ভোট না হওয়ার চেয়ে বরং এটা ভালো : ওবায়দুল কাদের

পাঁচ কারণে ভোটার উপস্থিতি কম * ব্যর্থতা-সফলতা নয়, এটাই বাস্তবতা

  যুগান্তর রিপোর্ট ০২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ওবায়দুল কাদের
ওবায়দুল কাদের। ফাইল ছবি

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ভোটের দিন ছুটি ছিল। তিন দিনের ছুটি পেয়ে অনেক ভোটার বাড়ি চলে গেছেন। বড় একটি দল অংশ নেয়নি। দিনের শুরু থেকে বৃষ্টির বাগড়া ছিল। তাছাড়া এটা একটি উপনির্বাচন। সব মিলিয়ে ভোটারদের উপস্থিতি কম ছিল।

আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমণ্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে শুক্রবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, ডেমোক্রেসি (গণতন্ত্র) তো রাখতে হবে। নির্বাচনী প্রক্রিয়াও থাকতে হবে। সংবিধানও চলবে। নিয়মকানুন তো জলাঞ্জলি দেয়া যাবে না। নির্বাচনটা বন্ধ থাকার চেয়ে নির্বাচনটা হয়েছে। ‘সাম ফর্ম অব ডেমোক্রেসি ইজ বেটার দ্যান নো ডেমোক্রেসি। সাম ফর্ম অব ইলেকশন ইজ বেটার দ্যান নো ইলেকশন (গণতন্ত্রের কিছু থাকা না-থাকার চেয়ে ভালো। ভোট না হওয়ার চেয়ে বরং এটা ভালো)।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, আপনাদের কি মনে আছে, ২০০১ সালে ঢাকা সিটি নির্বাচনের কথা। সেবার তো টেন পার্সেন্ট লোক উপস্থিত ছিল। তাহলে তুলনা করেন যে ২০০১ সালে কি হয়েছিল। ওটা তো একেবারেই একটা ভোটারশূন্য নির্বাচন ছিল। ২০০১ সালে ‘টেন পার্সেন্ট’ ভোট নিয়ে সাদেক হোসেন খোকা মেয়র নির্বাচিত হয়েছিলেন। সে মেয়র নির্দিষ্ট সময়ের চেয়ে আরও তিন বছর বেশি সময় ক্ষমতায় ছিলেন। কিন্তু এবার এতকিছুর পরও তুলনামূলক উপস্থিতি অনেক বেশি। তাই এসব বিষয় সেভাবে না দেখে সামগ্রিকভাবে নির্বাচনটিকে দেখতে হবে। নির্বাচনে ভোটারের উপস্থিতি কম হওয়ার জন্য রাজনৈতিক দলগুলোকে দায়ী করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার কেএম নুরুল হুদার দেয়া বক্তব্য প্রসঙ্গে সেতুমন্ত্রী বলেন, এটা ব্যর্থতা, সফলতার বিষয় নয়, এটা বাস্তবতা।

যারা জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিল, তারা এখানে এলো না কেন? সে ব্যর্থতার দায় কি সরকারি দল নেবে? তারা অংশ না নিলে আমরা কি তাদের বাধ্য করব? কাজেই ব্যর্থতা সফলতা নয়, এটা বাস্তবতা। এটাই স্থানীয় সরকার নির্বাচন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকারি দল যদি হেরেও যায়, তবুও তো আকাশ ভেঙে পড়বে না।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে এখানে জোর করে কেউ সরিয়ে দেয়নি। তারা নিজেরাই নির্বাচনে আসেনি। তারা না এসে সমালোচনা করলে তো হবে না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, সুবিধা বুঝে বিএনপি নির্বাচন করে। এর আগে তারা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে অংশ নিয়েছিল। তখন চারটি সিটি কর্পোরেশনে তারা জিতেছিল। তাতে তো আকাশ ভেঙে পড়েনি। তিনি বলেন, রাজনীতি জোয়ার-ভাটার মতো। আজ আমরা আছি, কাল নাও থাকতে পারি।

একটি রাজনৈতিক দল আজীবন ক্ষমতায় থাকবে এমন অহমবোধ থাকা উচিত নয়। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির অবস্থা আরও খারাপ হবে এমন দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি যেভাবে একের পর এক নির্বাচন বয়কট করা শুরু করেছে; তাতে আগামী জাতীয় নির্বাচনে তাদের অবস্থা আরও খারাপ হবে। নির্বাচন থেকে দূরে সরে যাওয়া, মোটেই গণতান্ত্রিক ওয়ে (পথ) নয়।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ না নিলেও নেতাকর্মীরা কিন্তু অংশ নিচ্ছে। অংশ নেয়া নেতাদের বহিষ্কার করা হলেও মাঠের কর্মীরা থেমে নেই। ‘আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে প্লাস্টিক সার্জারি করে ফেলছে’ বিএনপির এমন অভিযোগের জবাবে মন্ত্রী বলেন, তারা (বিএনপি) রাজনীতিতে ব্যর্থ হয়ে এখন কথামালার চাতুরী ছাড়া তাদের আর কিছু বলার নেই। সংবাদ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ ও কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য এসএম কামাল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

ঘটনাপ্রবাহ : ঢাকা উত্তর সিটি নির্বাচন

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×