সড়কে এক দিনেই প্রাণ গেল ২২ জনের

চট্টগ্রামে একই পরিবারের তিনজনসহ ৮ জন ও মাদারীপুরে ৮ জনের মৃত্যু * চার জেলায় মারা যান ৬ জন

  যুগান্তর ডেস্ক ২৯ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

সড়কে এক দিনেই প্রাণ গেল ২২ জনের

এ যেন সড়কে মৃত্যুর মিছিল। এক দিনেই প্রাণ গেল ২২ জনের। আহত হয়েছেন অন্তত ৮৩ জন। বুধবার গভীর রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত ছয় জেলায় এসব দুর্ঘটনা ঘটে।

এর মধ্যে চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে একই পরিবারের তিনজনসহ নিহত হন ৮ জন। পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার ধরন দেখে মনে হয়েছে, মাইক্রোবাসের চালক তন্দ্রাচ্ছন্ন ছিলেন। অন্যদিকে মাদারীপুরে ওরস মাহফিলের যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

একই জেলায় পৃথক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন আরও একজন। এছাড়া যশোরে ট্রাক-লেগুনা সংঘর্ষে ৩ জন এবং পটুয়াখালী, বগুড়া ও চরফ্যাশনে একজন করে মারা গেছেন। ব্যুরো ও প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

চট্টগ্রাম ও লোহাগাড়া : বুধবার রাত ১টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের জাঙ্গালিয়ায় কক্সবাজারমুখী রিলাক্স প্রিমিয়ামের একটি বিলাসবহুল বাসের সঙ্গে চট্টগ্রামমুখী মাইক্রোবাসের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

এতে মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই এক শিশু ও দুই নারীসহ আটজনের মৃত্যু হয়। আহত অবস্থায় ১১ জনকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। গভীর রাতে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের সঙ্গে স্থানীয়রা উদ্ধার অভিযানে অংশ নেন।

নিহতরা হলেন- কক্সবাজার সদরের পিএমখালীর ছনখোলা নয়াপাড়ার মো. জিসানের স্ত্রী তসলিমা আক্তার (২০), তার শিশুমেয়ে সাদিয়া (২) ও তসলিমা আক্তারের মা হাসিনা মমতাজ (৪৫), লোহাগাড়া উপজেলার বড়হাতিয়ার লস্করপাড়ার হজেরা বেগম (২৬), চুনতি খলিফার পাড়ার আবু তাহের (২২), চকরিয়ার খুটাখালীর উত্তর মেধাকচ্ছপিয়ার বান্ডু মিয়ার ছেলে মাইক্রোবাসের চালক মো. নুরুল হুদা (২৫), লোহাগাড়ার সিকদারপাড়ার মো. সিরাজুল ইসলামের ছেলে আফজাল হোসেন সোহেল (৩০) ও বাঁশখালীর শেখেরখীলের মো. সিদ্দিকের ছেলে মো. সায়েম (২২)। নিহত সবাই মাইক্রোবাসের যাত্রী। তবে আহতদের মধ্যে মাইক্রোবাসের যাত্রী ছাড়াও বাসের কয়েকজন যাত্রীও রয়েছেন। নিহতদের মরদেহ চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।

ফায়ার সার্ভিস ও হাইওয়ে পুলিশ জানিয়েছে, দুর্ঘটনার জন্য মাইক্রোবাসটির চালকই দায়ী। কুমিল্লা হাইওয়ে পুলিশের এসপি নজরুল ইসলাম বলেছেন, প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা ও দুর্ঘটনার ধরন দেখে মনে হচ্ছে, মাইক্রোবাসের চালক কিছুটা ঘুম ঘুম ভাব অথবা নেশাগ্রস্ত ছিলেন। তাছাড়া সেখানে রাস্তা কিছুটা ঢালু ছিল।

দুর্ঘটনাকবলিত মাইক্রোবাসটি কক্সবাজার থেকে রওনা দেয়ার পর সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে যাত্রী ওঠায়। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহসড়কে এ ধরনের বেশকিছু মাইক্রোবাস নিয়মিত চলাচল করছে। বাসের চেয়ে ভাড়া তুলনামূলক কম হওয়ায় অল্প দূরত্বের যাত্রীরা মাইক্রোবাসে যাতায়াত করে থাকেন।

সাতকানিয়া ফায়ার স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার মো. ইদ্রিস যুগান্তরকে বলেন, দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়। বাসটি রাস্তার পাশে ধানক্ষেতে পড়ে গেছে। মাইক্রোবাসের ভেতরে অনেকের দেহ ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনাকবলিত বাসটির চালক ও হেলপার পালিয়ে গেছে।

