সিলেটে উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা

পিডিদের গাফিলতিতে প্রকল্পের বেহাল দশা

  হামিদ-উজ-জামান, সিলেট থেকে ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পরিকল্পনা,

প্রকল্প পরিচালকদের (পিডি) অদক্ষতা ও গাফিলতিতে উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর বেহাল দশা। কেননা অধিকাংশ পিডিই থাকেন ঢাকায়, ফলে প্রকল্পের তদারকি সঠিকভাবে হচ্ছে না। এছাড়া এক ব্যক্তি একাধিক প্রকল্পে পিডির দায়িত্ব পালন করছেন। এ পরিপ্রেক্ষিতে পিডিদের উদ্দেশে পরিকল্পনামন্ত্রী এমএ মান্নান বলেছেন, প্রকল্প পরিচালকদের লাখ লাখ টাকা দামের গাড়ি দেয়া হয় হাওরে ঘুরে বেড়ানোর জন্য। কিন্তু আপনি যদি সেই গাড়িতে চড়ে গুলশান-বনানী ঘুরে বেড়ান তাহলে কেমন করে প্রকল্প বাস্তবায়ন বৃদ্ধি পাবে?

সিলেট বিভাগের ৫৮টি উন্নয়ন প্রকল্পের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় শনিবার সিলেট সার্কিট হাউসে এসব কথা বলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। এদিন পাঁচটি প্রকল্পের পর্যালোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মেজবাহ উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পরিকল্পনামন্ত্রী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ, এনডিসি। বক্তব্য রাখেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ।

প্রকল্প বাস্তবায়নের অবস্থা খুবই খারাপ উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পিডিদের অবশ্যই প্রকল্প এলাকায় থাকতে হবে। এটা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অনুশাসন, তাহলে সেটি পালন করা হচ্ছে না কেন। এটা কেন মানছেন না? সেই সঙ্গে যারা একাধিক প্রকল্পের দায়িত্বে রয়েছেন তাদের একটির বেশি প্রকল্পে থাকা উচিত নয়।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, জনগণের টাকায় গাড়ি কেনা হচ্ছে। সেই গাড়ি থাকছে ঢাকায়। কিন্তু কাজ গ্রামে। এটা অদ্ভুত বিষয়। হাওরে প্রকল্প হচ্ছে কিন্তু আমি জানি না। জনগণ জানতে চায়, আমাদের জবাবদিহি করতে হয়। তাই পারস্পরিক দোষারোপ না করে আসুন সবাই মিলে প্রকল্প বাস্তবায়নে মনোযোগ দিই।

ছয় প্রকল্পের এক পিডি : প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অগ্রাহ্য করে পাঁচটি প্রকল্পে পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সড়ক ও জনপদ বিভাগের অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী তুষার কান্তি সাহা। তিনি যখন তার প্রকল্পের অবস্থা সম্পর্কে বলতে শুরু করেন, তখন পরিকল্পনামন্ত্রী প্রশ্ন করেন, আপনি একজন ৫টি প্রকল্পের পিডি হলেন কিভাবে? জবাবে তিনি বলেন, এভাবেই তো চলছে স্যার। তখন ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা মানলে এটা করা যাবে না।

আইএমইডির সচিব আবুল মনসুর মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, নিয়ম অনুযায়ী ৫০ কোটি টাকা বেশি ব্যয়ের একটি প্রকল্পে একজন পিডি থাকার কথা। তাহলে আপনি আড়াই হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের ৫ প্রকল্পের পিডি হলেন কিভাবে? এর কোনো উত্তর দিতে পারেননি তুষার কান্তি সাহা।

তুষার কান্তি সাহা যেসব প্রকল্পের দায়িত্বে আছেন সেগুলো হল- বানিয়াচং-আজমেরিগঞ্জ সড়ক উন্নয়ন, বিমানবন্দর বাইপাস ইন্টারসেকশন-লালবাগ-সালুটিকর-কোম্পানীগঞ্জ-ভোরাগঞ্জ সড়ক জাতীয় মহাসড়কে উন্নীতকরণ, গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ (সিলেট জোন), সিলেট শহর বাইপাস গ্যারিসন রোড টু শাহপরান সেতু ঘাট সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ, জৈন্ত থেকে জাফলং পর্যন্ত সড়ক উন্নয়ন এবং সিলেট এলাকায় জেলা মহাসড়ক যথাযথ মানে উন্নীতকরণ প্রকল্প।

শূন্য অগ্রগতির যেসব প্রকল্প : সিলেট বিভাগীয় গ্রামীণ একসেস সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটির প্রকল্প পরিচালক (পিডি) জানান, ইসলামিক ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (আইডিবি) অর্থায়নে ২০১৬ সালের মে থেকে চলতি অর্থবছরের জুন পর্যন্ত প্রকল্পটির মেয়াদ রয়েছে। মোট ব্যয় ২৮৭ কোটি টাকার মধ্যে চলতি অর্থবছরে এডিপিতে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৪৯ কোটি টাকা। কিন্তু জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যয় হয়েছে মাত্র ১ কোটি টাকার কিছু বেশি। প্রকল্পের সার্বিক অগ্রগতি মাত্র ২ দশমিক ২৮ শতাংশ। একই অবস্থা সিটি কর্পোরেশনের অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পেও। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় হবে ৫৪৭ কোটি টাকা। ২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদে এটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ৫০ কোটি টাকা। কিন্তু জানুয়ারি পর্যন্ত প্রকল্পটির বাস্তবায়ন অগ্রগতি শূন্য দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ।

এছাড়া সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়ে ও টেক্সিওয়ে উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ চলতি অর্থবছর শেষে হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু প্রকল্পের অনুকূলে ১ টাকাও ব্যয় হয়নি। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের হবিগঞ্জে স্বল্প ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য প্লট উন্নয়নে ১৯ কোটি টাকার প্রকল্পে দু’জন পিডি রয়েছেন। একজন কাজ করেন ঢাকায়, অন্যজন প্রকল্প ম্যানেজার হিসেবে সিলেটে। প্রকল্পটির অগ্রগতি বিষয়ে বিরক্তি প্রকাশ করে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী শ ম রেজাউল করিম সাহেবের সঙ্গে কথা বলব। রেলওয়ের কুলাউড়া-শাহবাজপুর সেকশন পুনর্বাসন প্রকল্পটির মেয়াদ ২০১১ সালের জুলাই থেকে ২০১৯ সালের জুন পর্যন্ত। কিন্তু বাস্তবায়ন হয়েছে মাত্র ৯ দশমিক ৬৩ শতাংশ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×