বাঘাইছড়িতে হামলা নিয়ে সিইসি

এক-দেড় মিনিটের এ হামলা ছিল পরিকল্পিত

নিহত প্রতি পরিবার পাবে সাড়ে ৫ লাখ টাকা * তদন্ত কমিটির ঘটনাস্থল পরিদর্শন

  যুগান্তর রিপোর্ট ও রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি ২২ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

এক-দেড় মিনিটের এ হামলা ছিল পরিকল্পিত

দ্বিতীয় দফা উপজেলা নির্বাচনের দিন বাঘাইছড়িতে এক থেকে দেড় মিনিটের হামলায় কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি- বলেছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা।

নিহতদের পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে দেয়ার ঘোষণা দিয়ে সিইসি বলেন, নৃশংস এ হামলার তদন্ত চলছে, আমরা সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছি। তদন্তের পরই বলা যাবে- এর পেছনে কাদের হাত রয়েছে।

এদিকে খুনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি বৃহস্পতিবার ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেছেন। তারা জেলা সদর হয়ে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থলে যান এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। পরে তদন্ত কমিটি প্রধান দীপক চক্রবর্তী বলেছেন, ঘটনা একেবারেই পরিকল্পিত। আগে থেকেই হয়তো তারা ভারি অস্ত্র নিয়ে ওঁৎ পেতে ছিল।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসি রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির নৃশংসতার বিস্তারিত অবহিত করেন। গত ১৮ মার্চের ঐ হামলায় নির্বাচনের সঙ্গে জড়িত ৭ জন নিহত ও অপর ১৪ জন আহত হন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে সিইসি বলেন, সেখানে (পার্বত্য অঞ্চলে) অনেক গ্রুপ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে। তারা ভোট বর্জনও করেছে। তাদের কেউ এই হামলা করতে পারে বলে ধারণা করছি। তবে কাউকে চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি। সিইসি বলেন, ওই ঘটনায় নির্বাচন কমিশন মর্মাহত ও বর্বরোচিত এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। সিইসি আহতদের চিকিৎসায় সব দায়িত্ব গ্রহণসহ আহতের ধরন অনুযায়ী অনুদানের ঘোষণা দেন। তিনি হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সম্ভব হলে নির্বাচন কমিশনে চাকরি দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। সিইসি বলেন, খুনিদের গ্রেফতারে সাঁড়াশি অভিযান চলছে। বিভাগীয় কমিশনারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সার্বিকভাবে যোগাযোগ রাখছে। ওই এলাকায় কমিশনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা যথেষ্ট ছিল কিনা- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। তবে যে চোরাগোপ্তা হামলা ঘটেছে, এতবড় দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের কোথায় কখন এ জাতীয় চোরাগোপ্তা হামলা ঘটে সে বিষয়টি হিসাবের মধ্যে থাকে না।

আন্দাজ করাও সম্ভব নয়। সিইসি বলেন, এক থেকে দেড় মিনিটের মধ্যে হামলাটি হয়েছে। বিজিবির যে নিরাপত্তা বহর ছিল, তাদের পক্ষে ওই সময়ের মধ্যে পাল্টা আক্রমণ করা সম্ভব নয়। তবে দায়িত্ব পালনে গাফিলতি ছিল বলে মনে করি না। ঘটনার পরপরই তারা তল্লাশি করেছে।

নূরুল হুদা বলেন, ভোট বর্জনের পর কমিশনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থার কারণে তারা নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। ভোট বর্জনের রীতি তো নতুন নয়। আগেও বর্জন হয়েছে। বর্জনের পর এ ঘটনা ঘটবে তা বলা যায় না। এ সময় কমিশনের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ ও যুগ্ম সচিব (গণসংযোগ) এসএম আসাদুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পরদিন ১৯ মার্চ ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেন।

স্থানীয় সরকার বিভাগের চট্টগ্রামের পরিচালক দীপক চক্রবর্তীর নেতৃত্বে কমিটির সদস্য সচিব করা হয়েছে রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নজরুল ইসলামকে।

অপর সদস্যরা হলেন চট্টগ্রাম অঞ্চলের অতিরিক্ত ডিআইজি ফয়েজ আহমেদ, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের সদস্য (যুগ্ম সচিব) আশীষ কুমার বড়ুয়া, চট্টগ্রাম ৩০ আনসার ব্যাটালিয়নের পরিচালক ও অধিনায়ক মো. নুরুল আমিন, বিজিবি রাঙ্গামাটি সেক্টরের বাঘাইহাট জোনের মেজর আশরাফ ও রাঙ্গামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ছাদেক আহমদ। কমিটিকে ১০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

বাঘাইছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমএ মঞ্জুর বৃহস্পতিবার বলেছেন, মামলার তদন্ত শুরু হয়েছে। আসামি ধরতে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে তল্লাশি চালানো হচ্ছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×