ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের দাবি

৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ

মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ভোক্তারা * প্রতারণা রোধে তিন স্তরের তদারকি টিম গঠন * প্রমাণ মিললেই শাস্তি, প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা

  ইয়াসিন রহমান ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ
ফাইল ছবি

রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতর। আর সারা দেশে এমন ফার্মেসির সংখ্যা আরও বেশি হবে। এসব ফার্মেসি থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিনে প্রতিনিয়ত প্রতারিত হচ্ছেন ভোক্তারা। পড়ছেন মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে। তাই এই অনিয়ম ঠেকাতে অধিদফতরের পক্ষ থেকে সারা দেশে তিন স্তরের তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্রেতা সেজে বা ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ফার্মেসিগুলো তদারকি করবে। ওষুধ বিক্রিতে কোনো ধরনের অনিয়ম পেলেই ভোক্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় কঠোর শাস্তি প্রদান করা হবে। প্রয়োজনে প্রতিষ্ঠান সিলগালা করে দেয়া হবে।

জানতে চাইলে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের ঢাকা বিভাগীয় কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মনজুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার যুগান্তরকে বলেন, ‘নিয়মিত বাজার তদারকির এক বছরের রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, ঢাকা শহরের প্রায় ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হচ্ছে। অধিদফতর ভোক্তা আইনের বিভিন্ন ধারায় এ ধরনের অনেক প্রতিষ্ঠানকে শাস্তি দিয়েছে। অনেক প্রতিষ্ঠান সিলগালা করা হয়েছে। এই প্রতারণা রোধে অধিদফতরের পক্ষ থেকে সারা দেশে তিন স্তরের তদারকি টিম গঠন করা হয়েছে। তারা ক্রেতা সেজে বা ঝটিকা অভিযানের মাধ্যমে ওষুধ বিক্রি তদারকি করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে সম্প্রতি আমরা তেজগাঁও এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছি। এ সপ্তাহের মধ্যে পল্টন ও মিটফোর্ড এলাকার ওষুধ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করব। এরপর মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেলে ভোক্তা আইনে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।’

অধিদফতরের বাজার তদারকির তথ্য অনুযায়ী, গত ৫ মার্চ জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের অভিযানকালে রাজধানীর ধানমণ্ডি ও শাহজাহানপুর থানার কিয়োর ফার্মেসিকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রর দায়ে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। একই এলাকার প্যানকেয়ার মেডিসিন কর্নারকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ৭ মার্চ শ্যামলীতে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির দায়ে চারটি ফার্মেসিকে ৬৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ৯ মার্চ মুগদা এলাকার ভোলা ড্রাগ হাউস, ঢাকা ড্রাগ হাউস এবং রানা ফার্মেসিকে ৩০ হাজার টাকা করে ৯০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। ১১ মার্চ বনানী এলাকায় বেস্ট ফার্মাকে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। এই অপরাধে ১২ মার্চ খিলক্ষেতের সিয়াম ফার্মেসিকে বন্ধ করে দেয়া হয়।

অধিদফতরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আবদুল জব্বার মণ্ডল যুগান্তরকে বলেন, ‘আমরা প্রতিদিন বাজার তদারকি করছি। মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি প্রতিরোধে অভিযান চালানো হচ্ছে। এতে সার্বিক সহযোগিতা করছেন আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন)-১ সদস্যরা।’

অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, অসাধু বিক্রেতারা অনেক সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের গায়ে নতুন করে মেয়াদ সংবলিত স্টিকার লাগিয়ে তা বিক্রি করে। নতুন স্টিকার উঠিয়ে দেখা গেছে ২০১৮ সালে যে ওষুধের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, সে অষুধে ২০২০ পর্যন্ত মেয়াদ লাগানো হয়েছে। তাছাড়া অনেক সময় বিদেশ থেকে আমদানি করা ওষুধের প্যাকেটে কোনো ধরনের উৎপাদন তারিখ বা মেয়াদের তারিখ থাকে না।

জানতে চাইলে কনজুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সভাপতি গোলাম রহমান যুগান্তরকে বলেন, ‘আমাদের দেশে যারা ওষুধ বিক্রি করেন তাদের মধ্যে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তারা কেউ লোকসান দিতে রাজি নয়। তাই অবিক্রীত ওষুধ মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে গেলেও প্রতারণা করে ভোক্তার কাছে বিক্রি করে দেন। এ জন্য ক্রেতাদের সচেতন থাকতে হবে। মেয়াদ দেখে ওষুধ কিনতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ কিনে ভোক্তারা প্রতারিত হওয়ার পাশাপাশি জীবননাশের হুমকিতে পড়ছেন। বাংলাদেশ ছাড়া পৃথিবীর অন্য কোনো দেশে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহারের কথা কল্পনাও করা যায় না। উন্নত দেশগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বাজারজাত করলে কঠিন শাস্তি হয়। তাই বাংলাদেশেও কঠোর আইনের মাধ্যমে এই দুষ্কর্ম বন্ধ করতে হবে।’

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×