আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণে আজ বসছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা

  শেখ মামুনূর রশীদ ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

আন্দোলনের কর্মসূচি নির্ধারণে আজ বসছেন ফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা

জাতীয় নির্বাচনে নজিরবিহীন ভরাডুবির ধাক্কা সামাল দিয়ে নব-উদ্যমে পথ চলতে বৈঠকে বসছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা।

এতে নিজেদের লক্ষ্য নির্ধারণের পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনের পরবর্তী কর্মসূচিও ঠিক করবেন।

আজ শুক্রবার বিকাল ৪টায় পুরানা পল্টনস্থ জামান টাওয়ারে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্থায়ী কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন এতে সভাপতিত্ব করবেন।

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একাধিক শীর্ষ নেতার মতে, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভরাডুবির পরপরই মূলত থমকে দাঁড়ায় তাদের জোটের কর্মকাণ্ড। ভোটে কারচুপির অভিযোগ এনে কয়েক দফা সংবাদ সম্মেলন আর মানবন্ধনের মতো দুই-একটি কর্মসূচির মধ্যেই আবদ্ধ জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ অবস্থায় দল ও জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরাম নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ।

ফ্রন্ট সংশ্লিষ্টরা জানান, এতে আরও এক দফা ধাক্কা খায় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। পাশাপাশি এই জোট নিয়ে পথ চলা যাবে কিনা, এ নিয়ে বিএনপির মধ্যেও আছে নানা মত। বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোটের শরিকদেরও আপত্তি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টকে নিয়ে পথ চলায়। পেশাগত কারণে মাঝখানে ফ্রন্টের শীর্ষ নেতা ড. কামাল হোসেনও দেশের বাইরে ছিলেন। এ অবস্থায় জোটের কর্মকাণ্ড প্রায় মুখথুবড়ে পড়ে। জোটগতভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের অস্তিত্ব আছে কি নেই, এ নিয়েও দেখা দেয় নানা প্রশ্ন।

সূত্র জানায়, সর্বশেষ গত ১১ মার্চ জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে পুনঃনির্বাচনের দাবি আদায়ে জেলা ও বিভাগীয় শহরে সভা-সমাবেশের কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেয়া হয়। কিন্তু কার্যত তা আর বাস্তবায়িত হয়নি। কেন হয়নি- এর জবাবও দেননি জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। দল এবং জোটের সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলে, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য স্পিকার এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে চিঠি দেয়ার কথা জানান জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতারা। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই চিঠি পৌঁছায়নি স্পিকার এবং সিইসির কার্যালয়ে। মূলত নিজেদের মধ্যে হতাশা, দ্বিধাদ্বন্দ্বের কারণেই থমকে আছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পথ চলা বলে জানা গেছে। এ কারণে কর্মসূচি দিয়েও শেষ পর্যন্ত তা পালন না করে পিছু হটেছে তারা। ঘোষণা দিয়েও এখন পর্যন্ত সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহম্মেদের বিষয়ে করণীয় ঠিক করতে পারেননি জাতীয় এক্যফ্রন্টের শীর্ষ নেতারা। হতাশার কারণে নিজেরা বৈঠকেও বসছেন না।

সূত্র জানায়, এ পরিস্থিতিতে নতুন করে পথ চলার নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। আজকের বৈঠকে কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার পাশাপাশি আগামী দিনের লক্ষ্যও ঠিক করবেন জোটের নেতারা।

এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও গণফোরামের নির্বাহী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, গত ১১ মার্চ অনুষ্ঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে জেলা ও বিভাগীয় শহরে গণসংযোগ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয়। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনার জন্য বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘ঐক্যফ্রন্টের দলগুলোকে আরও সুসংহত করার বিষয়ে আমরা ঐকমত্য হয়েছি। গণতন্ত্র ও জনগণের স্বার্থে ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই।’

জানতে চাইলে এ প্রসঙ্গে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে বলেন, ‘জেলা ও বিভাগীয় শহরে গণসংযোগ কর্মসূচি চূড়ান্ত করা, দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও নতুন নির্বাচন আদায়ের কর্মসূচি ঠিক করতে আমরা বৈঠকে বসব।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বিএনপি, গণফোরাম, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি, কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ এবং নাগরিক ঐক্য মিলে গঠিত হয় জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন হন এই জোটের শীর্ষ নেতা। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন জোটের বিপরীতে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচনে অংশ নিয়ে মাত্র আটটি আসন পায়।

এর মধ্যে বিএনপি ছয়টি এবং গণফোরাম দুটি আসনে জয়ী হয়। নির্বাচনে তাদের এই ভরাডুবির পেছনে ব্যাপক কারচুপি ও অনিয়মের অভিযোগ আনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। তারা এই নির্বাচন প্রত্যাখ্যান করার পাশাপাশি পুনঃভোটের দাবিতে আন্দোলনে নামার ঘোষণা দেয়।

কিন্তু গত আড়াই মাসেরও বেশি সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে কার্যত কোনো আন্দোলন গড়ে তুলতে পারেনি জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

ঘটনাপ্রবাহ : বৃহত্তর জাতীয় ঐক্য

আরও
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×