আবারও বাকশালের তোড়জোড়: মির্জা ফখরুল

  যুগান্তর রিপোর্ট ৩০ মার্চ ২০১৯, ০০:০০ | প্রিন্ট সংস্করণ

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ফাইল ছবি

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী করতে আবারও বাকশাল কায়েমের তোড়জোড় করছে সরকার। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, অনেক পানি গড়িয়ে গেছে, ১৯৭৫ সাল আর ২০১৯ সাল এক নয়। সুতরাং একদলীয় শাসনের যে স্বপ্ন আপনারা দেখছেন, রাজত্ব চিরস্থায়ী করবেন, এ দেশের জনগণ কোনোদিনই এ অবস্থা মেনে নেবে না।

রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে শুক্রবার এক প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ‘মাদার অব ডেমোক্রেসি দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী মুক্তিযোদ্ধা দল।

বাকশালের প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সমালোচনা করেন বিএনপির মহাসচিব। তিনি বলেন, গত কয়েকদিন ধরে এ বিষয়টি আমাদের ভীষণভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের কারণে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ হয়েছিল এই দেশে। ’৭২-৭৫ সালে তারা যখন ব্যর্থ হয়েছিল রাষ্ট্র পরিচালনা করতে, তখন বিরোধীদের নিয়ন্ত্রণ করে প্রথমে বিশেষ ক্ষমতা আইন, জরুরি অবস্থা করে। তারপরও যখন নিয়ন্ত্রণ করতে পারেনি তখন তারা একদলীয় বাকশাল করে। সেই বাকশালের পেছনে কোনো মহৎ উদ্দেশ্য ছিল না। বাকশালের পেছনে উদ্দেশ্য ছিল ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার, ক্ষমতাকে ধরে রাখার।

তিনি বলেন, আজ বলা হচ্ছে, বাকশাল নাকি ভালো উদ্যোগ ছিল। তারা সব বিষয় পেছনে রাখার জন্য, সব দুর্নীতি, কুকর্ম-অপকর্ম আড়াল করার জন্য আবার একদলীয় শাসনের আওয়াজ তুলতে শুরু করেছে।

বর্তমান সরকার ‘পুতুল’ সরকারের ভূমিকা পালন করছে অভিযোগ করে মির্জা ফখরুল বলেন, এ সরকার জনগণের সরকার নয়। এরা নির্বাচিত সরকার নয়। এ সরকার শুধু তাদের প্রভুদের হুকুম তামিল করার জন্য একের পর এক নির্বাচনের প্রহসন করে ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়।

এ অবস্থা থেকে উত্তরণে নবীনদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আজ প্রবীণ-বৃদ্ধ-বয়স্ক। আমাদের সবার বয়স প্রায় ৭০ পার হয়ে গেছে। আমাদের দায়িত্ব, যুবক-তরুণদের মধ্যে দেশপ্রেম ছড়িয়ে দেয়া। এ জন্য আমাদের পথে পথে যেতে হবে। প্রান্তরে যেতে হবে, গ্রামে যেতে হবে।

ফখরুল বলেন, কিছু নেই এ দেশে। এখন সম্পূর্ণভাবে মিথ্যার ওপরে, প্রতারণার ওপরে, রাষ্ট্রের সব স্তম্ভকে ভেঙে দিয়ে সরকার তার ওপরে রাজত্ব করছে। বিচার বিভাগ শেষ করে ফেলেছে, আইন বলতে কিছু নেই। রাজনৈতিক দল হিসেবে এই রাষ্ট্র আওয়ামী লীগের পরিচালনার কথা। কিন্তু আওয়ামী লীগ কি এই রাষ্ট্র পরিচালনা করছে? তারা করছে না।

তিনি বলেন, নির্বাচন দেখেছেন, কারা করেছে, কি করেছে, আমরা সবাই জানি। আজ প্রশাসন দিয়ে এই রাষ্ট্র পরিচালনা করা হচ্ছে। তারা সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়াচ্ছে। সেনাবাহিনীর বেতন বাড়ছে, পুলিশের বেতন বাড়ছে, র‌্যাবের বেতন বাড়ছে। সিভিল প্রশাসনে যারা আছেন তাদের বেতন বাড়ছে। কিন্তু জনগণের কোনো আয় বাড়ছে না। উপরন্তু ট্যাক্স নেয়া হচ্ছে বেশি করে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানি, জ্বালানি তেল সবকিছুর দাম প্রতিবছর বাড়ানো হচ্ছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার টিকে আছে মানুষের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন করে। টিকে আছে মানুষের পকেট খালি করে তাদের পকেট ভর্তি করার জন্য। মেগা প্রজেক্টের অর্থ কোত্থেকে আসছে? জনগণের পকেট থেকে। বিদ্যুতের প্রকল্পগুলো করা হয়েছে সম্পূর্ণ বেআইনিভাবে। দুর্নীতি করার জন্য সেখানে দায়মুক্তি আইন করেছে যে, সেখানে তাদের বিচার হবে না।

কারাবন্দি অসুস্থ খালেদা জিয়াকে ‘বেআইনি ও অন্যায়ভাবে’ আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তার মুক্তির জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব।

তিনি বলেন, পাকিস্তানে নওয়াজ শরীফ কনভিক্টেড, তিনি জামিনে আছেন। আওয়ামী লীগের যারা কনভিক্টেড তারাও জামিনে। নাজমুল হুদা একসময় আমাদের সঙ্গে ছিলেন, ১৪ বছর সাজা হয় তার, পাঁচ দিন পর বের হয়েছেন। সেখানে এক বছরের ওপরে দেশনেত্রীকে বেআইনিভাবে আটক রাখা হয়েছে। এর আগে একবার হাসপাতালে নিয়ে এসে কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এরপর সাড়ে তিন মাস কোনো স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়নি।

সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আহমেদ খানের সভাপতিত্বে সভায় আরও বক্তব্য দেন কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আবদুস সালাম, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আবেদীন, মুক্তিযোদ্ধা দলের শাহ আবু জাফর, আজিজুল হক লেবু কাজী, আবদুল হালিম মিয়া, মকসুদ আলী মঙ্গোলিয়া, খন্দকার সাজেদুর রহমান বাবুল প্রমুখ।

  • সর্বশেষ
  • সর্বাধিক পঠিত
সব খবর

ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সাইফুল আলম, প্রকাশক : সালমা ইসলাম

প্রকাশক কর্তৃক ক-২৪৪ প্রগতি সরণি, কুড়িল (বিশ্বরোড), বারিধারা, ঢাকা-১২২৯ থেকে প্রকাশিত এবং যমুনা প্রিন্টিং এন্ড পাবলিশিং লিঃ থেকে মুদ্রিত।

পিএবিএক্স : ৯৮২৪০৫৪-৬১, রিপোর্টিং : ৯৮২৪০৭৩, বিজ্ঞাপন : ৯৮২৪০৬২, ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৩, সার্কুলেশন : ৯৮২৪০৭২। ফ্যাক্স : ৯৮২৪০৬৬ 

E-mail: [email protected]

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত ২০০০-২০১৯

converter
×