যুক্তরাষ্ট্রের কারণে ভেস্তে গেল কোরিয়ার শান্তি

চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ ট্রাম্প-কিম * অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে ছাড় দেননি ট্রাম্প * তৃতীয় বৈঠকের কোনো পরিকল্পনা নেই, হতাশ দক্ষিণ কোরিয়া

  যুগান্তর ডেস্ক ০১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

যুক্তরাষ্ট্রের কারণে ভেস্তে গেল কোরিয়ার শান্তি

যে কোনো উপায়ে উত্তর কোরিয়ার সম্পূর্ণ পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চায় যুক্তরাষ্ট্র। সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠকে সেই প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল উত্তর কোরিয়া।

শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, নিরস্ত্রীকরণের পথেই হাঁটছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উন। ভিয়েতনামের হ্যানয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকের মধ্য দিয়ে সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণের সে স্বপ্নই দেখছিল দুই কোরিয়া।

যুক্তরাষ্ট্রের কারণেই ভেস্তে গেল সব। বৃহস্পতিবার কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হল পিয়ংইয়ং-ওয়াশিংটন নিরস্ত্রীকরণ সম্মেলন।

সারা বছর ঢাকঢোল পিটিয়ে শেষ পর্যন্ত চুক্তিতে পৌঁছতে ব্যর্থ হয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। ফলে আলোচনা সংক্ষিপ্ত করে বৈঠকের ইতি টানতে হয়েছে দুই নেতাকে। যৌথ বিবৃতিতেও অংশ নেননি তারা।

পরে পৃথক পৃথক বিবৃতি দেন। বাতিল করা হয় বৃহস্পতিবারের নির্ধারিত বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ। ট্রাম্প-কিমের মধ্যে তৃতীয় কোনো বৈঠক হবে কি না, সে ব্যাপারেও কোনো পরিকল্পনা হয়নি। খবর এএফপি ও দ্য গার্ডিয়ানের । বুধবার নৈশভোজের পর শুরু হয় বৈঠক। বৈঠকে নিরস্ত্রীকরণের বিনিময়ে সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়ার প্রস্তাব দেয় পিয়ংইয়ং। কিন্তু এ প্রস্তাব মেনে নিতে অস্বীকার করেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের দাবি, নিষেধাজ্ঞা বহাল অবস্থাতেই পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ করতে হবে পিয়ংইয়ংকে। ওয়াশিংটনের এ অযৌক্তিক দাবি মেনে নিতে কিম রাজি না হওয়ায় সঙ্গে সঙ্গেই বৈঠকের সমাপ্তি টানেন ট্রাম্প। আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলন করেন ট্রাম্প। কোনো চুক্তি না হওয়ার কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতের অমিলকে দায়ী করেন তিনি। বলেন, ‘তারা আমাদের দাবি অনুযায়ী নিরস্ত্রীকরণে রাজি। তবে এর বিনিময়ে সব নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার চান। এটা আমাদের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরা এটা করতে পারব না।’ তিনি আরও বলেন, ‘চাওয়া-পাওয়ায় অনেক ব্যবধান। আমরা নিষেধাজ্ঞা অব্যাহত রাখব।’

ট্রাম্প বলেন, কিমের সঙ্গে তৃতীয় কোনো বৈঠকের পরিকল্পনা তার নেই। তবে স্পষ্ট করে বলেছেন, সমস্যা সমাধানে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে এবং আলোচনার সব পথই খোলা থাকবে। সিঙ্গাপুর বৈঠকের পর নতুন করে আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বোমার পরীক্ষা করেনি পিয়ংইয়ং। ট্রাম্প জানান, কিম তাকে ক্ষেপণাস্ত্র ও পরমাণু বোমার পরীক্ষা বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বিপরীতে দক্ষিণ কোরিয়ার সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপের কাছে কোনো সামরিক মহড়া না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এ অঞ্চলে যে কোনো সামরিক মহড়া না চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কারণ এটা করতে আমাদের কোটি কোটি ডলার খরচ হয়। আমি এগুলো আর দেখতে চাই না।’ যৌথ বিবৃতি না দিলেও বৃহস্পতিবার প্রথমবার আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে খোলাখুলি কথা বলেন কিম।

তিনি বলেন, হ্যানয়ে আমার উপস্থিতিই প্রমাণ করে নিরস্ত্রীকরণে ইচ্ছুক। যদি আমি না চাইতাম, কখনোই এখানে আসতাম না।’ ওয়াশিংটনের সঙ্গে পরমাণু আলোচনা এগিয়ে নেয়ার পক্ষেই কিমের অবস্থান। এজন্য পিয়ংইয়ংয়ে মার্কিন কূটনৈতিক স্থায়ী উপস্থিতির সম্ভাবনারও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

কোরীয় উপদ্বীপে শান্তির লক্ষ্যে পরমাণু ইস্যুতে ট্রাম্প-কিমের বৈঠক থেকেই একটি স্পষ্ট ও স্থায়ী চুক্তির অপেক্ষায় ছিলেন দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারা। কিন্তু সেটা না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছে দেশটির প্রেসিডেন্ট মুন জায়ে-ইন। তবে অদূরভবিষ্যতে নিরস্ত্রীকরণ চুক্তির ব্যাপারে আশাবাদী সিউল। বৃহস্পতিবার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এটা আফসোসের বিষয় যে, দ্বিতীয় শীর্ষ বৈঠকেও চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছে। তবে অর্থপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে।’

গত বছরের জুনে সিঙ্গাপুরে ঐতিহাসিক বৈঠক শেষে দুই দেশের মধ্যে এক সমঝোতা চুক্তি হয়। যৌথভাবে কোরিয়া উপদ্বীপকে পারমাণবিক অস্ত্রমুক্ত করার ব্যাপারে একমত হন ট্রাম্প ও কিম। তবে নিরস্ত্রীকরণের রূপরেখা সুনির্দিষ্ট না হওয়ায় দু’দেশের মধ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ও দরকষাকষি অব্যাহত থাকে। এ বছরের শুরু থেকে ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নতুন বৈঠকের ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করেন।

উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে কয়েকটি চিঠিও আদান-প্রদান হয়েছে তার। এর মধ্য দিয়েই নির্ধারিত হয় আলোচনার তারিখ ও ভেন্যু। ধারণা করা হচ্ছিল, এ বৈঠকে পরমাণু ইস্যুতে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে দুই পক্ষ। তবে শেষ পর্যন্ত তেমন কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি তারা। এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়ে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র সারাহ স্যান্ডার্স বলেন, ‘এবার কোনো চুক্তিতে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। উভয় পক্ষই ভবিষ্যতে আরও বৈঠকের কথা ভাবছে।’

ঘটনাপ্রবাহ : হ্যানয়ে ট্রাম্প-কিমের দ্বিতীয় বৈঠক

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

 
×