অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

রাজনীতির বইয়ের পাঠক সবাই

  হক ফারুক আহমেদ ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বইমেলায় এক দর্শনার্থী
বইমেলায় এক দর্শনার্থী। ছবি-যুগান্তর

মানুষ কোনোভাবেই রাজনীতির বাইরে নয়। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক থেকে শুরু করে মানুষের জীবনের অনেক কিছুই প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে রাজনীতি দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। আবার অতীতের নানা রাজনৈতিক ঘটনার চুলচেরা বিশ্লেষণ বইয়ে নানাভাবে উঠে আসে যার ঐতিহাসিক একটি গুরুত্ব রয়েছে।

মেলায় রাজনীতি ও রাজনীতিবিদদের বই কম-বেশি প্রকাশিত পায়। এবারও তাই। প্রকাশকরা বলেন, রাজনীতির বইয়ের পাঠক আসলে সব বয়সীরা। বয়স্কদের পাশাপাশি তরুণরাও রাজনীতি বিষয়ক বই পাঠ করেন।

শ্রাবণ প্রকাশনের সামনে গিয়ে দেখা গেল, রাজনীতি বিষয়ক প্রচুর বই। এবার এ প্রকাশনা থেকে বেরিয়েছে আবুল কাসেম ফজলুল হকের ‘মার্কসবাদ ও আজকের বাস্তবতা’, রাহাত মিনহাজের ‘তাজউদ্দীন মুজিব বাহিনী ও অন্যান্য’, একই লেখকের ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ড : কি চেয়েছিল ভুট্টোর পাকিস্তান?’সহ বেশকিছু বই।

শ্রাবণ প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী রবিন আহসান বলেন, আমাদের বেশিরভাগ বই রাজনীতি বিষয়ক। সারা বছরই বইগুলো বিক্রি হয়। একটু বেশি বয়সীরা রাজনীতির বই পড়লেও তরুণদের আগ্রহও কিন্তু কম নয়। আগামী থেকে প্রকাশ হয়েছে সৈয়দ মিজানুর রহমানের ‘নেতৃত্বে ছাত্রলীগ ইতিহাসের অকাট্য দলিল’। আগামী প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ওসমান গনি বলেন, আমরা সবসময় রাজনীতির বই গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করি।

চারুলিপি থেকে প্রকাশ হয়েছে ইতিহাস-নির্ভর উপন্যাস ‘পাকিস্তানের কারাগারে বঙ্গবন্ধু’। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের রবার্ট পেইনের ভাবানুবাদে বইটি লিখেছেন।

ঐতিহ্য থেকে এসেছে আঞ্চলিক রাজনীতির বেশ কিছু বই। এর মধ্যে রয়েছে আলতাব পারভেজের লেখা ‘বার্মা : জাতিগত সংঘাতের সাত দশক’, একই লেখকের ‘কাশ্মীর ও আজাদির লড়াই’। প্রথমা থেকে এসেছে মহিউদ্দিন আহমদের ‘এক এগারো : বাংলাদেশ ২০০৭-২০০৮’। সময় এনেছে আবুল মাল আবদুল মুহিতের ‘নির্বাচন ও প্রশাসন’, মুনতাসীর মামুনের ‘কেন চেয়েছি শেখ হাসিনাকে’, ‘মাসুদা ভাট্টির ‘বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংকট’। অন্বেষা এনেছে শামস সাইদের ‘ধানমণ্ডি ৩২ নম্বর : গণঅভ্যুত্থান পর্ব’।

এদিকে গত রোববার বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘর মিলনায়তনে প্রফেসর ড. আবু ইউসুফ মো. আবদুল্লাহ রচিত গবেষণাধর্মী বই ‘ভারত ও বাংলা ভাগ এক বিয়োগান্তক অধ্যায়’র প্রকাশনা উৎসব হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব আসাদুজ্জামান খান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন নর্দান ইউনিভার্সিটির উপাচার্য প্রফেসর ড. আনোয়ার হোসেন, অনুষ্ঠানের আহ্বায়ক ও ডিন প্রফেসর ড. আনোয়ারুল করীম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ড. রবীন্দ্রনাথ মণ্ডল এবং ভারত বিচিত্রার সম্পাদক জনাব নান্টু রায়।

গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা : বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক হাবীবুল্লাহ সিরাজী সোমবার গ্রন্থমেলা উপলক্ষে বাংলা একাডেমি পরিচালিত চারটি গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার ঘোষণা করেন। ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ এবং ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে গোলাম মুরশিদের ‘বিদ্রোহী রণকান্ত : নজরুল-জীবনী’ গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে, মইনুদ্দীন খালেদের ‘মনোরথে শিল্পের পথে’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুকসকে এবং মারুফুল ইসলামের ‘মুঠোর ভেতর রোদ’ গ্রন্থের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়।

২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার-২০১৯ এবং ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানসমূহের মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যমা (এক ইউনিট), বাতিঘর (বহু ইউনিট) এবং পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে (প্যাভিলিয়ন) শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি অমর একুশে গ্রন্থমেলার সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে এসব পুরস্কার তুলে দেয়া হবে।

নতুন বই : মেলায় সোমবার নতুন বই এসেছে ১৪৫টি। এর মধ্যে গল্প ২১, উপন্যাস ১৫, প্রবন্ধ ৬, কবিতা ৫৬, গবেষণা ১, ছড়া ৪, শিশুসাহিত্য ৫, জীবনী ৫, রচনাবলি ১, মুক্তিযুদ্ধ ১, বিজ্ঞান ১, ভ্রমণ ৩, ইতিহাস ৩, স্বাস্থ্য ৫, ধর্মীয় ১, অভিধান ১, সায়েন্স ফিকশন ১ এবং অন্যান্য বিষয়ের ওপর ১৫টি। এদিন লেখক বলছি অনুষ্ঠানে নিজেদের নতুন প্রকাশিত গ্রন্থ বিষয়ে আলোচনায় অংশ মোস্তফা হোসেইন, তারেক রেজা, নাহিদ কায়সার, তুষার কবির এবং সৈয়দ জাহিদ হাসান।

মেলামঞ্চের আয়োজন : সোমবার বিকালে গ্রন্থমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘বাংলাদেশের অনুবাদ সাহিত্যের চালচিত্র’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়। আলোচনায় অংশ নেন মানিক মোহাম্মদ রাজ্জাক, আনিসুর রহমান, আলম খোরশেদ ও রাজু আলাউদ্দিন।

সভাপতিত্ব করেন হাবীবুল্লাহ সিরাজী। অনুষ্ঠানের শুরুতে চকবাজারে অগ্নিকাণ্ডে হতাহতদের স্মরণে ঘোষিত জাতীয় শোক দিবসের অংশ হিসেবে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় এবং আজকের নির্ধারিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান স্থগিত রাখা হয়।

কবিকণ্ঠে কবিতা পাঠ করেন কবি মাহমুদ আল জামান, সোহরাব পাশা, নুরুন্নাহার শিরীন, শিহাব শাহরিয়ার, পিয়াস মজিদ, অনিকেত শামীম, আমিনুর রহমান এবং ফিরোজ আহমদ। আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী মিজানুর রহমান সজল এবং মাসুম আজিজুল বাশার।

সংশোধনী : সোমবার দৈনিক যুগান্তরের শেষ পৃষ্ঠায় প্রকাশিত ‘অমর একুশে গ্রন্থমেলা’র প্রতিবেদনে ব্যবহৃত ছবির ক্যাপশনে একটি বইয়ের লেখক হিসেবে ভুলবশত জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামানের নাম ছাপা হয়, প্রকৃতপক্ষে বইটির অনুবাদক আনিসুজ্জামান।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×