নিহতদের জাতীয়ভাবে স্মরণ করবে নিউজিল্যান্ড

  যুগান্তর ডেস্ক ২৫ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

নিহতদের জাতীয়ভাবে স্মরণ করবে নিউজিল্যান্ড
ছবি: এএফপি

ক্রাইস্টচার্চে নিহতদের জাতীয়ভাবে স্মরণ করবে নিউজিল্যান্ড। এ লক্ষ্যে জাতীয় স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে আগামী শুক্রবার। রোববার এ ঘোষণা দিয়েছে দেশটির সরকার।

দুই মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৫০ মুসল্লির মৃত্যুর ঘটনায় শুরু থেকেই মুসলিমদের সঙ্গে সংহতি জানিয়ে বর্ণবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হয়েছে দেশটির মানুষ। রোববারও ক্রাইস্টচার্চের রাস্তায় বর্ণবাদবিরোধী সমাবেশ ও পদযাত্রায় শামিল হন হাজার হাজার মানুষ। খবর এএফপি ও নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের।

গত ১৫ মার্চ ক্রাইস্টচার্চের দুটি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে ৫ বাংলাদেশিসহ ৫০ জন মুসল্লিকে হত্যা করে শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী ব্রেনটন টেরেন্ট। তার এ হামলা ছিল উদ্দেশ্যমূলক। সে মনে করত, মুসলিমরা পশ্চিমা দেশগুলোতে আগ্রাসন চালাচ্ছে। হামলার আগে অনলাইনে ১৬ হাজার ৫০০ শব্দের একটি ইশতেহারে নৃশংস এ হামলার পেছনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরে সে। সেখানে উঠে আসে মুসলিম বিদ্বেষ, অভিবাসী বিদ্বেষ ও শ্বেতাঙ্গ আধিপত্যবাদ প্রতিষ্ঠার মতো বিষয়গুলো। মুসলমানদের ওসমানীয় খিলাফত বা অটোমান সাম্রাজ্যের বিরুদ্ধে তৎকালীন ইউরোপীয় খ্রিস্টানদের বিজয়ের কথাও উল্লেখ করেছে সে।

নিউজিল্যান্ড সরকার তাকে ভয়ংকর শ্বেতাঙ্গ সন্ত্রাসী হিসেবে অভিহিত করে এবং তার হামলার শিকার মুসলিমদের সঙ্গে নানাভাবে সংহতি প্রকাশ করে। নিহতদের স্মরণে তাই ২৯ মার্চ স্থানীয় সময় সকাল ১০টায় অনুষ্ঠান আয়োজন করা হয়েছে ক্রাইস্টচার্চে।

প্রধানমন্ত্রী জাসিন্দা আরদার্ন এক বিবৃতিতে বলেছেন, সন্ত্রাসী হামলায় নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে ক্রাইস্টচার্চের অধিবাসীরা, নিউজিল্যান্ডের ও সারা বিশ্বের সব মানুষকে একত্রিত হওয়ার জন্য একটি সুযোগ জাতীয় স্মরণসভা।

ব্রেনটনের হামলার বিসয়ে জাসিন্দা বলেছেন, ‘অপ্রত্যাশিত সন্ত্রাসী হামলার পর থেকে পুরো দেশে বেদনা ও ভালোবাসায় ভরে গেছে। এ অবস্থায় স্মরণসভা আয়োজন করা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা আরেকবার দেখাতে চান, তারা সহানুভূতিশীল, সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে থাকতে চান, এখানকার সমাজ বৈচিত্র্যময়। আর আমরা সেই মূল্যবোধকে সুরক্ষিত রাখব। এই স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হবে ক্রাইস্টচার্চের সামনে হ্যাগলি পার্কে।’

এদিকে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে রোববার বিকালেও সমাবেশ ও পদযাত্রা করেছে নিউজিল্যান্ডের অধিবাসীরা। ক্রাইস্টচার্চ ও অকল্যান্ডের রাস্তায় সন্ত্রাসবাদ ও বর্ণবাদবিরোধী পদযাত্রায় শামিল হন হাজার হাজার মানুষ। অংশগ্রহণকারীরা বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চ হামলাকারীর উদ্দেশ্য ব্যর্থ হয়েছে- এমন বার্তা দিতেই তাদের এ পদযাত্রা।

এ সময় তারা মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ক্ষতিগ্রস্তদের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তুলে ধরেন সাম্য, মৈত্রী ও ভ্রাতৃত্বের কথা কৃষ্ণাঙ্গ অধিকার আন্দোলন ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে অবিসংবাদিত দুই নেতা মার্টিন লুথার কিং ও ম্যালকম এক্সের কথাও উল্লেখ করেন বক্তরা।

এদিন যৌথভাবে এ পদযাত্রার আয়োজন করে লাভ অটিয়ারোয়া (মাওরি ভাষায় নিউজিল্যান্ডের আদি নাম) এবং হেট রেসিজম নামের দুটি সংগঠন। অকল্যান্ডের অটিয়া স্কয়ার থেকে শুরু হয়ে শহর প্রদক্ষিণ করে ভিক্টোরিয়া পার্কে এসে জড়ো হন পদযাত্রায় অংশ নেয়া ব্যক্তিরা।

পরে তারা দুই মিনিট নীরবতা পালন করেন। নীরবতা পালনের আগে তার নিহত ৫০ জনের সবার নাম উচ্চারণ করেন। পদযাত্রায় অংশ নিয়েছেন রিটা মারা নামের এক নারী। তিনি বলেন, এই পদযাত্রা হচ্ছে আসলে একটি সম্মিলন।

তার ভাষায়, ‘বর্ণবাদকে সংজ্ঞায়িত করা কঠিন। আমাদের জন্মের আগে থেকেই এসব ঘটে আসছে; যা আজ মানুষে মানুষে পার্থক্য তৈরি করছে।’

অকল্যান্ড সমাবেশ ও পদযাত্রার প্রধান আয়োজক দানি উইলকিনসন বলেন, ‘ঘৃণা-বিদ্বেষে ক্ষমতার প্রকাশ দেখা যায়। আমরা ঘৃণার শক্তিকে সৎ ও ন্যায়ের পথে ব্যবহার করতে চাই। শান্তি, ভালোবাসা ও পরমত সহিষ্ণুতা প্রতিষ্ঠা করতে চাই। সেই সঙ্গে ফ্যাসিবাদ, বর্ণবাদ ও ভণ্ডামির মতো সব অন্যায় কর্মকাণ্ড প্রতিহত করতে চাই।’

ঘটনাপ্রবাহ : নিউজিল্যান্ডে মসজিদে এলোপাতাড়ি গুলি

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×