অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯

সময় বাড়ল দুই দিন

  হক ফারুক আহমেদ ০১ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সময় বাড়ল দুই দিন

টানা কয়েক দিনের বৃষ্টি আতঙ্ক বৃহস্পতিবারও ছিল। বৃষ্টিতে কি হবে না হবে তা নিয়ে কত কথা। আবহাওয়া অফিসের বার্তা ছিল বেলা ৩টার পর আকাশ পরিষ্কার হয়ে যাবে।

পুরোপুরি সেটা না হলেও বৃষ্টি হয়নি। পাঠক এল স্রোতের মতো। বই বিক্রি হল মেলার শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত। তবে এখানেই শেষ হল না। মেলায় যখন শেষ মুহূর্তের বিক্রি চলছে তখনই রাত ৮টার দিকে ঘোষণা আসে মেলার সময়সীমা আরও ২ দিন বাড়ানো হয়েছে।

বইমেলার ইতিহাসের প্রায় সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে সময় বাড়ল। লেখক-প্রকাশকদের দাবির মুখে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা অনুসারে শুক্রবার এবং শনিবারও মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। এদিকে বৃহস্পতিবার মেলায় প্রকাশ হয়েছে যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমের প্রবন্ধগ্রন্থ ‘গণতন্ত্রের যাত্রা ও অন্যান্য’।

রীতি অনুযায়ী সন্ধ্যায় মেলার সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। সেখানেই সমাপনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কেএম খালিদ তার বক্তৃতার একপর্যায়ে সময় বাড়ানোর সংবাদ দেন। তিনি বলেন, আপনাদের সবার জন্য সুসংবাদ।

মেলার সময় বৃদ্ধির জন্য আপনাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে গ্রন্থমেলার সময় ২ দিন বাড়ানো হল। অর্থাৎ ২ মার্চ শনিবার পর্যন্ত চলবে এবারের গ্রন্থমেলা। এ ঘোষণার পরপর মেলার দু’প্রাঙ্গণেই আনন্দ ধ্বনি শোনা যায়। এরপর সংস্কৃতি মন্ত্র্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিবৃতিতে জানানো হয়, লেখক ও প্রকাশকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুসারে অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯-এর সময়সীমা ২ দিন বৃদ্ধি করা হয়েছে। ফলে ২ মার্চ পর্যন্ত অমর একুশে গ্রন্থমেলা চলবে।

২৭ ফেব্রুয়ারি মেলা বৃষ্টির কারণে বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকেই প্রকাশকরা দাবি জানাতে থাকেন বইমেলার সময় বাড়ানোর। এ নিয়ে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মেলার আয়োজক প্রতিষ্ঠান বাংলা একাডেমির সঙ্গে বৈঠক করেন প্রকাশক নেতারা।

একপর্যায়ে জানিয়ে দেয়া হয়, মেলার সময় বাড়ছে না। তবে শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণার খুশি সবাই। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে বয়ে যায় খুশির জোয়ার। অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, আমরা খুবই খুশি।

প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ, প্রকাশকদের মনের কথা শোনার জন্য। সে সঙ্গে এবারের মেলার যে প্রতিপাদ্য- ৫২ থেকে ৭১, তাও পরিপূর্ণতা পেল। কারণ ভাষার মাস ফেব্রুয়ারি থেকে মেলা ছড়িয়ে গেল স্বাধীনতার মাস মার্চে। তবে মেলার শেষ দিন ধরে নিয়ে এদিন বেলা ৩টা থেকেই বইপ্রেমীদের ঢল নামতে শুরু করে মেলা প্রাঙ্গণে। বইপ্রেমীরা কিনতে থাকেন শেষ বইগুলো। এদিকে মেলা শেষ ধরে বাংলা একাডেমির মূল মঞ্চে আয়োজিত সমাপনী অনুষ্ঠানে সদস্য সচিবের বক্তব্যে ড. জালাল আহমেদ বলেন, এবারের মেলায় ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্টল মালিকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য এবং ২৮ ফেব্রুয়ারির সম্ভাব্য বিক্রি যুক্ত করে বাংলা একাডেমি জানিয়েছে, এবার মেলায় গতবারের তুলনায় ১০ শতাংশ বেশি টাকার বই বিক্রি হয়েছে।