টেকেরহাট (মাদারীপুর) : পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ফরিদপুরের চন্দ্রপাড়া ওরস মাহফিল শেষে বৃহস্পতিবার সকালে সুবিন-নবীন নামের একটি লোকাল বাসে বাড়ি ফিরছিলেন মুসল্লিরা। ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের মাদারীপুর সদর উপজেলার কলাবাড়ি পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাককে সাইড দিতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের খাদে পড়ে যায় বাসটি। এতে ঘটনাস্থলেই ৪ জনের মৃত্যু হয়। পরে হাসপাতালে নেয়ার পর আরও ৩ জন মারা যান। দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ যাত্রী।

নিহতরা হলেন- হাবি হাওলাদার (৫০), আব্বাস খান (৩২), হাসিয়া বেগম (৫৫), হাসান (১৪), আক্কাস (৪০), নয়ন (২৭), সায়েম (২৫)। এদের সবার বাড়ি মাদারীপুর জেলার কালকিনি উপজেলার বালিগ্রাম ইউনিয়নের ভাঙাব্রিজ, পান্তাপাড়া, খৈয়রভাঙা ও আটিপাড়ায়।

খবর পেয়ে মাদারীপুর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়। তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনার পর ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দুই পাশে প্রায় শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। তিন ঘণ্টা ধরে যান চলাচল বন্ধ থাকে। ফলে সাধারণ যাত্রীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হন।

মাদারীপুর সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক অখিল সরকার বলেন, আমরা আহতদের যথাসাধ্য চিকিৎসা দিয়ে যাচ্ছি। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

এদিকে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের রাজৈর উপজেলার আমগ্রাম বাবনাতলায় বেলা ১২টার দিকে ট্রাকের চাপায় মেটরসাইকেল আরোহী নাঈম বেপারি (২৫) মারা যান। নাঈম মাদারীপুর শহরের বাগেরপাড়ের ইব্রাহিম বেপারির ছেলে এবং মাদারীপুর বিকাশের এসআর ছিলেন।

যশোর : ট্রাকচাপায় লেগুনার তিন যাত্রী নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়ায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহতরা হলেন- যশোরের মনিরামপুর উপজেলার গাবখালি গ্রামের সুভাষ বৈরাগীর ছেলে সুব্রত বৈরাগী (২৫), একই উপজেলার কুয়াদা গ্রামের ঋষিকান্ত দাসের স্ত্রী শিউলী দাস (২৬) ও অজ্ঞাতপরিচয় যুবক (৩০)। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রূপাদিয়া থেকে যশোরে আসছিল লেগুনাটি। যশোর-খুলনা মহাসড়কের চাউলিয়ায় পৌঁছলে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাক চাপা দেয়। এতে লেগুনার যাত্রীরা আহত হন। হাসপাতালে নেয়ার পর তিনজনকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সালাউদ্দিন শিকদার বলেন, ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক।

মীর্জাগঞ্জ (পটুয়াখালী) : দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১ জন নিহত, এক পুলিশ সদস্যসহ ৩ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার বরগুনা-বাকেরগঞ্জ মহাসড়কের মীর্জাগঞ্জ উপজেলার রানীপুরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত হন একটি মোটরসাইকেলের চালক ডিস ব্যবসায়ী আবদুল লতিফ খান। আহত অপর মোটরসাইকেলের চালক পুলিশ কনস্টেবল নেওয়াজসহ অন্যদের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

চরফ্যাশন (দক্ষিণ) : বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৪টায় চরফ্যাশন থেকে মোটরসাইকেলে বেতুয়া সড়ক দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন উপজেলার চরমাদ্রাজ গ্রামের জুয়েল (২৪)। টাউন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে তার মোটরসাইকেল উল্টে গেলে পেছন থেকে আরেকটি মোটরসাইকেল তাকে ধাক্কা দেয়। এতে তার মৃত্যু হয়।

বগুড়া : ধুনটে বন্ধুর বিয়ের দাওয়াত খেতে এসে সড়ক দুর্ঘটনায় আহসান হাবিব (২৬) নামে এক পুলিশ কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। বুধবার রাত দেড়টার দিকে ধুনট উপজেলার গোসাইবাড়ি ফকিরপাড়া এলাকায় মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে উল্টে গেলে তার মৃত্যু হয়।

দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) : ট্রাকবোঝাই সারসহ ট্রাকটি খাদে পড়ে তিনজন আহত হয়েছেন। বুধবার সন্ধ্যায় দোয়ারাবাজার-বগুলাবাজার সড়কের শরিফপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশে এ ঘটনা ঘটে।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×