যুগান্তরকে ডিএনসিসি মেয়র

দখলদার যেই হোক উচ্ছেদ করা হবে

একটি দোকানে দুটি গাছ না থাকলে লাইসেন্স নবায়ন নয়, আনিসুলের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে * ডিএনসিসির নতুন এলাকায় ‘ইউটিলিটি ডাক’ পদ্ধতিতে সেবা * জাতির পিতার জন্মদিন ১৭ মার্চ বিশেষ সেবা কার্যক্রম শুরু হবে

  মতিন আব্দুল্লাহ ১৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দখলদার যেই হোক উচ্ছেদ করা হবে

সড়ক, ফুটপাত বা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) সম্পত্তির অবৈধ দখলদারদের যে কোনো মূল্যে উচ্ছেদ করার ওপর জোর দিলেন নবনির্বাচিত মেয়র আতিকুল ইসলাম।

বুধবার তার সঙ্গে যুগান্তরের একান্ত আলাপচারিতায় এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনার নানা দিক উঠে আসে। নতুন মেয়র প্রয়াত আনিসুল হকের অসমাপ্ত কাজ সম্পন্ন করার ওপরও জোর দিয়েছেন।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স, যানজট ও জলাবদ্ধতা নিয়ে কাজ করার অঙ্গীকার ছাড়াও নগরবাসীর সেবা নিশ্চিতে সেবা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বিতভাবে কাজ করার বিষয়টি গুরুত্ব পায় তার কথায়।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের জনবান্ধব উদ্যোগ নিয়ে জানতে চাইলে আতিকুল ইসলাম বলেন, গণপরিবহনে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ বাস্তবায়নে আনিসুল হক বেশকিছু উদ্যোগ নেন। তার অন্যতম ছিল, ২৪৬টি বাস রুটকে ২২টিতে নিয়ে আসা। কিছুটা অগ্রসর হওয়ার পর তিনি মারা যান। এরপর সব স্থবির। ছাত্র আন্দোলনের পর দক্ষিণের মেয়রকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

শুনেছি, তিনি দুটি সভা করেছেন। আজ (বুধবার) ওই কমিটির তৃতীয় সভা, আমি থাকব। এসব কাজ অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য চলতে পারে না। এছাড়া মহাখালী, গাবতলী ও মোহাম্মদপুরের বাসস্ট্যান্ডসহ সড়কের বিশৃঙ্খলা রোধে যেসব পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল, তা পর্যায়ক্রমে কার্যকর করা হবে।

তেজগাঁওয়ের ট্রাকস্ট্যান্ড সড়ক দখল সম্পর্কে তিনি বলেন, ট্রাকস্ট্যান্ডটি আনিসুল হক যে অবস্থায় রেখে গিয়েছিলেন, সে অবস্থায় ফিরিয়ে আনা হবে। যারা সড়কে ট্রাক রেখে যানচলাচলে বিঘ্ন ঘটাবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। অচিরেই তা দেখতে পাবেন।

সড়ক-ফুটপাত ও ডিএনসিসির সম্পত্তি দখলমুক্ত সম্পর্কে নতুন মেয়র বলেন, সড়ক-ফুটপাত ও কর্পোরেশনের সম্পত্তি দখল করে কাউকে ব্যক্তিগত কাজ করতে দেয়া হবে না।

প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক শহরকে বাসযোগ্য করতে সড়ক, ফুটপাতসহ অন্যান্য স্থান থেকে দখলদার উচ্ছেদে যেসব কাজ শুরু করেছিলেন, তা চলবে। পেছনে ফিরে যাওয়ার কারণ নেই। সব ভালো কাজের ধারা অব্যাহত রাখা আমার নীতি, এ থেকে সরব না।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, শেওড়াপাড়া থেকে যে সড়কটি ৬০ ফুট সড়কে গিয়ে মিশেছে, ওই সড়কের অবৈধ স্থাপনা অপসারণের কাজ শুরু করেছিলেন আনিসুল। তার অবর্তমানে দখলদাররা বহাল তবিয়তে থাকবেন, তা ভাবার কারণ নেই।

