আইএমইডির প্রতিবেদন

কাজ রেখেই ১০৬ প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা

অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা থেকে যায় -ড. জাহিদ হোসেন

  হামিদ-উজ-জামান ২০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কাজ রেখেই ১০৬ প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা

মহেশখালী-আনোয়ারা গ্যাস ট্রান্সমিশন পাইপলাইন স্থাপনের প্রকল্প ২০১৪ সালে হাতে নেয় জ্বালানি ও খনিজসম্পদ বিভাগ। এটি বাস্তবায়নে ব্যয় ধরা হয় ১ হাজার ৩৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা।

শেষ পর্যন্ত ব্যয় হয় ৮৩২ কোটি ৫৩ লাখ ১৪ হাজার টাকা। কিছু কাজ বাকি রেখেই ২০১৮ সালের ৩০ জুন প্রকল্পটি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়। এক্ষেত্রে আর্থিক অগ্রগতি ৮০ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি হয় ৮২ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এমন আংশিক কাজ বাকি রেখেই ১০৬টি উন্নয়ন প্রকল্প সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। ২০১৭-১৮ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের অগ্রগতি সংক্রান্ত প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ চিত্র।

এ ধরনের প্রকল্পের সুফল প্রাপ্তি নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। এ পদক্ষেপকে অর্থের অপচয় এবং আর্থিক শৃঙ্খলার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) এক অগ্রগতি পর্যালোচনা প্রতিবেদনে বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার এটি প্রধানমন্ত্রী ও এনইসি চেয়ারপারসন শেখ হাসিনার সামনে উপস্থাপন করা হয়।

এ প্রসঙ্গে ঢাকায় নিযুক্ত বিশ্বব্যাংকের লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন মঙ্গলবার যুগান্তরকে বলেন, এভাবে প্রকল্প সমাপ্ত করা ঠিক না। প্রকল্পের যে অংশ বাকি থাকে, সেই কাজটি আর না-ও হতে পারে।

আবার অন্য কোনোভাবে কাজটি শেষ করার ক্ষেত্রে অর্থ বরাদ্দে জটিলতা তৈরি হয়। পুরো কাজ না করে প্রকল্প সমাপ্ত করলে প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ার শঙ্কাই বেশি। এক্ষেত্রে অর্থ অপচয়ের আশঙ্কাও থেকে যায়। আইএমইডির ভারপ্রাপ্ত সচিব আবুল মনছুর মো. ফাইজুল্লাহ বলেন, এ মুহূর্তে এরকম হওয়ার কারণ বলতে পারব না।

তবে অনেক সময় দেখা যায় কোনো কম্পোনেন্ট অন্য কোনো প্রকল্পে চলে গেছে। অথবা সেই কম্পোনেন্টের বিষয়ে নতুন প্রকল্প নেয়া হতে পারে। এমন অনেক কারণ থাকতে পারে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ ধরনের কাজ আর্থিক বা পরিকল্পনা শৃঙ্খলার পরিপন্থী নয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭-১৮ অর্থবছরে শেষ করার জন্য ২৯২টি প্রকল্প নির্ধারণ করা হয়। ২০১৮ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয় ১৮৮টি প্রকল্প। লক্ষ্যমাত্রার বাইরে থাকা ৫৮টি প্রকল্পও সমাপ্ত হয়েছে এ সময়ের মধ্যেই। ফলে সব মিলিয়ে সমাপ্ত প্রকল্পের সংখ্যা ছিল ২৪৬টি। কিন্তু এসবের মধ্যে শতভাগ কাজ শেষ হয়েছে এমন প্রকল্প আছে ১৪০টি।

বাকি ১০৬টি প্রকল্পের আংশিক কাজ এখনও বাকি। কিন্ত এরপরও প্রকল্পগুলো সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে। এর কারণ হিসেবে প্রতিবেদনে কোনো ব্যাখ্যা দেয়া হয়নি। নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক অর্থনীতিবিদ বলেন, লক্ষ্য অর্জনের জন্য প্রকল্পগুলো তড়িঘড়ি সমাপ্ত ঘোষণা করা হতে পারে।

আংশিক কাজ বাকি রেখে সমাপ্ত ঘোষিত কয়েকটি প্রকল্প হচ্ছে- বেপজার আওতায় ইপিজেডগুলোকে কারখানা বিল্ডিং নির্মাণ। এ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৭৯ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৮০ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

এছাড়া এগ্রি বিজনেস ফর ট্রেড কম্পিটিটিভনেস প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি হয়েছে ৭০ দশমিক ৮৮ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি ৭ শতাংশ। জাতীয় সমুদ্র গবেষণা ইন্সটিটিউট স্থাপন (প্রথম পর্যায়) প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৪ দশমিক ৭৭ শতাংশ এবং বাস্তব অগ্রগতি ৯৫ শতাংশ। রুরাল লাইভলিহুড প্রকল্পের (দ্বিতীয় পর্যায়) আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি ৬০ শতাংশ।

ভূমিতে এলএনজি টার্নিমাল নির্মাণে আর্থিক ও কারিগরি সম্ভাব্যতা যাচাই প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৫৬ দশমিক ২১ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি ৭৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

হ্যাচারিতে হাঁস পালন (তৃতীয় পর্যায়) প্রকল্পটির আর্থিক অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ আর বাস্তব অগ্রগতি ৮৬ দশমিক ১৩ শতাংশ এবং ইকোনমিক সেনসাছ-২০১৩ প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি ৮৩ শতাংশ এবং বাস্তব ৮৪ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

ইকোনমিক সেনসাছ-২০১৩ প্রকল্পে সর্বশেষ দায়িত্ব পালনকারী পরিচালক মো. দিলদার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, আমার প্রকল্পের আর্থিক অগ্রগতি হয়তো কম থাকতে পারে। কিন্তু বাস্তব অগ্রগতি শতভাগ হয়েছে।

এক্ষেত্রে প্রকল্প সমাপ্ত প্রতিবেদন (পিসিআর) জমা দেয়া হয়েছে পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগে। সেখান থেকে কিছু পর্যবেক্ষণ দেয়ায় এখনও আইএমইডিতে পাঠানো হয়নি। তাই এখানে ভুল বোঝাবুঝি থাকতে পারে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×