দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী

ভবিষ্যতে নিরাপত্তা দেখেই ক্রিকেট দল পাঠানো হবে

  যুগান্তর রিপোর্ট, সোনারগাঁ, রূপগঞ্জ প্রতিনিধি ১৭ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

ভবিষ্যতে নিরাপত্তা দেখেই ক্রিকেট দল পাঠানো হবে

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আগামীতে যেখানেই আমাদের ক্রিকেট টিম পাঠাব সেখানে অন্তত তাদের নিরাপত্তার বিষয়টা আমরা ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই পাঠাব। কারণ আমাদের দেশে যারা খেলতে আসেন তাদের আমরা সবসময় যথাযথভাবে নিরাপত্তা দিয়ে থাকি।

শনিবার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু, ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের ভুলতায় ৪ লেন ফ্লাইওভার এবং লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় হতাহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ক্রিকেট খোলোয়াড়দের ওই মসজিদেই নামাজ পড়তে যাওয়ার কথা।

আর তারা গিয়েছিলও, কিন্তু ওখানে একজন আহত মহিলা তাদের মসজিদে ঢুকতে দেননি। তারা কোনোমতে জীবন নিয়ে ফিরে আসেন। এজন্য আল্লাহ তায়ালার কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করি।

শেখ হাসিনা বলেন, আশা করি বিশ্ববাসী এ ধরনের ঘটনার শুধু নিন্দাই করবে না, এ ধরনের সন্ত্রাসী, জঙ্গিবাদী ঘটনা যেন বন্ধ হয় সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে উদ্বোধনের পর বেলা ১১টার দিকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয় দ্বিতীয় কাঁচপুর সেতু। এ সেতু চালুর ফলে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার সমাধান ও জনদুর্ভোগ কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের চিকিৎসার বিষয়ে দেশবাসীর কাছে দোয়া কামনা করে বলেন, এখানে তার খুব ভালো চিকিৎসা হচ্ছিল। আমি ভারত থেকে ডা. দেবী শেঠীকেও আনিয়েছিলাম এবং তাকে দেখিয়েছিলাম কিন্তু মানুষের চাপ অর্থাৎ দর্শনার্থীদের ভিড়ে তার ইনফেকশন দেখা দেয়। কাজেই তাকে আমি সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গাপুর পাঠাই এবং সেখানে চিকিৎসা চলছে।

তিনি বলেন, আমি দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের জন্য আপনারা দোয়া করবেন। এ সময় ওবায়দুল কাদের সুস্থ হয়ে ফিরলে তাকে সঙ্গে নিয়েই এ সেতুটি (কাঁচপুর ২য় সেতু) দেখতে যাওয়ার আকাক্সক্ষা ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী এবং এর নাম শীতলক্ষ্যা সেতু করার জন্য অনুষ্ঠানে দিকনির্দেশনা প্রদান করেন।

ভিডিও কনফারেন্সে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আরও বলেন, এখন আমরা যত রাস্তা করছি কোথাও আর চৌরাস্তার মোড় থাকবে না। এটাকে ওভারপাস করে নিয়ে যাব, সেটা সড়ক এবং রেল সব জায়গায়।

যাতে করে যোগাযোগটা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় এবং যানজট যেন না হয় সেদিকে লক্ষ্য রেখেই আমরা একটা পদক্ষেপ নিয়েছি।

লতিফপুর রেলওয়ে ওভারপাস নির্মাণে কোনো যানবাহনকে আর সেখানে থামতে হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমানে সেখানে রেল লাইন থাকায় দিনে ২৪ বার গেট বন্ধ করতে হয়, যা আর করতে হবে না, মানুষ সহজেই যাতায়াত করতে পারবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম এ সড়কটি আমরা ইতিমধ্যেই চারলেনে উন্নীত করেছি। কাজেই সেতুগুলোও যেন উন্নত হয়ে যায় সেই ব্যবস্থাও আমরা নিচ্ছি। এটা হলে পরে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্য, পণ্য পরিবহন- সব ক্ষেত্রেই সময় বাঁচবে এবং উন্নত হবে। তাছাড়া এসব এলাকার যে যানজট, তাও দূর হবে।

প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন শ্রেণী-পেশার মানুষ এবং উপকারভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। ঢাকায় নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোইয়াশো ইজুমি এবং জাইকার স্থানীয় প্রতিনিধি অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. নজিবুর রহমান ভিডিও কনফারেন্সটি সঞ্চালনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচটি ইমাম প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। এ সময় নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ থেকে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন স্থানীয় সংসদ সদস্য একেএম সেলিম ওসমান, একেএম শামীম ওসমান ও লিয়াকত হোসেন খোকা, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন প্রমুখ।

প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণে বিগত ১০ বছরে দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নয়নের বিভিন্ন উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ তুলে ধরেন। এ সময় দুর্ঘটনা এড়াতে ট্রাফিক আইন মেনে চলার জন্যও জনগণকে পুনরায় পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, আমি সবাইকে অনুরোধ করব- দয়া করে আপনারা রাস্তার নিয়মগুলো মেনে চলবেন। প্রধানমন্ত্রী এ সময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে গাড়ি চালকদের পর্যাপ্ত বিশ্রাম প্রদানের উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি চালকদের বলব- তারা গাড়ি চালানোর সময় একটি অশুভ প্রতিযোগিতা রাস্তায় করে। এ অশুভ প্রতিযোগিতার ফলেই কিন্তু অনেক দুর্ঘটনা ঘটে। কাজেই এ অশুভ প্রতিযোগিতা যেন না করতে পারে সেই বিষয়ে লক্ষ্য রাখতে হবে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×