বিডিআর বিদ্রোহ মামলা: আদালতের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ

আদালতের ‘ডক’ থেকে ৩০ মোবাইল উদ্ধার নিয়ে চাঞ্চল্য

  হাসিব বিন শহিদ ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিডিআর বিদ্রোহ মামলা: আদালতের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ
বিডিআর বিদ্রোহ মামলা: আদালতের নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ। ছবি: সংগৃহীত

আলোচিত বিডিআর বিদ্রোহ মামলার হাজিরার দিন আদালতের ‘ডক’ (আসামির নির্ধারিত স্থান) থেকে ৩০টি মোবাইল উদ্ধার করা হয়েছে। পুরান ঢাকার আলিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন অস্থায়ী ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের এ ঘটনা নিয়ে আদালতপাড়া ও গোয়েন্দা সংস্থার মধ্যে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে আদালতের নিরাপত্তা নিয়ে। ৪ মার্চ বিডিআর বিদ্রোহ মামলার (বিস্ফোরক) ধার্য দিনে আদালতের কার্যক্রম শুরুর আগে এক পরিচ্ছন্নকর্মীর নজরে আসে লুকিয়ে রাখা এসব মোবাইল। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ ঘটনা কারা কর্তৃপক্ষের দায়িত্বে অবহেলা ছাড়াও আদালতের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেও চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

জানতে চাইলে রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ কৌঁসুলি মোশাররফ হোসেন কাজল যুগান্তরকে বলেন, জেলকোডে কোনো অবস্থাতেই কারাগারে থাকা অবস্থায় আসামিদের মোবাইল ব্যবহারের সুযোগ নেই। ‘ডক’ থেকে মোবাইল উদ্ধারের ঘটনা দুঃখজনক। কথা হয় রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি তাপস কুমার পালের সঙ্গে। তিনি যুগান্তরকে বলেন, জেল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে পারে না। এ ঘটনা আদালতের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলেছে। আদালতের নিরাপত্তা অক্ষুণœ রাখা সংশ্লিষ্ট সবার দায়িত্ব।

আসামিপক্ষের আইনজীবী ফারুক আহম্মদ যুগান্তরকে বলেন, কারাগার বা আদালত প্রাঙ্গণে অনুমতি ছাড়া আসামিদের মোবাইলে কথা বলার সুযোগ নেই। বিডিআর বিদ্রোহ মামলায় আসামিদের ডক থেকে মোবাইলগুলো উদ্ধারের ঘটনায় কর্তৃপক্ষের দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।

সূত্র জানায়, বিডিআর বিদ্রোহের বিস্ফোরক মামলার তারিখ ছিল ৪ মার্চ। ওই দিন পরিচ্ছন্নকর্মী আদালত শুরুর আগে কক্ষটি পরিষ্কার করছিল। আসামির সংখ্যা বেশি হওয়ায় আদালতের এ ডকগুলো বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামিদের জন্যই তৈরি করা হয়। ঝাড়ু দিতে গিয়ে ডকসংলগ্ন একটি পানির ফিল্টারে ধাক্কা লাগলে জারটি নিচে পড়ে যায়। পরে পরিচ্ছন্নকর্মী ফিল্টারের ওপর জারটি রাখতে গেলে ফিল্টারের নিচে পলিথিনে মোড়ানো ৩০টি মোবাইল সেট দেখতে পান। পরে তিনি এগুলো উদ্ধার করে কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন। এ নিয়ে তোলপাড় শুরু হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আসামিদের কথা বলার সুযোগ করে দিতেই আদালতের লোকরাই অর্থের বিনিময়ে এসব মোবাইল ফোন সেখানে রাখতে পারেন। কারাগারের ভেতরে- বাইরে মোবাইল ফোনে আসামিদের কথা বলা নিয়ে অনেক অভিযোগ রয়েছে। সূত্রটি বলছে, মোবাইলগুলো বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামিদের জন্যই রাখা ছিল এতে কোনো সন্দেহ নেই। ওই ডকগুলো বিডিআর বিদ্রোহ মামলার আসামিদের জন্যই বিশেষভাবে তৈরি করা।

দুই মামলার সর্বশেষ অবস্থা : ২০০৯ সালের ২৫ ও ২৬ ফেব্রুয়ারি বিডিআর (বর্তমানে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি) বিদ্রোহের ঘটনায় ২৮ ফেব্রুয়ারি লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা হয়। পরে মামলা দুটি নিউমার্কেট থানায় স্থানান্তর করা হয়। ২০১০ সালে অপরাধ ও তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাহার আকন্দ আদালতে দুটি মামলার অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১১ সালে বিচার শুরু হয়। হত্যা মামলার বিচার চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলেও বিস্ফোরক আইনের মামলাটি এখনও বিচারাধীন।

২০১৩ সালের ৫ নভেম্বর হত্যা মামলায় তৎকালীন ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ ড. মো. আখতারুজ্জামান রায়ে ১৫২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ১৬০ জনের যাবজ্জীবন ও ২৫৬ জনকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেন। ২৭৮ জন খালাস পান। পরে হাইকোর্ট হত্যা মামলায় ১৩৯ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন। মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির রায়ে ১৮৫ জনকে হাইকোর্ট যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। ৩ থেকে ১০ বছরের সাজা হয় ২২৮ জনের। ২০১৭ সালের ২৭ নভেম্বর বিচারপতি মো. শওকত হোসেনের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বৃহত্তর বেঞ্চ সর্বসম্মতিক্রমে এ রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল জাহিদ সারোয়ার কাজল যুগান্তরকে জানান, বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি শওকত হোসেন তার অংশের ১ হাজার ৪১২ পৃষ্ঠার রায় লেখা শেষ করে কনিষ্ঠ বিচারপতির কাছে দিয়েছেন। অবশিষ্ট রায় লেখা শেষে প্রকাশ করা হবে। অপরদিকে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনের মামলাটি এখনও সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে। এ মামলায় আসামি ৮১০ জন। এর মধ্যে ২০ জন পলাতক ও ৭৯০ জন কারাগারে। ১ হাজার ৩৪৫ সাক্ষীর মধ্যে ৮২ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়েছে। ৩১ মার্চ এ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য দিন ধার্য রয়েছে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×