সোনাইমুড়ীতে সাবেক যুবদল নেতা খুন

প্রকাশ : ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

  যুগান্তর রিপোর্ট, নোয়াখালী

জেলার সোনাইমুড়ী উপজেলার ওয়ার্ড যুবদলের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন (৪৩) খুন হয়েছেন।

পারিবারিক বিরোধের জেরে আমজাদকে বৃহস্পতিবার দুুপুর ১২টার দিকে উপজেলার আমিষ্যাপাড়া ইউনিয়নের কেশবপুর গ্রাম থেকে তুলে নেয়া হয়। আধা ঘণ্টা পর পাশের ইউনিয়নের ধর্মপুর গ্রামে খালপাড় থেকে তার গুলিবিদ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ১৭ বছর আগে প্রেম করে বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে আমজাদের বিরোধ চলছিল। সূত্র বলেছে, ৩ সন্তানের জনক আমজাদকে তালাক দেয়ার জন্য মেয়ে স্বপ্নার ওপর চাপ দিচ্ছিলেন শ্বশুর হেদায়েত উল্লাহ ও তার ছেলেরা।

পাশাপাশি গ্রামে দুই পরিবারের বাস। আমজাদ যুবদল এবং তার শ্যালকরা যুবলীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় বিরোধ বাড়ছিল। আমজাদকে মেনে নেয়নি তার শ্যালকরা। এ নিয়ে মাঝেমধ্যেই বিরোধ দেখা দিচ্ছিল। খুনের পর স্বপ্না বেগম যে মামলা করেছেন, সেখানেও আসামি করা হয়েছে আমজাদের শ্যালক ফিরোজ আলম, পারভেজ, জসিম উদ্দিন, জসিম উদ্দিনের ছেলে রাকিব হোসেন, চাচাতো শ্যালক ফারুক, পাশের বাড়ির সন্ত্রাসী মহনসহ ৭-৮ জনকে। তারা সবাই যুবলীগকর্মী। ঘটনার পর থেকেই তারা পলাতক। কোনো পদে না থাকলেও আমজাদ গত জাতীয় নির্বাচনে ধানের শীষের পক্ষে প্রচার চালান। ৩০ ডিসেম্বরের ওই নির্বাচনে হেরে যাওয়ার পর তার বাড়িঘরে হামলা চলানো হয়। নানা হুমকিধমকির মুখে আমজাদ ওই সময়ই গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় তার ভাই ব্যবসায়ী আবুল বাসার মানিকের বাসায় উঠেন। বুধবার রাতে আমজাদ বাড়ি ফিরেন। বৃহস্পতিবার বাড়ির পাশের দোকানে গেলে আগে থেকে ওতপেতে থাকা ৭-৮ জনের দল তাকে তুলে ২-৩ কিমি. দূরে পাশের ইউনিয়নে নিয়ে হত্যা করে লাশ খালের পাড়ে ফেলে রাখে। পুলিশ লাশ উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে সুরতহাল শেষে স্বজনের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত আমজাদ মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে। নিহতের ভাই আবুল বাসার মানিক মুঠোফোনে যুগান্তরকে বলেন, বিয়ের পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে বিরোধ চলছে ভাইয়ের। আমজাদকে তার শ্বশুর ও শ্যালকরা মেনে নিতে না পেরে অপহরণের পর গুলি করে হত্যা করেছে।

তারা সবাই যুবলীগের কর্মী।

সোনাইমুড়ী থানার এসআই নামজুল হাসান যুগান্তরকে জানান, পারিবারিক কোন্দলের জেরে আমজাদের শ্যালকরা তাকে হত্যা করে থাকতে পারে। ভাড়াটে সন্ত্রাসীরাও ছিল। তাদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। নিহতের স্ত্রী স্বপ্না বেগম বাদী হয়ে মামলা করেছেন। আসামিরা পলাতক।