জলাবদ্ধতা নিয়ে আতিকুল ইসলাম বলেন, জলাবদ্ধতার কারণ অনুসন্ধান ও সমাধানে ঢাকা ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলীকে সঙ্গে নিয়ে মঙ্গলবার শহরের বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছি। এখানে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের সহযোগিতা নেব। আশা করি, সবার সহযোগিতা পাব। তিনি বলেন, খাল সংস্কারের দায়িত্ব নেব কি না, সে বিষয়ে এ মুহূর্তে সিদ্ধান্ত জানাচ্ছি না। আমি চাচ্ছি, যার যতটুকু দায়িত্ব, সে ততটুকু পালন করুক। তিনি বলেন, যে সমন্বয় কর্তৃপক্ষ গঠন করা হয়েছে, আমি ওই কমিটির মাধ্যমে তা নিরসনের চেষ্টা করব। ব্যর্থ হলে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চাইব।

যানজট নিরসনে গৃহীত ইউটার্ন প্রকল্পটি এখন বন্ধ, সেটি চালুর বিষয়ে তিনি বলেন, আনিস ভাই কাজটি শুরু করেছিলেন। দুটি ইউটার্নের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। খোঁজখবর নিয়ে ইউটার্ন নির্মাণ প্রকল্পের কার্যক্রম চালুর বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেব। জনবান্ধব, শহরবান্ধব কাজ সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাবে।

কূটনৈতিক জোনে বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান নিয়ে তিনি বলেন, কূটনৈতিক জোনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হবে। দ্রুততম সময়ে রাজউক, পুলিশসহ সেবা প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে একটি সমন্বয় সভা করব। তিনি বলেন, গুলশান, বনানী, বারিধারার আবাসিক সড়কে কোনো ট্রেড লাইসেন্স নেই; কিন্তু ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হবে। এ জোনের নিরাপত্তা নিয়ে অবহেলা সহ্য করা হবে না।

পরিবেশবান্ধব ঢাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় করতে হবে সবুজায়ন। দায়িত্ব নেয়ার পর প্রত্যেক দোকানে দুটি ফুলের টব বা গাছ এবং দোকানের সামনে একটি বিন রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। যারা নিয়ম মানবে না, তাদের ট্রেড লাইসেন্স নবায়ন নয়। যারা ব্যবসা করি বা অন্য পেশায় যারা আছেন, প্রত্যেকেরই শহরের প্রতি দায়বদ্ধতা রয়েছে। বাড়ির ছাদে বাগান থাকলে হোল্ডিং ট্যাক্সে রিবেট দেয়া হবে। ডিএনসিসির পরিচ্ছন্নতাসহ সার্বিক কার্যক্রমে গতি আনতে ১৭ মার্চ জাতির পিতার জন্মদিনকে বেছে নেয়া হয়েছে। এদিন বিশেষ উদ্যোগে সেবা কার্যক্রম শুরু হবে এবং এ কার্যক্রম চলবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে তিনি বলেন, বর্জ্যকে আমরা বর্জ্য হিসেবে দেখব না। এটিকে সম্পদে পরিণত করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটি কেবল শোনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না, দেখার সময় এসেছে।

ডিএনসিসির জনবল কাঠামো নিয়ে তিনি বলেন, পরিচিতি সভায় দেখলাম সবার দুটি-তিনটি করে অতিরিক্ত দায়িত্ব। এভাবে তো সম্ভব নয়। এরপর নতুন করে বিশাল এলাকা সংযুক্ত হয়েছে। যারা দায়িত্বে আছেন তাদের বলব, দ্রুততম সময়ে জনবল নিয়োগে দিতে হবে। নইলে নাগরিক সুবিধা দেয়া সম্ভব হবে না।

ডিএনসিসির নতুন এলাকার মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে তিনি বলেন, নতুন এলাকায় সেবা সংস্থার সব সংযোগ লাইন এক পাইপলাইনের (ইউটিলিটি ডাক) মাধ্যমে নেয়া হবে। উন্নত দেশের আদলে এ পদ্ধতি চালু করা হবে। এমন কোনো সড়ক থাকবে না, যে সড়কে ‘ইউটিলিটি ডাক’ থাকবে না।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে নতুন মেয়র বলেন, দায়িত্ব নেয়ার পর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেছি, ‘পিআর’ সিস্টেমে ডিএনসিসি চলবে। পি’তে পানিশমেন্ট (শাস্তি) এবং আর-এ রিওয়ার্ড (পুরস্কার)। আমি সবাইকে খুব ভালো হিসেবেই চাই, কোনো ব্যত্যয় পেলে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। জীবনে অনেক কিছু করা হয়নি। কোনোদিন রাঙ্গামাটি বা বান্দরবান ঘুরতে যেতে পারিনি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×