীদ মিনারে আসি। প্রচণ্ড ক্ষুধা লাগা সত্ত্বেও মেয়েরা ফুল দিতে পেরে অনেক খুশি। শিশু তাহেরা ও রুবাইয়া জানায়, প্রতি বছরই আসব। ভাষা শহীদরা আমাদের কাছে শ্রদ্ধার, গর্বের।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানি শাসকদের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে ১৪৪ ধারা ভেঙে পথে নেমেছিলেন নানা বয়সী মানুষ। বজ কণ্ঠে আওয়াজ তুলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলা চাই।’ ওই মিছিলে পুলিশ হঠাৎ গুলি চালালে সালাম, বরকত, রফিক, শফিক, শফিউর, জব্বারসহ বাংলা মায়ের অকুতোভয় সন্তানদের তাজা রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ। ভাষার জন্য বাঙালির এ আত্মদানের দিনটিকে ১৯৯৯ সালে ইউনেস্কো আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।

আওয়ামী লীগের শহীদ দিবসের আলোচনা সভা আজ : অমর একুশে ফেব্রুয়ারি, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগের আলোচনা সভা আজ। বিকাল ৩টায় রাজধানীর ফার্মগেটের খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইন্সটিটিউশন মিলনায়তনে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে।

এতে সভাপতিত্ব করবেন আওয়ামী লীগ সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দলটির সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আলোচনা সভা সফল করার জন্য দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

বেরাইদ (ঢাকা উত্তর) : আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, বক্তৃতা, কবিতা আবৃত্তি, রচনা, চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে বেরাইদের বিভিন্ন শিক্ষা, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন।

প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে- একেএম রহমতুল্লাহ বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ, বেরাইদ মুসলিম হাইস্কুল, রওশনআরা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আলহাজ রহিমুল্লাহ মোল্লা দাখিল মাদরাসা ও এতিমখানা, বেরাইদ মুহাম্মাদিয়া দাখিল মাদরাসা, শতদল জুনিয়র হাইস্কুল, বেরাইদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বাংলাদেশ গ্রন্থসুহৃদ সমিতি ও বেরাইদ গণপাঠাগার।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×