উপজেলা নির্বাচন

কালাইয়ে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ২৩

তজুমদ্দিন, দৌলতপুর ও গোমস্তাপুরে সহিংসতায় আহত ৪৭

  যুগান্তর ডেস্ক ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কালাইয়ে আ’লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ২ আহত ২৩
নিহত আফতাব ও রতন মোহন্ত। ছবি: সংগৃহীত

জয়পুরহাটের কালাইয়ে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে বিরোধের জের ধরে আওয়ামী লীগের দু’পক্ষের সংঘর্ষে ২ জন নিহত ও অন্তত ২৩ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাতে উপজেলার মোসলেমগঞ্জ বাজার এলাকার এ ঘটনা ঘটে। এ সময় ২টি মোটরসাইকেল এবং ১০টি দেকানঘরে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট চালানো হয়। নিহতরা হলেন- উপজেলার পুনট মোন্না পাড়ার মৃত আবদুস সামাদের ছেলে আফতাব (৫৫) এবং মাহিষ্য পাড়ার চারু মোহন্তের ছেলে রতন মোহন্ত (৪৮)। এদিকে ভোলার তজুমদ্দিন, কুষ্টিয়ার দৌলতপুর ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুরে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ হয়েছে। এতে আরও ৪৭ জন আহত হয়েছেন। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

কালাই (জয়পুরহাট): পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ১০ মার্চ কালাই উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মিনফুজুর রহমান মিলন তৃতীয় বারের মতো চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের আরেক নেতা মাত্রাই ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শওকত হাবিব তালুকদার লজিকও উপজেলা চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। উদয়পুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী মনোনয়নের ক্ষেত্রে লজিককে সমর্থন দেয়ায় মিলনের সঙ্গে তার বিরোধ তৈরি হয়। শনিবার রাত ৭টার দিকে চেয়ারম্যান মিলনের কর্মী-সমর্থকরা পুনট বাজার থেকে মোসলেমগঞ্জ বাজারে গেলে উদয়পুর ইউপির চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলীর সমর্থকদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাঁধে। রাত ১০টা পর্যন্ত উভয় পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ঘটে। এ সময় সোমলেমগঞ্জ বাজারে দুটি মোটরসাইকেলসহ অন্তত ১০টি দোকনে ভাংচুর আগুন ও লুটপাট চালানো হয়। পুলিশ ১১৩ রাউন্ড ফাঁকা গুলি, লাঠিচার্জ ও হ্যান্ড মাইকিং করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। সংঘর্ষে অন্তত ২৫ জন আহত হন। এদের মধ্যে হাসপাতালে নেয়ার পথে মিলনের সমর্থক আফতাব (৫৫) ও রতন মোহন্ত (৪৮) মারা যান।

আহতদের কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জয়পুরহাট জেলা আধুনিক হাসপাতাল ও বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে, তারা হলেন- মান্দাই গ্রামের মৃত মোহাম্মদ আলীর ছেলে আবু মুসা, দুধইল নয়াপাড়া গ্রামের তোফাজ্জল হোসেন মণ্ডলের ছেলে বায়েজিদ হোসেন, দুধইল গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আবদুস সোবাহান মণ্ডল ও পুনট বাজার এলাকার দেওগ্রামের আবদুর রাজ্জাকের ছেলে রানা মিয়া।

মাত্রাই ইউপি চেয়ারম্যান শওকত হাবিব তালুকদার লজিক জানান, নির্বাচনে তিনি চেয়ারম্যান পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশায় গণসংযোগ করেছিলেন। মিনফুজুর রহমান বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে তার কর্মী-সমর্থকদের প্রতি ক্ষুব্ধ হন। বিজয়ী হয়ে পুনট থেকে উদয়পুরে গিয়ে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনার জন্ম দেন।

উদয়পুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান ওয়াজেদ আলী বলেন, নির্বাচনে জয়লাভের পরও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে মিলন তার সমর্থকদের নিয়ে লাঠি হাতে আমার ইউনিয়ন এলাকায় প্রবেশ করে। আমার কর্মী-সমর্থক ছাড়াও নিরীহ এলাকাবাসীর ওপর হামলা করে। দোকানে ভাংচুর, অগ্নিসংযোগ ও লুটপাট করে। আত্মরক্ষার্থে এলাকাবাসী প্রতিরোধ গড়ে তুললে তারা পালিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে উপজেলা চেয়ারম্যান মিনফুজুর রহমান মিলন সাংবাদিকদের বলেন, নির্বাচন থেকে লজিক ও ওয়াজেদ অকারণে আমার বিরুদ্ধাচরণ করতে থাকে। এ অবস্থায় শনিবার রাতে তাদের কর্মী-সমর্থকদের হামলায় আমার দুই কর্মী নিহত এবং বেশ কয়েক জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

