এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

সব ধরনের কোচিং ৫ সপ্তাহ বন্ধ থাকবে

অসদুপায় অবলম্বন বা সহায়তায় শিক্ষকের চাকরি ও বেতন কাটা যাবে * পরীক্ষার্থী সাড়ে ১৩ লাখ

  যুগান্তর রিপোর্ট ২৬ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

কোচিং সেন্টার বন্ধ
কোচিং সেন্টার বন্ধ। প্রতীকী ছবি

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার কারণে ৫ সপ্তাহ সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় এ পদক্ষেপ নিয়েছে। আগামী ১ এপ্রিল এ পরীক্ষা শুরু হবে।

সোমবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার ঘোষণা দেন শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি। এর আগে তিনি এই পরীক্ষা সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা কমিটির বৈঠকে মিলিত হন। এতে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, কারিগরি ও মাদ্রাসা বিভাগের সচিব মো. আলমগীর, অতিরিক্ত সচিব মো. জাকির হোসেন ভূঞা, ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মু. জিয়াউল হকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ও গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন সংস্থা, বিভাগের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ফেব্রুয়ারি মাসে অনুষ্ঠিত এসএসসি পরীক্ষার সময়ও এক মাস কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হয়েছিল।

সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ১ এপ্রিল সারা দেশে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা শুরু হবে। এতে ১৩ লাখ ৫১ হাজার ৩০৯ জন শিক্ষার্থী অংশ নেবে। এর মধ্যে ৮টি সাধারণ বোর্ডের অধীনে এইচএসসিতে পরীক্ষার্থী ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৫৫০ জন। এ ছাড়া মাদ্রাসা বোর্ডের অধীনে আলিমে ৭৮ হাজার ৪৫১ জন এবং কারিগরি বোর্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ২৬৫ পরীক্ষার্থী আছে।

তিনি জানান, এইচএসসিতে আট বোর্ডের মধ্যে ঢাকা বোর্ডে ৩ লাখ ৯৭ হাজার ৬২২ জন, রাজশাহী বোর্ডে ১ লাখ ৫০ হাজার ৯৫৪ জন, কুমিল্লা বোর্ডে ৯৫ হাজার ২০২, যশোর বোর্ডে ১ লাখ ২৮ হাজার ৮০৯ জন, চট্টগ্রাম বোর্ডে ৯৯ হাজার ৬৬৪ জন, বরিশাল বোর্ডে ৬৪ হাজার ৯১৯, সিলেট বোর্ডে ৭৬ হাজার ৬৯৮, দিনাজপুর বোর্ডে ১ লাখ ২৪ হাজার ৮৭৯ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেবে।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা উপলক্ষে ১ এপ্রিল থেকে ৬ মে পর্যন্ত সারা দেশে সব কোচিং সেন্টার বন্ধ থাকবে। দেশে নানা রকমের কোচিং সেন্টার রয়েছে। আইডিয়ালি (আদর্শগত ভাবে) শুধু যে পরীক্ষা হচ্ছে সে পরীক্ষার কোচিং বন্ধ থাকলে চলত। কিন্তু আমাদের এখানে একই জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন রকমের কোচিং হয়।

আমরা দেখেছি, নিষেধ করার পরও কিছু অসাধু ব্যক্তি নানাভাবে ওই নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে অসাধু উপায় অবলম্বন করে। কোচিং সেন্টার খোলা রাখার বিভিন্ন চেষ্টা চালিয়ে যায়। সে কারণে আমরা বাধ্য হয়েই সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখছি। তিনি বলেন, এইচএসসি পরীক্ষার সময় সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখা হলে অন্য স্তরের শিক্ষার্থীদের যে অসুবিধা হতে পারে সেটা আমরা জানি। যারা এইচএসসি পর্যায়ের নন, তাদের হয়তো সাময়িক অসুবিধা হবে। এ ব্যাপারে আমরা সম্পূর্ণ সচেতন। কিন্তু আরও ভালো ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারছি না বলেই বাধ্য হয়ে সব ধরনের কোচিং সেন্টার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এ ছাড়া প্রশ্নফাঁস ঠেকাতে মোবাইল ব্যাংকিং কঠোরভাবে নজরদারি করা হবে। বিশেষ করে কোনো মোবাইল নম্বরে একাধিকবার একই অঙ্কের অর্থ সন্দেহজনক লেনদেন হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট এজেন্টকে বিষয়টি থানায় জানাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

পরীক্ষার্থীদের আগের মতোই ৩০ মিনিট আগে অবশ্যই কেন্দ্রের আসন গ্রহণ করতে হবে। অনিবার্য কারণে কোনো পরীক্ষার্থী কেন্দ্রে পৌঁছাতে দেরি করলে রেজিস্টারে তার নাম, রোল নম্বর ও বিলম্বের কারণ উল্লেখ করতে হবে। এ ধরনের ঘটনা পরীক্ষার দিনই কেন্দ্র সচিব সংশ্লিষ্ট বোর্ডকে জানাবেন। কেন্দ্রে শুধু ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (কেন্দ্র সচিব) সাধারণ মানের একটি ফোন ব্যবহার করতে পারবেন। কেউ মোবাইল ফোন বা অননুমোদিত ইলেকট্রনিক্স যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না।

এ ছাড়া আগের বিভিন্ন পরীক্ষার মতো এবারও পরীক্ষা শুরুর মাত্র ২৫ মিনিট আগে কোন সেট প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা হবে, সেটা জানানো হবে। পরীক্ষার হলে প্রশ্নপত্র বণ্টনে যাতে কোনো অসুবিধা না হয়, সে জন্য নিয়মিত ও অনিয়মিত পরীক্ষার্থীদের আলাদা আলাদা কক্ষে আসন বিন্যাস করে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, পরীক্ষা চলাকালে এবং আগে-পরে পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কাজের সময় পরীক্ষা কেন্দ্রে পরীক্ষার্থী ও পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ছাড়া অন্যদের প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। বিজি প্রেস থেকে প্রশ্নপত্রের প্যাকেটে গতানুগতিক কাগজের খামের বদলে অধিকতর নিরাপত্তাবিশিষ্ট অ্যালুমিনিয়াম ফয়েল খাম ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম পর্যবেক্ষণে তদারক কমিটি গঠন করা হয়েছে। ভেন্যু বা কেন্দ্রের জন্য প্রশ্নপত্রের আলাদা প্যাকেট ও ট্রাঙ্ক তৈরি করা হয়েছে, যা ট্রেজারি থেকে সরাসরি ভেন্যুতে পাঠানো হবে।

জানা গেছে, এ পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কার করা হবে। আর এতে সহায়তার দায়ে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এর মধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের সাময়িক বহিষ্কার এবং বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের এমপিও (বেতনের সরকারি অংশ) বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা শিক্ষক কোনোভাবে পাবলিক পরীক্ষায় বেআইনি কাজ করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। প্রয়োজনে পরীক্ষা কেন্দ্র বাতিল করা হবে।

ঘটনাপ্রবাহ : এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯

আরও
আরও পড়ুন
  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×