চকবাজারের অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসা

উচ্ছেদসহ ১২ সিদ্ধান্ত

বিক্রেতাদের বৈধ লাইসেন্স পরীক্ষার নির্দেশ

  মিজান চৌধুরী ১৮ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

চকবাজারের অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসা
ফাইল ছবি

পুরান ঢাকায় অবৈধ কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়াসহ ১২ দফা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। চকবাজারের চুড়িহাট্টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের পরিপ্রেক্ষিতে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

বৈঠকে চকবাজারে কেমিক্যালের মজুদ ও বিক্রয় কার্যক্রম মনিটরিংয়ের আওতায় আনতে স্থানীয় জনগণ নিয়ে সহায়তা টিম গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এছাড়া কেমিক্যাল (দাহ্যপদার্থ ও রাসায়নিক দ্রব্য) বিক্রেতাদের বৈধ লাইসেন্স পরীক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কারণ ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের হিসাবে ইস্যুকৃত কেমিক্যাল ব্যবসার লাইসেন্স ১৮৯৬টি হলেও বাস্তবে এ সংক্রান্ত ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা আরও বেশি।

জানতে চাইলে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. শাহ কামাল যুগান্তরকে বলেন, চকবাজারে কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের উচ্ছেদ ও লাইসেন্স পরীক্ষার কাজটির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে। পাশাপাশি ঢাকা শহর থেকে কেমিক্যাল কারখানা অন্যত্র সরানোর জন্য দায়িত্ব দেয়া হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। অন্য সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং করা হচ্ছে। বৈঠকে উপস্থিত অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার বলেন, ‘দুর্যোগ ও ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনে অর্থ বরাদ্দ নিয়ে কোনো ধরনের সমস্যা হবে না।’

২০ ফেব্রুয়ারি চকবাজারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৬৭ জন মৃত্যুর পর পরবর্তী করণীয় নির্ধারণে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব নজিবুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ও সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও করণীয় নির্ধারণে ৬টি কমিটি গঠন করা হয়। এছাড়া অগ্নিকাণ্ডে নিহতের দাফন ও সৎকারের জন্য ৩০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়। বৈঠকে রাসায়নিক কারখানা স্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় ভূমি বরাদ্দের বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। প্রয়োজনীয় ভূমির সন্ধান করতে দায়িত্ব দেয়া হয় ভূমি মন্ত্রণালয়কে।

সূত্র জানায়, পুরান ঢাকা ছাড়াও হাজারীবাগ এলাকায় অনেক কেমিক্যাল গুদাম রয়েছে। গরুর কাঁচা চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণে এসব কেমিক্যাল প্রয়োজন। এ প্রয়োজন সামনে রেখে হাজারীবাগে অসংখ্য কেমিক্যাল গুদাম ও প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে। কিন্তু চামড়ার ট্যানারিগুলো স্থানান্তর হলেও এ অঞ্চল থেকে কেমিক্যাল গুদাম স্থানান্তর হয়নি। এসব স্থানান্তর নিয়েও আলোচনা হয়।

বৈঠকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সুপারিশের আলোকে একটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত হয়। ওই কমিটির নেতৃত্বে থাকবে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। কমিটির সদস্য হিসেবে থাকবে শিল্প মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস, বিআরটিএ, সিটি কর্পোরেশন ও বিভিন্ন ব্যবসায়ী অ্যাসোসিয়েশন। এ কমিটি একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

বৈঠকে ২০১০ সালের নিমতলীর অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় তদন্ত কমিটির সুপারিশ কতটুকু বাস্তবায়ন হয়েছে, কী কী বাস্তবায়ন হয়নি, কেন বাস্তবায়ন হয়নি, তা খতিয়ে দেখার নির্দেশ দেয়া হয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে। কারণ নিমতলীর ঘটনার তদন্ত কমিটির সুপারিশের একটি ছিল- যাতে পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গুদাম অন্যত্র সরিয়ে নেয়া হয়। কিন্তু ওই কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়ন হলে দ্বিতীয় দফায় অগ্নিকাণ্ডে সাধারণ মানুষের জীবন যেত না।

এছাড়া বৈঠকে আবাসিক এলাকায় দাহ্যপদার্থ ও রাসায়নিক দ্রব্যাদি বিক্রয় ও মজুদের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত হয়। সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেয়া হয় বিস্ফোরক অধিদফতর, স্থানীয় প্রশাসন, সব সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভাকে।

চকবাজারে অসংখ্য কেমিক্যাল গুদাম, কারখানা এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। যুগের পর যুগ এভাবে সেখানে কেমিক্যাল নিয়ে কর্মকাণ্ড চলছে। ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে দাহ্যপদার্থ ও রাসায়নিক দ্রব্যের কারখানা অন্যত্র সরিয়ে নিতে একটি কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুত ও বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয় বৈঠকে। এর দায়িত্ব দেয়া হয় ঢাকা সিটি কর্পোরেশনকে। পাশাপাশি উপকারভোগীদের সঙ্গে আলোচনা করে পুরান ঢাকার হাইড্রেন পয়েন্ট স্থাপনের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়। এর জন্য ঢাকা ওয়াসাকে দায়িত্ব দেয়া হয়।

সূত্র জানায়, অন্যান্য সিদ্ধান্তের মধ্যে রয়েছে- দুর্যোগকালে প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের ক্ষেত্রে কার্যক্রম আরও জোরদার করা, ফায়ার সার্ভিসের জন্য আধুনিক যন্ত্রপাতি সংগ্রহ ও প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা গ্রহণ, বিল্ডিং কোড অনুযায়ী ভবনে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র স্থাপনের নিশ্চয়তা পাওয়ার পর বসবাসের অনুমতি প্রদান ইত্যাদি।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×