কালাই থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল লতিফ খান জানান, এ ঘটনায় থানায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

দৌলতপুর (কুষ্টিয়া) : নির্বাচনী প্রচারণার সময় দুই পক্ষের সংঘর্ষে যুবলীগ নেতাসহ অন্তত ৭ জন আহত হয়েছেন। শনিবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার রিফায়েতপুর ইউনিয়নের ঝাউদিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী অ্যাডভোকেট এজাজ আহমেদ মামুনের সমর্থকদের সঙ্গে স্বতন্ত্র প্রার্থী (আ’লীগ বিদ্রোহী) দৌলতপুর যুবলীগের সভাপতি বুলবুল আহমেদ টোকেন চৌধুরীর সমর্থকদের মধ্যে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে সংঘর্ষ বাঁধে। এ সময় উভয় গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে ইটের আঘাতে দৌলতপুর যুবলীগ নেতা বখতিয়ার রহমান বাচ্চু, শরিফ, রবিউলসহ উভয়পক্ষের সাতজন আহত হন। এ সময় স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি অফিস ও বঙ্গবন্ধুর ছবি ভাংচুর করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

গোমস্তাপুর (চাঁপাইনবাবগঞ্জ): স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থী আওয়ামী লীগ নেতা আফসার আলী খানের মোটরসাইকেল শোডাউনে প্রতিপক্ষের অতর্কিত হামলায় ৭ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। রোববার দুপুরে উপজেলার পার্বতীপুর ইউনিয়নের সোনাবর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। হামলার শিকার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতাউর রহমান জানান, রোববার দুপুরে স্বতন্ত্র প্রার্থীর মোটরসাইকেল শোডাউনে নৌকা প্রতীকের সমর্থকরা পেছন থেকে অতর্কিতভাবে হামলা চালায়। এতে তিনিসহ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি রাশেদুল ইসলাম, পার্বতীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমরান আলী সরদার, পার্বতীপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি আরমান আলী খান, সাবেক সংসদ সদস্য গোলাম মোস্তফা বিশ্বাসের ফটোগ্রাফার রুবেল, দলীয় কর্মী আশরাফুল ও আবদুল কাদের আহত হয়েছেন।

ভোলা : তজুমদ্দিন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে প্রচারণাকে কেন্দ্র করে শনিবার রাতে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলুল হক দেওয়ান ও দলের বিদ্রোহী (স্বতন্ত্র) প্রার্থী মোশারেফ হোসেন দুলালের কর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় হামলা-ভাংচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। রোববার বিকালে তজুমদ্দিন প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মোশারেফ হোসেন দুলাল লিখিত অভিযোগে হামলার জন্য নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল হক দেওয়ান ও তার সমর্থকদের দায়ী করেন। শুম্ভুপুর ইউনিয়নের গাছিকাটা খাল ও চাঁদপুর ইউনিয়নের ভুবন ঠাকুর এলাকায় তার নির্বাচনী অফিসে ভাংচুরের অভিযোগও করেন তিনি। তবে আওয়ামী লীগ প্রার্থী ফজলুল হক দেওয়ান বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থীর নেতাকর্মীদের ওপর কোনো হামলা ও নির্বাচনী অফিস ভাংচুর করা হয়নি। আমার লোকজন ভুবন ঠাকুর বাজার এলাকায় একটি নির্বাচনী অফিসে প্রচারণার মাইক বাজানোর সময় তার লোকজন বাধা দেয়। তজুমদ্দিন থানার ওসি মো. ফারুক আহমেদ জানান, আওয়ামী লীগ প্রার্থী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে সংঘর্ষে কয়েকজন আহত হয়েছেন।

জীবননগর (চুয়াডাঙ্গা) : আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও বর্তমান উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মো. আবদুল লতিফ অমলের নৌকা প্রতীকের অফিসে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। শনিবার গভীর রাতে পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের সুবোলপুর মোড়ে এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া সাধারণ ভোটারসহ নৌকা প্রতীকের কর্মীদের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ করেছেন আবদুল লতিফ অমল।

ঘটনাপ্রবাহ : উপজেলা নির্বাচন ২০১৯

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×