ট্রেনে চড়ে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-যশোর: আরও অপেক্ষা করতে হবে

রেললিংক কাজের অগ্রগতি মাত্র ১৭ শতাংশ * উদ্বোধনের দিনই পদ্মা সেতুতে ট্রেন চালাতে চায় সরকার

  শিপন হাবীব ১৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন
পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেললাইন

স্বপ্নের পদ্মা বহুমুখী সেতুর নির্মাণ কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে। এরই মধ্যে মূল সেতুর ৭৪ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। আগামী বছরেই এ সেতুতে যান চলাচল উন্মুক্ত করতে চাইছে সরকার। আর উদ্বোধনের দিনই এ সেতু দিয়ে ট্রেনও চালানোর তোড়জোড় চলছে।

ওইদিন এ সেতুতে ট্রেন চলবে বলেই আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে ঢাকার সঙ্গে রেল যোগাযোগ হচ্ছে না। এ জন্য অপেক্ষা করতে হবে আরও ন্যূনতম চার বছর।

কমলাপুর থেকে গেণ্ডারিয়া-মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে ভাঙ্গা হয়ে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণে নেয়া হয়েছে প্রকল্প। ‘পদ্মা সেতু রেললিংক লাইন’ নামে চলছে এর কাজ। ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকা।

মূল পদ্মা সেতুর নির্মাণ শুরুর (১২ ডিসেম্বর ২০১৫) প্রায় তিন বছর পর গত বছরের ১৩ অক্টোবর রেললিংক প্রকল্পের কাজ উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এখন পর্যন্ত কাজ হয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা তাই বলছেন, ঢাকা থেকে ট্রেনে চেপে পদ্মা সেতু হয়ে ফরিদপুর বা যশোর যাওয়ার স্বপ্ন ২০২০-এ পূরণ হচ্ছে না।

কিন্তু সেতু উদ্বোধনের দিনই সেখানে ট্রেন চলাচলও উদ্বোধন করতে চান প্রধানমন্ত্রী। তাহলে উপায় কী? রেল মন্ত্রণালয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা তাই নতুন পথ খুঁজে বের করেছেন। পদ্মা সেতুর দুই পাশে মাত্র ৪২ কিলোমিটার রেললাইন নির্মাণ করে সেতু উদ্বোধনের দিনই এখান দিয়ে ট্রেন চালাতে চান তারা।

এ কারণে ১৭২ কিলোমিটার রেলপথের বাকি ১৩০ কিলোমিটার অংশের কাজ সীমিত রেখে শুধু ৪২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণেই মনোযোগ এখন তাদের। আর এতটুকু পথে ট্রেন চালাতে কেনা হচ্ছে যাত্রীবাহী কোচ (বগি) ও ইঞ্জিন।

জানতে চাইলে পদ্মা সেতু রেললিংক প্রকল্পের পরিচালক গোলাম ফখরুদ্দিন আহমদ চৌধুরী যুগান্তরকে জানান, পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে পুরোদমে কাজ চলছে রেললিংক প্রকল্পেরও। জমি অধিগ্রহণ ও মাটি ভরাটসহ সব মিলিয়ে ৪০ শতাংশ কাজ হয়েছে। তবে লাইনের কাজ হয়েছে মাত্র ১৭ শতাংশ। আমরা নিশ্চিত, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ৪২ কিলোমিটার রেলপথ স্থাপন করতে পারব।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ যত দ্রুত শেষ হবে ততই রেললিংক প্রকল্পের জন্য ভালো হবে। মূল সেতু নির্মাণকারীই সেতুতে রেলপথ নির্মাণের ৯০ শতাংশ কাজ করে দেবে। আমরা শুধু লাইন বসাব। এর আগেই আমরা সেতুর দুই প্রান্তে লাইন বসানো শেষ করব।

রেলপথ সচিব মো. মোফাজ্জেল হোসেন যুগান্তরকে বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণ শুরুর বহু পরে রেললিংক প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে। বাধ্য হয়ে আমাদের পরিকল্পনা ও কাজের কৌশল পাল্টাতে হয়েছে। পরিকল্পনা ছিল, কমলাপুর থেকে গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন হয়ে প্রায় ২৩ কিলোমিটার উড়াল রেললাইন নির্মাণের মধ্য দিয়ে কাজ শুরুর। ঋণের অর্থ দেরিতে ছাড় ও দেরিতে কাজ শুরু হওয়ায় আমরা শুরুতে ভাঙ্গা থেকে সেতু হয়ে মাওয়া পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করছি।

জানতে চাইলে রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে একই দিন (উদ্বোধনের দিন) ট্রেনও চালানো হবে। দুটি প্রকল্পের মধ্যে কাজের অগ্রগতিতে ফারাক থাকলেও বিশেষ পরিকল্পনানুযায়ী সেতু দিয়ে একই দিন সড়ক যান ও ট্রেন চালানো সম্ভব হবে। প্রথম পর্যায়ে পদ্মা সেতুর দু’পাশে ভাঙ্গা থেকে মাওয়া পর্যন্ত ৪২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। এ পথে ট্রেন চালানো হবে। একই সঙ্গে এ প্রকল্পের কমলাপুর থেকে গেণ্ডারিয়া রেলস্টেশন, গেণ্ডারিয়া থেকে মাওয়া পর্যন্ত এবং ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত রেললাইন নির্মাণ কাজ চলমান থাকবে।

রেলমন্ত্রী আরও বলেন, এ পথে ট্রেন চালানোর জন্য ১০০ ব্রডগেজ যাত্রীবাহী বগি ও ইঞ্জিন কেনা হচ্ছে। তবে ঢাকা থেকে কবে মানুষ ট্রেনে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর যাবে এ বিষয়ে প্রকল্প পরিচালক, রেলপথ সচিব বা রেলমন্ত্রী কেউই আশার বাণী শোনাতে পারেননি। তারা যুগান্তরকে বলেন, এ ক্ষেত্রে আরও (২০২০-এর পর) তিন-চার বছর (অর্থাৎ ২০২৩/২৪ সাল) লাগতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই ৪২ কিলোমিটার রেলপথ (তৃতীয় সেকশন) নির্মাণ শেষের পর এ প্রকল্পের প্রথম, দ্বিতীয় ও চর্তুথ সেকশনের কাজ পুরোদমে শুরু হবে। কমলাপুর থেকে পদ্মা সেতু হয়ে যশোর পর্যন্ত প্রায় ১৭২ কিলোমিটার রেলপথে ১২০-১৩০ কিলোমিটার গতিতে ট্রেন চলবে। মাত্র আড়াই ঘণ্টায় ঢাকা-যশোর পৌঁছানো সম্ভব হবে ট্রেন যাত্রীদের।

রেলপথ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৪ সালের জুনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফরে রেল খাতে চীন সরকারের বিনিয়োগের বিষয়টি দু’দেশের মধ্যে সমঝোতা স্মারকে অন্তর্ভুক্ত হয়। ওই বছরের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রেলপথ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে পদ্মা সেতু চালুর দিন থেকে সেতু দিয়ে রেল যোগাযোগ চালুর নির্দেশনা দেন। গত বছরের ২৮ এপ্রিল চীনের রাজধানী বেইজিংয়ে চীনা এক্সিম ব্যাংকের সঙ্গে ‘পদ্মা রেললিংক লাইন সেতু প্রকল্প’র অর্থায়নে ঋণচুক্তি স্বাক্ষর হয়।

ঘটনাপ্রবাহ : পদ্মা সেতু নির্মাণ

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×