২৯ বছর পর চাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ: আগে কমিটি চায় ছাত্রলীগ ছাত্রদলের দাবি সহাবস্থান

  আবু বকর রাহাত, চবি ২৩ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

২৯ বছর পর চাকসু নির্বাচনের উদ্যোগ: আগে কমিটি চায় ছাত্রলীগ ছাত্রদলের দাবি সহাবস্থান
চাকসু ভবন। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ২৯ বছর পর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু) নির্বাচনে সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এ লক্ষ্যে নীতিমালা পর্যালোচনা কমিটি গঠন করা হয়েছে। এর সদস্যরা জানিয়েছেন, রোববার কাজ শুরু করবেন তারা।

দীর্ঘদিন পর এ নির্বাচনের উদ্যোগে ক্যাম্পাসে ক্রিয়াশীল ছাত্র সংগঠনগুলোর নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়েছে। তবে ছাত্রলীগ বলছে ভিন্ন কথা। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা কমিটি গঠনের আগে নির্বাচন চায় না দলটি। আর ছাত্রদল বলছে, ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো হলে সে নির্বাচন না দেয়াই ভালো। তারা আগে ক্যাম্পাসে সহাবস্থান ও সব ক্ষেত্রে সমান সুযোগ সৃষ্টির তাগিদ দিয়েছে।

জানতে চাইলে ভিসি প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছি চাকসু নির্বাচন দেব। এর আগে চাকসুর যে নীতিমালা রয়েছে সেটি সংশোধন ও যুগোপযোগী করব। ডাকসুর (ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ) নীতিমালা সংগ্রহ করব। নীতিমালা সংশোধনের জন্য পাঁচ সদস্যের কমিটি করা হয়েছে।’ এ কমিটির সদস্য সহকারী প্রক্টর লিটন মিত্র শুক্রবার যুগান্তরকে বলেন, আমরা রোববার কাজ শুরু করব।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের নেতা ইকবাল হোসেন টিপু বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের গ্রুপগুলোর মধ্যে প্রকাশ্য-অপ্রকাশ্য কোন্দল রয়েছে। নির্বাচনে যাতে কোনো সংঘাত বা দুর্ঘটনা না ঘটে সে জন্য আগে ছাত্রলীগের কমিটি দরকার। কারণ ঐক্যবদ্ধ ছাত্রলীগকে কোনো ষড়যন্ত্র আটকাতে পারেনি, পারবে না।’ আরেক নেতা আমির সোহেল বলেন, ছাত্রলীগ এখন ১৬ ভাগে বিভক্ত। কমিটি না হলে ভালো ফল আসবে না।

ছাত্রলীগ কর্মী সাইদুল ইসলাম সাইদ, সাইকুল ইসলাম ও তানভীর তপু বলেন, ক্যাম্পাসে ৭ বছর ধরে আমরা রাজনীতি করছি। এ ক্যাম্পাসকে শিবিরমুক্ত করেছি। এখন যাতে প্রতিক্রিয়াশীলরা নির্বাচনের দোহাই দিয়ে আবারও ক্যাম্পাসে ঢুকতে না পারে সে জন্য এবং কোন্দল নিরসনে ছাত্রলীগের কমিটি দরকার।

কয়েক দফা সংঘাতের পর দুই বছর আগে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করে দেয়া হয়। সর্বশেষ কমিটির সভাপতি ছিলেন আলমগীর টিপু, সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন। সুজন বলেন, প্রশাসনের এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ২৯ বছর পর শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিনিধি নির্বাচনের সুযোগ পাবে।

বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বলেন, চাকসু নির্বাচনের নাম করে যদি ৩০ ডিসেম্বর স্টাইলে নির্বাচন করা হয় তাহলে ছাত্রদল তা মেনে নেবে না। আগে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। সহাবস্থান নিশ্চিত করতে হবে। চাকসু নির্বাচনের উদ্যোগের খবরে জমে উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা অঙ্গনও। ডাকসুর মতো আরেকটি নির্বাচন, নাকি সবার অংশগ্রহণে নির্বাচন, নাকি ক্যাম্পাসে আবারও প্রতিক্রিয়াশীলদের আধিপত্য আসছে- এ নিয়ে চলছে আলোচনা। হল ঝুপড়ি, রেল স্টেশন, চায়ের দোকান- সবখানেও এখন একই আলোচনা।

১৯৭০ সালে গঠিত হয়েছিল চাকসু। ১৯৯০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি সর্বশেষ নির্বাচন হয়। ওই বছরের ২২ ডিসেম্বর ছাত্রশিবিরের ক্যাডারদের হাতে নিহত হন ছাত্রসমাজ নেতা ফারুকুজ্জামান। তখন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন চাকসু কার্যক্রম বন্ধ করে দেয়। এরপর বিশ্ববিদ্যালয়ে সিন্ডিকেট নির্বাচন, ডিন নির্বাচন, শিক্ষক সমিতির নির্বাচন থেকে শুরু করে সব ধরনের নির্বাচন হলেও চাকসু নির্বাচন দেয়নি প্রশাসন।

চাকসুর প্রথম নির্বাচনে (১৯৭০) ভিপি নির্বাচিত হন শহীদ আবদুর রব ও জিএস হন মোহাম্মদ ইব্রাহিম। ১৯৭২ সালের নির্বাচনে ভিপি হন শামসুজ্জামান হীরা ও জিএস মাহমুদুর রহমান মান্না। ১৯৭৪ সালে তৃতীয় নির্বাচনে ভিপি হন এসএম ফজলুল হক ও জিএস হন গোলাম জিলানী চৌধুরী। ১৯৭৯ সালে ভিপি হন মাজহারুল শাহ চৌধুরী ও জিএস জমির চৌধুরী। পঞ্চম নির্বাচনে (১৯৮১) ভিপি হন জসিম উদ্দিন সরকার ও জিএস আবদুল গাফফার। সর্বশেষ ১৯৯০ সালের ভিপি নির্বাচিত হন নাজিম উদ্দিন ও জিএস হন আজিম উদ্দিন।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×