গতবারের বিক্রি ছিল ৭০ কোটি ৫০ লাখ টাকা। এবার ৭৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকার বই বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ২৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলা একাডেমি ৩ কোটি ৯১ হাজার টাকার বই বিক্রি করেছে বলে জানা গেছে। আর বৃহস্পতিবারের বিক্রি ১৫ লাখ টাকা ধরে এ অঙ্ক দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ১৫ লাখ ৯১ হাজার টাকা।

ড. জালাল আহমেদ আরও বলেন, নীতিমালা ভঙ্গ করার দায়ে এবার দুই দফার ২৮টি প্রকাশনা সংস্থাকে কারণ দর্শানোর চিঠি দেয়া হয়েছে। যাদের প্রত্যেককেই আগামীবার নীতিমালা ভঙ্গ করবে না বলে জানিয়ে চিঠি দিয়েছে বাংলা একাডেমিকে। এবার তিন হাজারের অধিক অতিথি ৮২০টি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেছেন। এবারের মেলার অন্যতম আর্কষণ ছিল লেখক বলছি মঞ্চ, যাতে ১৩৪ জন লেখক ২ হাজার ৪৮০ মিনিট কথা বলেছেন।

মেলা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত আসার পর স্থগিত করা হয় সমাপনী অনুষ্ঠান। তবে অনুষ্ঠানে কবি নির্মলেন্দু গুণকে কবি জসীমউদ্দীন সাহিত্য পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। সে সঙ্গে বাংলা একাডেমির প্রবর্তিত বিভিন্ন গুণীজন স্মৃতি পুরস্কার তুলে দেয়া হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত বিষয় ও গুণমানসম্মত সর্বাধিক সংখ্যক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য কথাপ্রকাশকে চিত্তরঞ্জন সাহা স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯; ২০১৮ সালে প্রকাশিত গ্রন্থের মধ্যে গুণমান ও শৈল্পিক বিচারে সেরা গ্রন্থ বিভাগে গোলাম মুরশিদের ‘বিদ্রোহী রণক্লান্ত : নজরুল-জীবনী’ গ্রন্থের জন্য প্রথমা প্রকাশনকে, মইনুদ্দীন খালেদের ‘মনোরথে শিল্পের পথে’ গ্রন্থের জন্য জার্নিম্যান বুক্সকে এবং মারুফুল ইসলামের ‘মুঠোর ভেতর রোদ’ গ্রন্থের জন্য চন্দ্রাবতী একাডেমিকে মুনীর চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়। ২০১৮ সালে প্রকাশিত শিশুতোষ গ্রন্থের মধ্য থেকে গুণমান বিচারে সর্বাধিক গ্রন্থ প্রকাশের জন্য পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে রোকনুুজ্জামান খান দাদাভাই স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ এবং ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় অংশগ্রহণকারী প্রকাশনা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্য থেকে নান্দনিক অঙ্গসজ্জায় সেরা প্রতিষ্ঠান হিসেবে মধ্যমা (এক ইউনিট), বাতিঘর (বহু ইউনিট) এবং পাঞ্জেরী পাবলিকেশন্স লিমিটেডকে (প্যাভেলিয়ন) শিল্পী কাইয়ুম চৌধুরী স্মৃতি পুরস্কার ২০১৯ প্রদান করা হয়।

সবশেষে মেলার মূল মঞ্চে সাংস্কৃতিক আয়োজনে সঙ্গীত পরিবেশন করেন শিল্পী ফরিদা পারভীন, আকরামুল ইসলাম, মহিউজ্জামান চৌধুরী এবং ইয়াসমিন মুশতারী।

একুশে গ্রন্থমেলার এসেছে সাইফুল আলমের ‘গণতন্ত্রের যাত্রা ও অন্যান্য’ : বৃহস্পতিবার মেলায় প্রকাশিত হয়েছে যুগান্তরের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি সাইফুল আলমের প্রবন্ধ গ্রন্থ ‘গণতন্ত্রের যাত্রা ও অন্যান্য’। বইটি পাওয়া যাবে পলল প্রকাশনীর স্টলে। স্টল নম্বর ১৭৮। বইটির মূল্য রাখা হয়েছে ১৭৫ টাকা। প্রচ্ছদ এঁকেছেন সোহানুর রহমান।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×