অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯: বর্ধিত দিনে বিক্রি ভালো

  হক ফারুক আহমেদ ০২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯: বর্ধিত দিনে বিক্রি ভালো
অমর একুশে গ্রন্থমেলা ২০১৯: বর্ধিত দিনে বিক্রি ভালো। ছবি: যুগান্তর

লেখক-প্রকাশকদের জোর দাবি ছিল মেলার সময় বাড়ানোর। সেই কথাটি পৌঁছে যায় প্রধানমন্ত্রীর কাছে। তার নির্দেশে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় বাড়ানোর ঘোষণা আসে ফেব্রুয়ারির ২৮তম দিনে। তাও আবার মেলা শেষ হওয়ার ঘণ্টা দেড়েক আগে। সে অনুযায়ী শুক্রবার মেলার বর্ধিত সময়ের প্রথম দিনটিতে বইয়ের বিক্রি ভালোই ছিল, তবে আহামরি নয়।

সকালের দিকে মেলায় প্রবেশ করতেই দেখা যায়, লোকসমাগম একেবারেই যেন নেই। যারা ছিলেন অনেকটা আড্ডামুখর সময় কাটিয়েছেন সকালটায়। শিশু চত্বরে শিশুদের উচ্ছ্বাস ছিল। তবে এদিন সকালে শিশুরাও এসেছে কম। এমন ঢিলেঢালা ভাব দেখে প্রকাশকদের অনেকের মুখেই প্রথমে কিছুটা হতাশার ছাপ দেখা যায়।

কিন্তু শেষ বিকালের চিত্রটা পাল্টে যায় পুরোপুরি। প্রচুর মানুষের সমাগমে মেলা প্রাঙ্গণ পূর্ণ হয়ে যায়। সন্ধ্যা ৬টার পর লোকসমাগম এতটাই বেশি ছিল যে হাঁটতেও বেগ পেতে হয়েছে আগতদের। যে পরিমাণ মানুষের সমাগম হয়েছে সেই তুলনায় বিক্রি কিছুটা কমই। তবে বিক্রি নেহাত মন্দও নয়। বড় প্রকাশনাগুলোতে বিক্রির পরিমাণ ছিল সন্তোষজনক, সেই তুলনায় মাঝারি বা ছোট প্রকাশনাগুলোতে বিক্রি মোটামুটি।

বর্ধিত এ সময় নিয়ে শুক্রবার ফেসবুকে জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ও অন্যপ্রকাশের প্রধান নির্বাহী মাজহারুল ইসলাম এক পোস্টে লেখেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বইপ্রীতির কথা আমরা জানি। আরও একবার এর নজির তিনি রাখলেন। তার সিদ্ধান্তে অমর একুশে গ্রন্থমেলার সময় বাড়ল দুই দিন। ১ ও ২ মার্চ শুক্র ও শনিবার ছুটির দিনে মেলা চলবে সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে।’

চারুলিপি প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী হুমায়ূন কবির বলেন, ‘মেলা বাড়ানোর সিদ্ধান্তটি গণমাধ্যমে চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হওয়ায় মানুষ এ বিষয়টি সম্পর্কে জানতে পেরেছে। তাই মেলায় মানুষ ঘুরেফিরে সময় কাটানোর পাশাপাশি বইও কিনছে।’

এদিকে আজ শনিবার শেষ হবে অমর একুশে গ্রন্থমেলা। সকাল ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে আজকের মেলা। তবে বৃহস্পতিবার মেলার মূল মঞ্চে ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান অংশে সমাপনী অনুষ্ঠান হয়ে যাওয়ায় কোনো সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা থাকছে না আজকে। এ তথ্য জানিয়েছেন মেলা পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব ড. জালাল আহমেদ।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৫ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে সাত দিন বাড়ানো হয়েছিল অমর একুশে গ্রন্থমেলা। দুই যুগ পর আবারও মেলার সময়সীমা বাড়ানো হল এবার।

নতুন বই : বাংলা একাডেমির তথ্য কেন্দ্রের হিসাব মতে, মেলার বর্ধিত সময়সীমার প্রথম দিনে শুক্রবার ৮৬টি নতুন বই এসেছে। এর মধ্যে গল্প ১৫, উপন্যাস ৭, প্রবন্ধ ৩, কবিতা ৩১, ছড়া ২, শিশুসাহিত্য ৬, জীবনী ২, মুক্তিযুদ্ধ ৬, নাটক ১, বিজ্ঞান ৩, ভ্রমণ ১, রাজনীতি ১, কম্পিউটার ১, অনুবাদ ১, বৈজ্ঞানিক কল্পকাহিনী ১ ও অন্যান্য বিষয়ের ওপরে আরও ৫টি নতুন বই এসেছে।

শুক্রবার মেলায় আসা নতুন বইগুলোর মধ্যে রয়েছে- নির্মলেন্দু গুণের ‘আনন্দ উদ্যান’ ও সেলিনা হোসেনের ‘মেয়রের বাড়ি’ (রাবেয়া বুক হাউজ), অধ্যাপক অপু উকিল ও মো. মাকসুদুল ইসলামের ‘স্মরণে ভাস্বর : শহীদ ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী’ (গ্রাফোসম্যান পাবলিকেশন্স), মাহবুব আজীজের ‘অমীমাংসিত’ ও মুহম্মদ নূরুল হুদার ‘বারো বছরের গল্প’ (পাঠক সমাবেশ), মোহাম্মদ বদরুল হাসান টিটুর শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ ‘শিয়ালছানা ও দুষ্টু ছেলের দল’ (বাংলানামা), মুকুল মজুমদারের ‘হৃদয়ে আল মাহমুদ’ (বাবুই)।

এবারের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় সবচেয়ে কম বয়সী লেখক অরিত্র ঋদ্ধি বিশ্বাস। মাত্র সাড়ে সাত বছর বয়সে ছড়ার বই লিখে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছে খুদে এই লেখক। বইটি প্রকাশ করেছে ‘কারুবাক’ প্রকাশনী। প্রচ্ছদ এঁকেছেন চারু পিন্টু। মেলায় শিক্ষক ও কলামিস্ট মো. আবুসালেহ সেকেন্দারের ‘বাংলা কোচবিহার সামরিক ইতিহাস’ বইটি প্রকাশ করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়। কথাসাহিত্যিক মোস্তফা সোহেলের ১৪টি গল্পের গ্রন্থ ‘ভালোবাসা অথবা বিভ্রমের গল্প’ প্রকাশ করেছে বাংলানামা, কলম প্রকাশনী থেকে প্রকাশ হয়েছে রহিমা আক্তার রীমার গল্পগ্রন্থ ‘পারফিউম’।

ঘটনাপ্রবাহ : বইমেলা ২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×