সর্বস্তরে সুশাসন

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়ন শুরু

ইন্টারনাল ক্রসচেক মেকানিজম কাজে লাগাচ্ছে ইআরডি * রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ-ড. ইফতেখারুজ্জামান * সরকারি গাড়ি অপব্যবহারে ব্যবস্থা-পরিকল্পনা সচিব

  হামিদ-উজ-জামান ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়ন শুরু

দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এজন্য সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে চিঠি দিয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।

এ উদ্যোগ বাস্তবায়নে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগও কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করতে এবং জনসেবার মানোন্নয়নে সরকার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করে।

টানা তৃতীয়বার সরকার গঠনের পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ ঘোষণা করেন। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারেও দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ বিষয়টি উল্লেখ রয়েছে। জনপ্রশসান মন্ত্রণালয়, পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় ও ইআরডি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে এরই মধ্যে কার্যকর ব্যবস্থা নিয়েছে পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়। এর আওতায় সব বিভাগ ও সংস্থাসহ উচ্চপদস্থদের চিঠি দিয়ে সতর্ক করা হয়েছে।

একই সঙ্গে সরকারি গাড়ি ব্যবহারে দুর্নীতি বন্ধেও কঠোর হচ্ছে পরিকল্পনা বিভাগ। অন্যদিকে দুর্নীতি প্রতিরোধে ‘ইন্টারনাল ক্রসচেক মেকানিজম’ কাজে লাগাচ্ছে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি)।

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী নির্বাচনী ইশতেহারে যে দুই-তিনটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেছিলেন সেগুলোর মধ্যে দুর্নীতিতে ‘জিরো টলারেন্স’ বিষয়টি বেশি গুরুত্ব পেয়েছিল। এটি দুর্নীতি প্রতিরোধে রাজনৈতিক সদিচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। সবাইকে সৎ থাকতে এটি উৎসাহিত ও অনুপ্রাণিত করবে। একই সঙ্গে ঘোষণাটি বাস্তবায়নে সবার মধ্যে দায়িত্বশীল মনোভাবও তৈরি হবে। এটি অবশ্যই ইতিবাচক উদ্যোগ।

ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয় যে ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে তাতে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে দৃঢ়তা ও সৎসাহস বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। তবে প্রধানমন্ত্রীর এ ঘোষণা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে। এছাড়া যারা অনিয়মে জড়িয়ে পড়বেন, তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। কাউকে ছাড় দেয়া যাবে না। অন্যদিকে এটি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ওপর রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাবের বিরুদ্ধে ভূমিকা রাখবে এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করতে উৎসাহিত করবে।

৭ মার্চ পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের পরিকল্পনা বিভাগ থেকে পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ১৭ জানুয়ারি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশকিছু দিকনির্দেশনা দেন। সর্বস্তরে সুশাসন নিশ্চিত করতে ও জনসেবার মানোন্নয়নে বর্তমান সরকার দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করেছে বলে তিনি জানান। সরকারি কর্মচারীদের বেতন-ভাতা বৃদ্ধিসহ সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা এতটাই বৃদ্ধি করা হয়েছে যে, তাদের আর দুর্নীতি করার কোনো প্রয়োজন নেই। এরপরও কেউ দুর্নীতি করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বার্তা প্রশাসনের তৃণমূল পর্যন্ত পৌঁছে দিতে হবে।

পরিকল্পনা বিভাগের সহকারী সচিব মো. নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত চিঠি জাতীয় পরিকল্পনা ও উন্নয়ন একাডেমির মহাপরিচালক, পরিকল্পনা বিভাগের সব অতিরিক্ত সচিব, পরিকল্পনা কমিশনের সব বিভাগের প্রধান, সব যুগ্ম সচিব, এনইসি-একনেক ও সমন্বয় অনুবিভাগের যুগ্মপ্রধান, সব উপসচিব, পরিকল্পনামন্ত্রীর একান্ত সচিব, আইসিটি সেলের সিনিয়র সিস্টেম এনালিস্ট, সচিবের একান্ত সচিব, সদস্যদের একান্ত সচিব, সব সিনিয়র সহকারী সচিব ও সহকারী সচিব, পরিকল্পনা শাখার সিনিয়র সহকারী প্রধান এবং বাজেট অফিসার, গবেষণা কর্মকর্তা, লাইব্রেরি অফিসার, হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কাছে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে ২০ ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সিনিয়র সচিব, সচিব এবং ভারপ্রাপ্ত সচিবদের নির্দেশনা দিয়ে চিঠি পাঠায় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। চিঠিতে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়ার অনুরোধ জানানো হয়।

এ প্রসঙ্গে পরিকল্পনা সচিব মো. নূরুল আমিন বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা শুধু চিঠি দিয়েই দায়িত্ব শেষ করছি না। এ বিষয়ে মনিটরিং করা হচ্ছে। এছাড়া পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের আওতায় কর্মকর্তাদের যেসব প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চলছে, সেগুলোতেও দুর্নীতি দমনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। যাতে সবাই সচেতন হতে পারেন। এছাড়া সরকারি গাড়ি ব্যবহারের বিষয়ে আমরা অত্যন্ত কঠোর হচ্ছি। কেননা সরকার গাড়ি কেনার জন্য ঋণ দিচ্ছে আবার প্রতিমাসে সেটি মেনটেনেন্সের জন্য টাকাও দিচ্ছে। কিন্তু এসব সুবিধা নেয়ার পর আবার অফিসের গাড়ি কিংবা প্রকল্পের গাড়ি ব্যবহার করাটা অবশ্যই দুর্নীতি। আমরা সেটি বন্ধ করতে চিঠি দেয়াসহ কঠোর ব্যবস্থা নিচ্ছি।

অন্যদিকে এরই মধ্যে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছেন অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব মনোয়ার আহমেদ। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা বাস্তবায়নে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। এরই মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে ‘ইন্টারনাল ক্রসচেক মেকানিজম’ কাজে লাগাচ্ছি। অর্থাৎ যুগ্ম সচিবদের পর্যবেক্ষণ করছেন অতিরিক্ত সচিব। আবার যুগ্ম সচিব তার নিচের দায়িত্বশীলদের পর্যবেক্ষণ করছেন। এভাবে অভ্যন্তরীণভাবে মনিটরিং করা হচ্ছে। একই সঙ্গে যে কোনো কর্মসূচি বা কোনো প্রোগ্রাম বাস্তবায়নে সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করা হচ্ছে। এতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়ছে।

আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×